‘বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়া ক্রিকেটের জন্য উদ্বেগজনক’

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ। বিসিবি শ্রীলঙ্কায় তাদের ম্যাচ সরানোর অনুরোধ করলেও আইসিসি সাড়া দেয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে সে জায়গায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। বাংলাদেশের এমনভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়াকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী টম মোফাট বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ডব্লিউসিএ’র এক বিবৃতিতে মোফাট বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় জাতির অনুপস্থিতি আমাদের খেলার জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য এক দুঃখজনক মুহূর্ত। এনিয়ে গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।’ ক্রিকেটের মূল মূল্যবোধের কথাও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেন মোফাট ডব্লিউসিএ প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘ক্রিকেট তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী, যখন প্রতিটি দল ও প্রতিটি খেলোয়াড়কে সম্মান করা হয়, যথাযথ ও ধারাবাহিক সমর্থন দে

‘বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়া ক্রিকেটের জন্য উদ্বেগজনক’

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ। বিসিবি শ্রীলঙ্কায় তাদের ম্যাচ সরানোর অনুরোধ করলেও আইসিসি সাড়া দেয়নি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে সে জায়গায় বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি।

বাংলাদেশের এমনভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়াকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী টম মোফাট বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ডব্লিউসিএ’র এক বিবৃতিতে মোফাট বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটীয় জাতির অনুপস্থিতি আমাদের খেলার জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য এক দুঃখজনক মুহূর্ত। এনিয়ে গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।’

ক্রিকেটের মূল মূল্যবোধের কথাও নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেন মোফাট ডব্লিউসিএ প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘ক্রিকেট তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী, যখন প্রতিটি দল ও প্রতিটি খেলোয়াড়কে সম্মান করা হয়, যথাযথ ও ধারাবাহিক সমর্থন দেওয়া হয় এবং ন্যায্য শর্তে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত থাকে। সব দলের অংশগ্রহণ ও অবদানে টুর্নামেন্ট সফল হলেই খেলাটির সেরা রূপ দেখা যায়।’

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করে ডব্লিউসিএ। একই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিকসময়ে খেলাটিতে কিছু বড় ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে চুক্তিকে সম্মান না করা, অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া এবং খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার অভাব। এসব বিষয় মানুষের প্রতি এক ধরনের অবহেলার ইঙ্গিত দেয়, যা ক্রিকেটে থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে খেলাটির বর্তমান পরিচালন কাঠামোর গুরুতর সমস্যাগুলোও সামনে আনে। এসব সমস্যা যদি উপেক্ষিতই থেকে যায়, তবে আস্থা, ঐক্য এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রিয় খেলাটির সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ দুর্বল হয়ে পড়বে।’

ক্রিকেটের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে ডব্লিউসিএ, ‘এই মুহূর্তটি ক্রিকেটের জন্য আত্মপর্যালোচনার একটি সুযোগ। বিভাজন বা বর্জনকে জায়গা না দিয়ে আমরা খেলাটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই— শাসন সংস্থা, লিগ ও খেলোয়াড়সহ সব অংশীজনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে খেলাটি ঐক্যবদ্ধ করুন। খেলাটির দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য ও সাফল্যের যৌথ স্বার্থেই বিভক্তি দূর করুন।’

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে ডব্লিউসিএ জানায়, ‘বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড় ও তাদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আমরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ হারানো বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও তাদের সংগঠনের (কোয়াব) প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখছি। একই সঙ্গে বিসিবি ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী ও বিকশিত করার প্রতিশ্রুতি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।’

এসকেডি/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow