বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কর্মসূচি, ১০ শিক্ষার্থীকে শোকজ
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অমান্য, প্রধান ফটক বন্ধ করে খেলা প্রদর্শন, প্রশাসনিক-অ্যাকাডেমিক ও পরিবহন সেবা ব্যাহত করাসহ নানা অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১০ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা শুধু খেলা দেখতে চেয়েছি, যা কোনো অপরাধ নয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থেকেও কয়েকজন কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জিমনেশিয়ামের পরিবর্তে আবাসিক হলগুলোতে খেলা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে। তবে এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতে আগের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে বড় পর্দায় একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা দেখার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার দাবিতে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট করে তারা। পরদিন রোববার (১২ জুলাই) সকালে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফ
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অমান্য, প্রধান ফটক বন্ধ করে খেলা প্রদর্শন, প্রশাসনিক-অ্যাকাডেমিক ও পরিবহন সেবা ব্যাহত করাসহ নানা অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১০ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা শুধু খেলা দেখতে চেয়েছি, যা কোনো অপরাধ নয়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থেকেও কয়েকজন কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জিমনেশিয়ামের পরিবর্তে আবাসিক হলগুলোতে খেলা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে।
তবে এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতে আগের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে বড় পর্দায় একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা দেখার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার দাবিতে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট করে তারা। পরদিন রোববার (১২ জুলাই) সকালে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড খেলা দেখার উদ্যোগ নেয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর থেকে কোন বাস শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্য ছেড়ে যেতে পারেনি এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশও করতে পারেনি।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবার (১৫ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পৃথকভাবে দশ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রধান ফটক বন্ধ করে খেলা প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও বাহির হতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব কার্যক্রম, প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ঘটনার তদন্তে গঠিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির প্রাথমিক অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ৭ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া যবিপ্রবি শিক্ষার্থী শেখ আবু সুফিয়ান বলেন, শিক্ষার্থীদের নায্য দাবি উপস্থাপন করা কোনো অপরাধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় হলো মুক্ত চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্থান। আমি বিশ্বাস করি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে দমন করে এবং গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করা কখনোই কোনো প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। আর এটাই যদি প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য হয় তাহলে তারা স্বৈরাচার প্রশাসন। আর স্বৈরাচারের পতন অবধারিত। আমরা চাই একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
আরেক শিক্ষার্থী রাকিব হাসান সিহাব বলেন, আমাদের একটাই দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য বড় পর্দায় জিমনেসিয়ামে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা। গুটিকয়েক শিক্ষার্থীর কারণে পুরো শিক্ষার্থী সমাজকে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছি এবং স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের যৌক্তিক দাবির কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপস্থাপন করা কোনো অপরাধ নয়। দুঃখজনকভাবে, অধিকার চেয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করায় শিক্ষার্থীদের অপরাধীর মতো বিবেচনা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের মতে সংলাপের পরিবর্তে এ ধরনের পদক্ষেপ কোনো শক্তির পরিচয় নয়। বরং পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্বলতা, অদূরদর্শিতা ও ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার প্রতিফলন।
অন্য এক শিক্ষার্থী সামিউল বলেন, আমি সেদিন সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না। আর আমি আমার সব বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, খেলা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জিমনেশিয়ামে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলের অভ্যন্তরে খেলা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মূল ফটক বন্ধ করে স্ব উদ্যোগে সেখানে খেলা প্রদর্শন করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বাস বাইরে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে পারেনি, আবার আসতেও পরে। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যে কোনো যৌক্তিক দাবির পক্ষে আমরা। তারা যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা পুনর্বিবেচনা করবে।
যে সব শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করেছিল। যারা সশরীরে সেখানে ছিলো না তারা অন্যকোনো ভাবে এই ঘটনায় পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে এজন্য তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
What's Your Reaction?