বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন কোচদের জাদু চলছেই

২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। তার পর কেটে গেছে ২৪টি বছর। হলুদ শিবিরে কার্লোস দুঙ্গা কিংবা সবশেষ তিতের মতো হাইপ্রোফাইল কোচ এলেও সোনালী ট্রফি অধরাই থেকে গেছে। তাই এবারই প্রথম বিদেশি কোচের ওপর ভরসা রেখেছে সেলেসাওরা। জানলে অবাক হবেন, ব্রাজিলের ডাগ আউটে যেমন স্বদেশী কোচ নেই। ঠিক তেমনি বিশ্বকাপ ফুটবলের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ডাগআউটে নেই কোনও ব্রাজিলিয়ান ট্যাকটিশিয়ান।  অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ কোচ রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দেশ আর্জেন্টিনার। শুধু তাই নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই একের পর এক চমকপ্রদ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে দাপট দেখাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচেরা। একদিন আগেও ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। দল যদি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নিজেই পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে যায় সব হিসাব। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করে ইকুয়েডর, আর সেই সঙ্গে স্বস্তি ফিরে পান বেকাসেসও। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল ইকুয়েডরের জন্য টিকে থা

বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন কোচদের জাদু চলছেই

২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। তার পর কেটে গেছে ২৪টি বছর। হলুদ শিবিরে কার্লোস দুঙ্গা কিংবা সবশেষ তিতের মতো হাইপ্রোফাইল কোচ এলেও সোনালী ট্রফি অধরাই থেকে গেছে। তাই এবারই প্রথম বিদেশি কোচের ওপর ভরসা রেখেছে সেলেসাওরা। জানলে অবাক হবেন, ব্রাজিলের ডাগ আউটে যেমন স্বদেশী কোচ নেই। ঠিক তেমনি বিশ্বকাপ ফুটবলের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ডাগআউটে নেই কোনও ব্রাজিলিয়ান ট্যাকটিশিয়ান। 

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ কোচ রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দেশ আর্জেন্টিনার। শুধু তাই নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই একের পর এক চমকপ্রদ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে দাপট দেখাচ্ছেন আর্জেন্টাইন কোচেরা। একদিন আগেও ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল ধোঁয়াশা। দল যদি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নিজেই পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বদলে যায় সব হিসাব। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করে ইকুয়েডর, আর সেই সঙ্গে স্বস্তি ফিরে পান বেকাসেসও।

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল ইকুয়েডরের জন্য টিকে থাকার লড়াই। শক্তিশালী জার্মানিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ায় অনেকেই দলটির সম্ভাবনা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে মাঠে ভিন্ন গল্প লিখে ইকুয়েডর। দ্বিতীয়ার্ধে গঞ্জালো প্লাতার জয়সূচক গোলে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এই জয়ের সুবাদে ‘ই’ গ্রুপের অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় তারা।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বেকাসেস। গ্যালারিতে ছুটে গিয়ে স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন এবং কপালে চুমু খান। পরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠজুড়ে উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন তিনি। এই জয় শুধু ইকুয়েডরের নকআউট নিশ্চিত করেনি, কোচ হিসেবে তার অবস্থানও আরও দৃঢ় করেছে।

জার্মানির মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর আনন্দে ভাসছে পুরো ইকুয়েডর। দেশের মানুষের উদ্‌যাপনকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে সরকার একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে বিশ্বকাপে দলের এই সাফল্য জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন কোচদের সাফল্যও বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন দেশের দায়িত্বে থাকা ছয়জন আর্জেন্টাইন কোচের বেশিরভাগই নিজেদের দলকে নকআউটের পথে এগিয়ে নিয়েছেন। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

লিওনেল স্কালোনি (আর্জেন্টিনা)

এই তালিকায় সবার আগে রয়েছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে। আলজেরিয়ার পর অস্ট্রিয়াকেও ২-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দুটি ম্যাচে দলের পাঁচটি গোলই এসেছে অধিনায়ক লিওনেল মেসির পা থেকে। এখন গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। সেই ম্যাচে অন্তত এক পয়েন্ট পেলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে যাবে আর্জেন্টিনা।

মরিসিও পচেত্তিনো (যুক্তরাষ্ট্র)

স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রও মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে দারুণ ছন্দে রয়েছে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে হারলেও আগের দুই ম্যাচের জয়ে তারা ইতোমধ্যেই গ্রুপসেরা হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে। পচেত্তিনোর অধীনে দলের পারফরম্যান্সে নতুন আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট।

গুস্তাভো আলফারো (প্যারাগুয়ে)

একই গ্রুপ থেকে গুস্তাভো আলফারোর প্যারাগুয়েও শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্র করেই নকআউট নিশ্চিত করে দলটি। অভিজ্ঞ এই আর্জেন্টাইন কোচের নেতৃত্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে যাচ্ছে প্যারাগুয়ে।

মার্সেলো বিয়েলসা (উরুগুয়ে)


মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ের অবস্থানও বেশ শক্ত। ‘এইচ’ গ্রুপে প্রথম দুই ম্যাচ ড্র করলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। শেষ ম্যাচে জয় কিংবা ড্র করলেই পরবর্তী পর্বে যাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

নেস্টর লরেঞ্জো (কলম্বিয়া)

নেস্টর লরেঞ্জোর কলম্বিয়া অবশ্য কোনো সমীকরণের অপেক্ষায় নেই। প্রথম দুই ম্যাচে উজবেকিস্তান ও ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে পূর্ণ ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে তারা। ফলে আগেভাগেই নিশ্চিত হয়েছে নকআউটের টিকিট। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা থাকলেও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে কলম্বিয়া।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ কোচের মধ্যে ছয়জনই আর্জেন্টাইন। মজার বিষয় হলো, তাদের মধ্যে পাঁচজনের জন্ম একই প্রদেশ সান্তা ফেতে। শুধু নেস্টর লরেঞ্জোর জন্ম বুয়েনস এইরেসের ভিলা সেলিনায়। বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টাইন কোচদের এই সাফল্যের ধারা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের বড় কৌতূহল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow