বিশ্বকাপ জয়ের পর ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের নিকটবর্তী এলাকা ও পার্শ্ববর্তী অ্যাভিলা প্রদেশে একাধিক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্প্যনিশ সরকার। জানা গেছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ও তা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেগ পেতে হওয়ার কারণে এরই মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়া, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও সরঞ্জাম দ্রুত একত্র করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই এই জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা অগ্নিনির্বাপণ ও নাগরিক সুরক্ষা কার্যক্রমের জটিলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্পেনসহ সমগ্র দক্ষিণ ইউরোপে ক্রমেই আরও ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বসন্তকালীন বৃষ্টির পর প্রচুর পরিমাণে গাছপালা গজিয়ে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে গ্রীষ্মের চরম তাপদাহে শুকিয়ে কাঠের ম

বিশ্বকাপ জয়ের পর ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের নিকটবর্তী এলাকা ও পার্শ্ববর্তী অ্যাভিলা প্রদেশে একাধিক ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্প্যনিশ সরকার।

জানা গেছে, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ও তা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেগ পেতে হওয়ার কারণে এরই মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়া, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও সরঞ্জাম দ্রুত একত্র করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই এই জরুরি অবস্থার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা অগ্নিনির্বাপণ ও নাগরিক সুরক্ষা কার্যক্রমের জটিলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্পেনসহ সমগ্র দক্ষিণ ইউরোপে ক্রমেই আরও ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বসন্তকালীন বৃষ্টির পর প্রচুর পরিমাণে গাছপালা গজিয়ে উঠেছিল, যা পরবর্তীতে গ্রীষ্মের চরম তাপদাহে শুকিয়ে কাঠের মতো জ্বালানিতে পরিণত হয়েছে। আর এটিই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মূল কারণ হিসেবে কাজ করছে।

অবশ্য, বিশ্বকাপ জেতা পরেই যে স্পেনে দাবানল শুরু হয়েছে, বিষয়টি তেমন নয়। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে এই বছর জুনের শেষদিকে দেশটিতে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। তবে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে এটি তীব্র ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রেকর্ড পরিমাণ শুষ্ক বসন্ত এবং জুলাইয়ের শুরুতেই ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপপ্রবাহের কারণে বনাঞ্চল দ্রুত শুকিয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

পরিস্থিতির ‘চরম গুরুত্ব’ ও মাদ্রিদের সাহায্য প্রার্থনা

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘চরম গুরুত্ব বা ভয়াবহ পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করে কেন্দ্র সরকারের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে মাদ্রিদ আঞ্চলিক সরকার। তারা জানিয়েছে, পার্শ্ববর্তী কাস্তিল-লা মাঞ্চার ভিলা দেল প্রদো, সান মার্টিন দে ভালদেইগলেসিয়াস ও আলমোরক্স এলাকার সক্রিয় দাবানলগুলো বর্তমান ফায়ার সার্ভিসের নির্বাপণ ক্ষমতার বাইরে ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

একই সাথে সতর্ক করে জানানো হয়েছে যে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অ্যাভিলার বুরগোহোন্ডোতে জ্বলতে থাকা দাবানল আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মাদ্রিদ অঞ্চলেও ঢুকে পড়তে পারে।

আঞ্চলিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের ভয়াবহতার কারণে ভিলা দেল প্রদো, সান মার্টিন দে ভালদেইগলেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেসা ও আলদিয়া দেল ফ্রেসনো থেকে ইতোমধ্যে ১০ হাজারেরও এরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইতিহাসে প্রথমবার দাবানলে সর্বোচ্চ জরুরি পদক্ষেপ

স্পেনের জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আইন- এর অধীনে এই জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে পুরো উদ্ধার ও উদ্ধার তৎপরতার দায়িত্ব সরাসরি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একক হস্তক্ষেপে চলে এসেছে। তিনি সব পদক্ষেপ সমন্বয় করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের কারণে দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার ঘটনা এটিই প্রথম।

দুর্গত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ২৭০ জনেরও বেশি জরুরি উদ্ধারকর্মী এবং ৪০টি গ্রাউন্ড ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের পাশাপাশি কাজ করছে মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিটের বেশ কয়েকটি বিশেষ সেনা দল।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত স্পেনে ১ লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা গত এক দশকে দেশটির বার্ষিক গড় পোড়া অঞ্চলের হেক্টরের প্রায় সমান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৬ সালকে স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ দাবানল মরশুমে পরিণত করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow