বিশ্বকাপ জিতেছে ২ বার, তবু তাদের জার্সিতে কেন চারটি স্টার? রহস্যটা কী?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে উরুগুয়ে এমন একটি জার্সি পরে খেলছে, যা নিয়ে বহু বছর ধরেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। দেশটি বিশ্বকাপ জিতেছে মাত্র দুইবার— ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে। কিন্তু তাদের জার্সির প্রতীকের উপরে রয়েছে চারটি তারা বা স্টার। অনেকেরই প্রশ্ন, অতিরিক্ত দুটি তারার কারণ কী? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে বিশ্বকাপ শুরুর আগের ফুটবল ইতিহাসে। চারটি তারার রহস্য উরুগুয়ের চারটি তারা চারটি বিশ্বশিরোপার প্রতীক। এর মধ্যে দুটি এসেছে বিশ্বকাপ থেকে এবং বাকি দুটি অলিম্পিক ফুটবল থেকে। উরুগুয়ের চারটি স্বীকৃত শিরোপা হল— প্যারিস অলিম্পিক-১৯২৪ আমস্টারডাম অলিম্পিক-১৯২৮ বিশ্বকাপ-১৯৩০ বিশ্বকাপ-১৯৫০ উরুগুয়ে ফুটবল সংস্থা ২০২১ সালে জানায়, ‘চারটি তারা ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে জেতা সোনার পদক এবং ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক।’ এখনকার মতো তখন অলিম্পিক ফুটবলে বয়সসীমা ছিল না। বিশ্বকাপ চালু হওয়ার আগে অলিম্পিক্ই ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। সেই টুর্নামেন্টগুলো ফিফার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হয়েছিল। তাই ফিফা সেগুলোকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদা দেয়। প্রথম দুই তারা কীভাবে এলো? ১৯২৪ সালের প্যারিস

বিশ্বকাপ জিতেছে ২ বার, তবু তাদের জার্সিতে কেন চারটি স্টার? রহস্যটা কী?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে উরুগুয়ে এমন একটি জার্সি পরে খেলছে, যা নিয়ে বহু বছর ধরেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। দেশটি বিশ্বকাপ জিতেছে মাত্র দুইবার— ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালে। কিন্তু তাদের জার্সির প্রতীকের উপরে রয়েছে চারটি তারা বা স্টার। অনেকেরই প্রশ্ন, অতিরিক্ত দুটি তারার কারণ কী? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে বিশ্বকাপ শুরুর আগের ফুটবল ইতিহাসে।

চারটি তারার রহস্য
উরুগুয়ের চারটি তারা চারটি বিশ্বশিরোপার প্রতীক। এর মধ্যে দুটি এসেছে বিশ্বকাপ থেকে এবং বাকি দুটি অলিম্পিক ফুটবল থেকে।

উরুগুয়ের চারটি স্বীকৃত শিরোপা হল—

প্যারিস অলিম্পিক-১৯২৪

আমস্টারডাম অলিম্পিক-১৯২৮

বিশ্বকাপ-১৯৩০

বিশ্বকাপ-১৯৫০

উরুগুয়ে ফুটবল সংস্থা ২০২১ সালে জানায়, ‘চারটি তারা ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে জেতা সোনার পদক এবং ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক।’ এখনকার মতো তখন অলিম্পিক ফুটবলে বয়সসীমা ছিল না। বিশ্বকাপ চালু হওয়ার আগে অলিম্পিক্ই ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। সেই টুর্নামেন্টগুলো ফিফার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত হয়েছিল। তাই ফিফা সেগুলোকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদা দেয়।

প্রথম দুই তারা কীভাবে এলো?
১৯২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিককে অনেকেই প্রথম সত্যিকারের আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতা বলে মনে করেন। সেখানে ২২টি দেশ অংশ নিয়েছিল। ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সোনা জেতে উরুগুয়ে। সেটিই পরে তাদের জার্সির প্রথম তারা হয়ে ওঠে।

চার বছর পরে আমস্টারডাম অলিম্পিকে আবারও শিরোপা জেতে উরুগুয়ে। ১৯২৮ সালের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় বার সোনা জেতে তারা। টানা দুই অলিম্পিক জয় উরুগুয়েকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল শক্তিতে পরিণত করে।

বিশ্বকাপের জন্ম এবং উরুগুয়ের তৃতীয় তারা
অলিম্পিকে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকায় ফিফা নিজেদের আলাদা বিশ্ব প্রতিযোগিতা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯২৮ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় উরুগুয়ে। দেশের স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তি এবং ফুটবলে সাফল্য— দুই কারণেই এই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

১৯৩০ সালের সেই বিশ্বকাপে ১৩টি দেশ অংশ নেয়। ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। বিরতিতে ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল উরুগুয়ে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল করে ৪-২ ব্যবধানে জিতে ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। সেই সাফল্য এনে দেয় তৃতীয় তারা।

মারাকানাজো এবং চতুর্থ তারা
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ উরুগুয়ের ফুটবল ইতিহাসকে কিংবদন্তির মর্যাদা দেয়। ব্রাজিলের মারাকানা স্টেডিয়ামে আয়োজিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আয়োজক দেশের বিরুদ্ধে মাঠে নামে উরুগুয়ে। প্রায় দুই লক্ষ দর্শকের সামনে ব্রাজিল ছিল হট ফেভারিট। ড্র করলেই শিরোপা নিশ্চিত ছিল তাদের। ম্যাচেও প্রথমে এগিয়ে যায় সেলেসাওরা।

কিন্তু তবুও হাল ছাড়েনি উরুগুয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে পরপর দুই গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় তারা। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে পরিচিত এই ম্যাচই ‘মারাকানাজো’ নামে অমর হয়ে আছে। এই জয়ের ফলে উরুগুয়ে পায় দ্বিতীয় বিশ্বকাপ এবং চতুর্থ স্বীকৃত বিশ্বশিরোপা।

কেন এখনো চারটি তারা রয়েছে?
বড় টুর্নামেন্ট এলেই উরুগুয়ের চার তারাকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। তবে ফিফা বরাবরই এই চারটি তারার স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপ চালু হওয়ার আগে ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক ফুটবলই ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরের প্রতিযোগিতা। উরুগুয়ে সেই দুটি জয়ের সঙ্গে ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপও জিতেছিল। তাই তাদের জার্সির চারটি তারা কোনও ভুল বা বিতর্কের ফল নয়, বরং ফুটবলের দুই ভিন্ন যুগে জেতা চারটি বিশ্বশিরোপার স্মারক।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow