বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

আমাদের প্রাণের আনন্দ জোগায় খেলাধুলা। অন্য যেকোনো সময় থেকে ফুটবল বিশ্বকাপ এলে উন্মাদনা বেড়ে যায়। অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন দল সাপোর্ট করে থাকেন। আর যে অনুযায়ী বাসা-বাড়ি, গাছ বা ছাদে পছন্দের দেশের পতাকা টাঙিয়ে থাকেন। কে কত বড় পতাকা বানালো বা কত উঁচুতে পতাকা টাঙালো, এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমিদের প্রতিযোগিতাও করতে দেখা যায়।  খেলাধুলা মানুষের চিরন্তন আনন্দের উৎস। আর সেই খেলা যদি হয় ফুটবল বিশ্বকাপ, তবে তো কথাই নেই! বিশ্বকাপ এলে বাঙালি মেতে ওঠে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনায়। চারদিকে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রইংরুম, সবখানেই জমে ওঠে ফুটবল আর প্রিয় দল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা ফ্রান্স, পছন্দের দলের প্রতি সমর্থন জানাতে কোনো কমতি রাখেন না এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপের এই মৌসুমে দেশের অলিতে-গলিতে এক চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে। ঘর-বাড়ি, গাছপালা কিংবা বহুতল ভবনের ছাদে শোভা পায় বিভিন্ন দেশের পতাকা। কে কার চেয়ে কত বড় পতাকা বানাতে পারল, কিংবা কার প্রিয় দলের পতাকা কত উঁচুতে উড়ল, তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। প্রিয় দলের প্রতি এই নিখাদ ভালোবাসা বা আবেগ থাক

বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশের পতাকা থাকুক সবার উপরে

আমাদের প্রাণের আনন্দ জোগায় খেলাধুলা। অন্য যেকোনো সময় থেকে ফুটবল বিশ্বকাপ এলে উন্মাদনা বেড়ে যায়। অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন দল সাপোর্ট করে থাকেন। আর যে অনুযায়ী বাসা-বাড়ি, গাছ বা ছাদে পছন্দের দেশের পতাকা টাঙিয়ে থাকেন। কে কত বড় পতাকা বানালো বা কত উঁচুতে পতাকা টাঙালো, এ নিয়ে ফুটবলপ্রেমিদের প্রতিযোগিতাও করতে দেখা যায়। 

খেলাধুলা মানুষের চিরন্তন আনন্দের উৎস। আর সেই খেলা যদি হয় ফুটবল বিশ্বকাপ, তবে তো কথাই নেই! বিশ্বকাপ এলে বাঙালি মেতে ওঠে এক অভূতপূর্ব উন্মাদনায়। চারদিকে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রইংরুম, সবখানেই জমে ওঠে ফুটবল আর প্রিয় দল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা ফ্রান্স, পছন্দের দলের প্রতি সমর্থন জানাতে কোনো কমতি রাখেন না এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে দেশের অলিতে-গলিতে এক চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে। ঘর-বাড়ি, গাছপালা কিংবা বহুতল ভবনের ছাদে শোভা পায় বিভিন্ন দেশের পতাকা। কে কার চেয়ে কত বড় পতাকা বানাতে পারল, কিংবা কার প্রিয় দলের পতাকা কত উঁচুতে উড়ল, তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। প্রিয় দলের প্রতি এই নিখাদ ভালোবাসা বা আবেগ থাকাটা মোটেও অন্যায় নয়। খেলাকে ভালোবাসার এই সংস্কৃতি আমাদের বিনোদনের একটা বড় অংশ।
কিন্তু এই আকাশচুম্বী উন্মাদনার ভিড়ে মাঝেমধ্যে আমরা খুব মৌলিক একটি বিষয় ভুলে যাই। 

অন্য দেশের পতাকা ওড়ানোর হুজুগে অনেকেই নিজের প্রাণের লাল-সবুজ পতাকার কথা একদমই মনে রাখেন না। আবার কেউ কেউ পরম যত্নে প্রিয় দলটির পতাকা বিশাল আকারে টাঙালেও, নিজের দেশের পতাকাটি রাখেন একেবারেই ছোট আকারে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় দেখা যায় বিদেশি পতাকার নিচে স্থান পায় আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

আমাদের মনে রাখা উচিত, যেকোনো কিছুর চেয়ে নিজের দেশের সম্মান ও মর্যাদা সবার আগে। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই লাল-সবুজ পতাকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও মর্যাদা রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অন্য কোনো দেশের পতাকা ওড়াতে হলে সবার আগে বাংলাদেশের পতাকা ওড়াতে হবে এবং তা অবশ্যই অন্য দেশের পতাকার চেয়ে আকারে বড় অথবা সমমানের এবং উঁচুতে হতে হবে।

ফুটবলপ্রেমীদের এই আবেগ কিংবা উন্মাদনায় কোনো বাধা নেই। তবে এই উৎসব যেন আমাদের জাতীয়তাবোধ আর দেশপ্রেমকে ঢেকে না ফেলে। অন্য দেশের প্রতি আমাদের সমর্থন বা ভালোলাগা থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই নিজের দেশের পতাকাকে খাটো না করে।

আসুন, ফুটবল বিশ্বকাপকে আমরা আনন্দের মাধ্যম হিসেবেই গ্রহণ করি। প্রিয় দলকে সমর্থন করার পাশাপাশি নিজেদের আত্মমর্যাদার কথা ভুলে না যাই। এবারের বিশ্বকাপে ভিন্ন দেশের পতাকার পাশে আমাদের প্রাণের লাল-সবুজ পতাকাটি যেন সগৌরবে সবচেয়ে উঁচুতে ওড়ে। কারণ, সব আনন্দের ওপরে আমাদের দেশ, আর সব পতাকার ওপরে আমাদের লাল-সবুজ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow