বুড়িচংয়ের খাস জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ; ভূমি অফিস নীরব!
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল, ক্রয়-বিক্রির নামে প্রতারণা এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।এই খাস জায়গা দখল নিয়ে হানাহানি, মারামারি ও হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ইউনিয়নের আনন্দপুর, গুচ্ছগ্রাম, জামতলা, কালিকৃঞ্চনগর, গদানগর, জঙ্গলবাড়ি, পাহাড়পুর ও খারেরা সীমান্ত এলাকায় বিস্তীর্ণ খাস জমি, পাহাড়, টিলা ও বনাঞ্চল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দায়িত্বরত অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব সরকারি জমি দখল করে পেশিশক্তির মাধ্যমে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছে। পাশাপাশি পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আনন্দপুর বড় মাঠ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী তারা মিয়া, তার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও প্রবাসী আরিফ হোসেন স্থায়ী ইটের ভবন নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সরকারি খাস জমি দখল, ক্রয়-বিক্রির নামে প্রতারণা এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।এই খাস জায়গা দখল নিয়ে হানাহানি, মারামারি ও হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, ইউনিয়নের আনন্দপুর, গুচ্ছগ্রাম, জামতলা, কালিকৃঞ্চনগর, গদানগর, জঙ্গলবাড়ি, পাহাড়পুর ও খারেরা সীমান্ত এলাকায় বিস্তীর্ণ খাস জমি, পাহাড়, টিলা ও বনাঞ্চল রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও দায়িত্বরত অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব সরকারি জমি দখল করে পেশিশক্তির মাধ্যমে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছে। পাশাপাশি পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
আনন্দপুর বড় মাঠ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারি খাস জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী তারা মিয়া, তার ছেলে সাইফুল ইসলাম ও প্রবাসী আরিফ হোসেন স্থায়ী ইটের ভবন নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তারা মিয়া দীর্ঘদিন আগে অস্থায়ীভাবে দখল করে বসবাস শুরু করলেও বর্তমানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন।খাস জমি বণ্টন ও ঘর নির্মাণ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধও তৈরি হয়েছে, যা যে কোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
এদিকে, ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আনন্দপুর বড় মাঠ এলাকায় খাস জমিতে মসজিদ নির্মাণ প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সুলতান আহমেদ ও সুন্দর আলীর গংদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।রাতে অতর্কিত হামলায় এতে আবুল খায়ের নিহত হন এবং তার ভাই রুবেল গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার মামলাটি আদালতে এখনো বিচারাধীন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার প্রায় ৯ বছর পর পলাতক আসামিরা আবার প্রভাবশালীদের সহায়তায় এলাকায় ফিরে এসে খাস জমি নিজেদের দাবি করে পুকুর খননের নামে কয়েক লক্ষাধিক টাকার অধিক মাটি বিক্রি করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, আনন্দপুর পূর্বপাড়া সীমান্ত এলাকায় সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দলিলবিহীন খাস টিলা জমি বহিরাগত একটি পরিবারের কাছে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট থেকে আসা হাসান নামের এক ব্যক্তি ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। এ সময় ছবি তুলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভূমি অফিসের তদারকি ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণেই খাস জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বেড়েই চলেছে। তারা দ্রুত দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাকশীমূল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) সোনিয়া আক্তার বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এলাকার খাস জমির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো পূর্ণ ধারণা নেই। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, খাস জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?