বিয়ের কথা বললেই আপত্তি জানাতেন তরুণী, জানা গেল রহস্য

বিয়ের কথা বললেই আপত্তি জানাতেন ১৭ বছরের কেয়া আক্তার। পরিবারের কাছে বিষয়টি ছিল রহস্য। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মিলল সেই রহস্যের প্রাথমিক ব্যাখ্যা। শরীরের পরিবর্তনের কারণে এখন কেয়া পরিচিত ‘কাবির’ নামে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় কাবিরের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটি জানতে ও তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কেয়া আক্তার স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। গত বছর থেকে তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মতামতের ভিত্তিতে পরে জন্মনিবন্ধনে নাম ও লিঙ্গ-সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করা হয়। কাবিরের মা কনিকা ইসলাম বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের কথা বললেই সে আপত্তি জানাত। তখন বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেইনি। পরে সে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা খুলে বললে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে হরমোনজ

বিয়ের কথা বললেই আপত্তি জানাতেন তরুণী, জানা গেল রহস্য

বিয়ের কথা বললেই আপত্তি জানাতেন ১৭ বছরের কেয়া আক্তার। পরিবারের কাছে বিষয়টি ছিল রহস্য। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে মিলল সেই রহস্যের প্রাথমিক ব্যাখ্যা। শরীরের পরিবর্তনের কারণে এখন কেয়া পরিচিত ‘কাবির’ নামে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় কাবিরের বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাটি জানতে ও তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কেয়া আক্তার স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। গত বছর থেকে তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক মতামতের ভিত্তিতে পরে জন্মনিবন্ধনে নাম ও লিঙ্গ-সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন করা হয়।

কাবিরের মা কনিকা ইসলাম বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের কথা বললেই সে আপত্তি জানাত। তখন বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেইনি। পরে সে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা খুলে বললে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটছে।’

কাবির বলেন, ‘২০২৫ সাল থেকেই শরীরে পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করি। প্রথমে বিষয়টি কাউকে বলতে সংকোচ লাগত। পরে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সবকিছু জানাই। এখন আমি বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেছি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।’

ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘কেয়া আমাদের স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পরিবারের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। আগামী ১০ আগস্ট তার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে।’

এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানান, হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনের কারণে মেয়ে পরিচয়ে বেড়ে ওঠা কেয়া বর্তমানে পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন। জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে তার নতুন নাম রাখা হয়েছে কাবির। ঘটনাটি ঘিরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় চিকিৎসকদের কোনো পূর্ণাঙ্গ লিখিত প্রতিবেদন বা বিশেষজ্ঞ মতামত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শারীরিক পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বিস্তারিত মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow