বিশ্ববাজারে এবার তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলো সর্বকালের সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। ব্লুমবার্গের (২২ জুন) প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারের নিচে নেমে আসে। পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশাই এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমতে পারে—এমন আশায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে আস্থা দেখাচ্ছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সপ্তাহের শুরুতে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের উত্থান বাজারকে সমর্থন দিচ্ছে। বিশেষ করে চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক মার্চ মাসের যুদ্ধ-প্রভাবিত নিম্নস্তর থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববাজারে এবার তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলো সর্বকালের সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

ব্লুমবার্গের (২২ জুন) প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারের নিচে নেমে আসে। পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার প্রত্যাশাই এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমতে পারে—এমন আশায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারে আস্থা দেখাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সপ্তাহের শুরুতে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের উত্থান বাজারকে সমর্থন দিচ্ছে। বিশেষ করে চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক মার্চ মাসের যুদ্ধ-প্রভাবিত নিম্নস্তর থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

ইরান সরকার জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাতভর আলোচনায় “বড় অগ্রগতি” হয়েছে। দুই দেশ আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত সপ্তাহে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালী আবার আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক টম এসসি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংক্রান্ত খবরগুলো সপ্তাহান্তে ওঠানামা করেছে, তবে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল রয়েছে এবং পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে—যা বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

এদিকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পাউন্ড ও সরকারি বন্ড (গিল্ট) সামান্য বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কর্পোরেট খাতে বড় কিছু চুক্তির খবরও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পেসএক্সের প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট-গ্রেড বন্ড বিক্রি, চেভরনের সঙ্গে মাইক্রোসফটের ২০ বছরের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি, রোবিনহুডের ২ বিলিয়ন ডলারের কনভার্টিবল বন্ড সংগ্রহ পরিকল্পনা, অ্যাবভির ১০.৯ বিলিয়ন ডলারে এপোজি থেরাপিউটিকস অধিগ্রহণ এবং CRH-এর ৮.৫ বিলিয়ন ডলারের বড় নির্মাণ খাতের চুক্তি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসার ইঙ্গিত বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে, যার প্রভাব পড়ছে জ্বালানি ও শেয়ারবাজার উভয় ক্ষেত্রেই।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow