বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

প্রকৃতি ও পরিবেশ আজ সংকটের মুখোমুখি। এ সংকট বিশেষ কোনো গোষ্ঠী, দেশ বা জাতির নয়; সমগ্র মানবজাতির। মানুষের বসবাস উপযোগী বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ। বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামিম রেজা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নাফিসা জামান বনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের মনে রাখবে না আমরা কত দ্রুত উন্নয়ন করেছি বলে। তারা মনে রাখবে উন্নয়নের পথে আমরা তাদের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে গেছি। পৃথিবী আমাদের কাছ থেকে নিখুঁত সমাধান চায় না, চায় আমরা যেন অন্তত এটুকু মনে রাখি যে আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি ভবিষ্যতের কোনো নদী, বন কিংবা শিশুর জীবনে গিয়ে পৌঁছায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের মনে রাখবে না আমরা কত দ্রুত উন্নয়ন করেছি বলে, তারা মনে রাখবে উন্নয়নের পথে আমরা তাদের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে গেছি।’ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের জ্যোতির্ময় কুন্ডু বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে। ফলে গ্রিনহাউ

বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

প্রকৃতি ও পরিবেশ আজ সংকটের মুখোমুখি। এ সংকট বিশেষ কোনো গোষ্ঠী, দেশ বা জাতির নয়; সমগ্র মানবজাতির। মানুষের বসবাস উপযোগী বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ। বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতামত পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামিম রেজা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নাফিসা জামান বনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের মনে রাখবে না আমরা কত দ্রুত উন্নয়ন করেছি বলে। তারা মনে রাখবে উন্নয়নের পথে আমরা তাদের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে গেছি। পৃথিবী আমাদের কাছ থেকে নিখুঁত সমাধান চায় না, চায় আমরা যেন অন্তত এটুকু মনে রাখি যে আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি ভবিষ্যতের কোনো নদী, বন কিংবা শিশুর জীবনে গিয়ে পৌঁছায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের মনে রাখবে না আমরা কত দ্রুত উন্নয়ন করেছি বলে, তারা মনে রাখবে উন্নয়নের পথে আমরা তাদের জন্য কেমন পৃথিবী রেখে গেছি।’

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের জ্যোতির্ময় কুন্ডু বলেন, ‘বৃক্ষরোপণ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহ করে। ফলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ কমে ও বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ ছাড়া গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে। বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ একটি টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নাজিয়াত আক্তার বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হচ্ছে সচেতনতা তৈরি। বর্তমানে বেশিরভাগ পাঠ্যপুস্তকে প্রকৃতি ও পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়ে যুক্ত করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং পরিবেশ বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। প্ল্যাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং বর্জ্য পৃথকীকরণের ব্যবস্থা করলে পরিবেশদূষণ কমানো সম্ভব। বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় রোধে সচেতনতা সৃষ্টি, সৌরশক্তির ব্যবহার এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে। উপকারিতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশ সংরক্ষণে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা দিয়ে গড়ে তুলতে সহায়তা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যা একটি সুন্দর ও টেকসই পৃথিবী নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের মো. সিদরাতুল মুনতাহা বলেন, ‘পরিবেশ শুধু আমাদের চারপাশ না, এটি আমাদের ভবিষ্যতের নিঃশ্বাস। গাছ কাটা মানে শুধু একটি বৃক্ষ হারানো নয় বরং হারানো এক টুকরো জীবন। নদী, মাটি, বাতাস, সবই আজ মানুষের অসচেতনতার ভারে একদম ক্লান্ত। তবুও আশার কথা হলো, ছোট ছোট সচেতনতাই বড় পরিবর্তনের শুরু হতে পারে। একটি গাছ লাগানো, প্ল্যাস্টিক কম ব্যবহার করা কিংবা প্রকৃতিকে ভালোবাসা এসবই পরিবেশ রক্ষার শক্তিশালী পদক্ষেপ। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে প্রতিজ্ঞা হোক সবুজ পৃথিবী গড়ার দায়িত্ব আমি, আপনি, আমাদের সবার। একান্তই আশা করবো, সবাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আত্মত্যাগী হবেন। তাহলে প্রতি বছর পরিবেশ দিবস যথাযথ মর্যাদায় পরিপূর্ণ হবে।’

লেখক: শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়।

এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow