বিশ্বের প্রথম জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে : রয়টার্স

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ হবে বাংলাদেশে। আসন্ন এ নির্বাচনকে বিশ্বের প্রথম জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, ২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ নেৃতত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। তবে এ নির্বাচনগুলো হয় বিরোধী দলগুলো বয়কট করেছে কিংবা অংশ নিলেও তা ছিল খুব সীমিত মাত্রায়। কারণ, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলোকে দমন-পীড়নে রাখা হতো। শীর্ষ নেতাদের ব্যাপক গ্রেপ্তার ও তাদের ওপর দমন-পীড়নের কারণে মাঠে নামতে পারেনি তারা। তবে আসন্ন বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে সেই চিত্র পাল্টাতে যাচ্ছে।   শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তার সরকারের পতনের পেছনে ভূমিকা রাখা তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করছে, ২০০৯ সালের পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। ওই বছর থেকেই শুরু হয়

বিশ্বের প্রথম জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে : রয়টার্স

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ হবে বাংলাদেশে। আসন্ন এ নির্বাচনকে বিশ্বের প্রথম জেন-জি প্রভাবিত নির্বাচন বলে আখ্যা দিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, ২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ নেৃতত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। তবে এ নির্বাচনগুলো হয় বিরোধী দলগুলো বয়কট করেছে কিংবা অংশ নিলেও তা ছিল খুব সীমিত মাত্রায়।

কারণ, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলোকে দমন-পীড়নে রাখা হতো। শীর্ষ নেতাদের ব্যাপক গ্রেপ্তার ও তাদের ওপর দমন-পীড়নের কারণে মাঠে নামতে পারেনি তারা। তবে আসন্ন বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে সেই চিত্র পাল্টাতে যাচ্ছে।  

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তার সরকারের পতনের পেছনে ভূমিকা রাখা তরুণদের একটি বড় অংশ মনে করছে, ২০০৯ সালের পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন। ওই বছর থেকেই শুরু হয়েছিল শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসন।

এই নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–কে। তবে ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন একটি জোট শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, ৩০ বছরের কম বয়সী জেন-জি কর্মীদের নিয়ে গঠিত একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও নির্বাচনী রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়টার্সকে বলেছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার দল সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আত্মবিশ্বাসী।

বিশ্লেষকদের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি স্পষ্ট রায় আসে, তবে তা ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হবে। শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত, বিশেষ করে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক খাতটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও ভারতের সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। শেখ হাসিনা ভারতপন্থি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। এর ফলে বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কিছুটা কমেছে, আর সেই শূন্যতা পূরণ করছে চীন।

ঢাকার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী রয়টার্সকে বলেন, ‘জরিপে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও এখনো বিপুলসংখ্যক ভোটার অনিশ্চিত। নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে জেন-জি ভোটাররা, যারা মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।’

দেশজুড়ে এখন দেখা যাচ্ছে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পোস্টার-ব্যানারে ভরা রাজপথ। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীকও রয়েছে চোখে পড়ার মতো।

জরিপ বলছে, একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামীর এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসতে পারে, যদিও তারা সরকার গঠন নাও করতে পারে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা এই দলটির পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাদের জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ঢাকাভিত্তিক দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের কাছে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, এরপর রয়েছে মূল্যস্ফীতি। ধর্মীয় বিষয়ের চেয়ে অর্থনীতি ও সুশাসনকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা।

প্রথমবারের ভোট দিতে যাওয়া ২১ বছর বয়সী  মোহাম্মদ রাকিব রয়টার্সকে বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে পারত না, কথা বলার সুযোগ ছিল না। সবাই আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্লান্ত ছিল। আমি আশা করি, যে সরকারই আসুক, তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।’

সব মিলিয়ে, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্র, তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow