বৃষ্টির বাগড়া কাটিয়ে জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট
ঢাকার সকালটা শুরু হয়েছিল ভারী বৃষ্টিতে। টানা কয়েক ঘণ্টার বর্ষণে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। কাদা আর বৃষ্টির পানি জমে হাটগুলো অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির কারণে হাটে পশু নামানো ও ক্রেতাদের পশু দেখাদেখিতেও ঘটে বিঘ্ন। তবে দুপুর গড়াতেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে দৃশ্য। বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর আফতাবনগর পশুর হাটে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। পরিবার নিয়ে অনেকেই আসেন পছন্দের গরু কিনতে। বিক্রেতাদের হাঁকডাক, দরদাম আর ক্রেতাদের ভিড় মিলিয়ে জমে উঠতে শুরু করে কোরবানির হাট। সোমবার (২৫) দুপুরে আফতাবনগর হাট ঘুরে দেখা যায়, বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তুলনামূলক কম দামের কারণে এসব গরুর সামনে ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। হাটে আসা ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট গরুর দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। রামপুরা থেকে পরিবার নিয়ে গরু কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সকালে বৃষ্টির কারণে আসতে পারিনি। দুপুরে এসে দেখি হাট জমে গেছে। কিন্তু দ
ঢাকার সকালটা শুরু হয়েছিল ভারী বৃষ্টিতে। টানা কয়েক ঘণ্টার বর্ষণে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম। কাদা আর বৃষ্টির পানি জমে হাটগুলো অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির কারণে হাটে পশু নামানো ও ক্রেতাদের পশু দেখাদেখিতেও ঘটে বিঘ্ন। তবে দুপুর গড়াতেই দ্রুত বদলে যেতে থাকে দৃশ্য।
বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর আফতাবনগর পশুর হাটে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। পরিবার নিয়ে অনেকেই আসেন পছন্দের গরু কিনতে। বিক্রেতাদের হাঁকডাক, দরদাম আর ক্রেতাদের ভিড় মিলিয়ে জমে উঠতে শুরু করে কোরবানির হাট।
সোমবার (২৫) দুপুরে আফতাবনগর হাট ঘুরে দেখা যায়, বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তুলনামূলক কম দামের কারণে এসব গরুর সামনে ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।
হাটে আসা ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট গরুর দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
রামপুরা থেকে পরিবার নিয়ে গরু কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সকালে বৃষ্টির কারণে আসতে পারিনি। দুপুরে এসে দেখি হাট জমে গেছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। যে গরু গত বছর ৯০ হাজারে পাওয়া গেছে, এবার সেটাই এক লাখের ওপরে চাচ্ছে।
বাড্ডার বাসিন্দা নুসরাত জাহান বলেন, সকালে হাটে আসবো বলে পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আসতে পারিনি। বৃষ্টি শেষে দুপুরে বাস থেকে বের হয়েছি। আমরা ছোট গরু খুঁজছি। বাজেট এক লাখ টাকার মধ্যে। কিন্তু ছোট গরুরও দাম অনেক বেশি হাঁকা হচ্ছে। দরদাম করেও খুব একটা কমানো যাচ্ছে না।
বনশ্রী থেকে আসা ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, একটু আগেভাগে গরু কেনার পরিকল্পনা করেছি। তাই আজই হাটে চলে এলাম। এ হাটটি মূল রাস্তা থেকে অনেক ভেতরে, তাই বার বার আসা সম্ভব না। আজ খোাঁজাখুজি করে একটা গরু কিনে নিয়ে যাবো। হাটে গরু প্রচুর আছে, তবে বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন। তারপরও দর দাম করে একটা গরু কেনার ইচ্ছা আছে।
আরেক ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পর আবহাওয়া ঠান্ডা হওয়ায় মানুষ হাটে আসতে শুরু করেছে। পরিবার নিয়ে গরু দেখতে ভালোই লাগছে। তবে মধ্যবিত্তের জন্য দাম চিন্তার কারণ। কারণ সব ব্যাপারি দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন। হয় তো সামনে দাম একটু কমতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি- আজ ঘুরে ঘুরে দেখবো। আগামীকাল বা পরশু গরু কিনবো।
ব্যাপারিরা বলছেন, পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি খামার ও গ্রামাঞ্চল থেকে বেশি দামে গরু কিনতে হয়েছে। সে কারণে এবার দাম একটু বেশি।
পাবনা থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী আবদুল মালেক বলেন, সকালের বৃষ্টিতে বেচাকেনা একেবারে বন্ধ ছিল। দুপুরের পর ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। আমরা ২০টি গরু এনেছি। আজ দুটি বিক্রি হয়েছে।
গরুর দাম বেশি চাওয়ার অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা গ্রাম থেকে এবার বেশি দামে গরু কিনেছি। আবার ট্রাক ভাড়াও অনেক বেড়েছে। তাই কম দামে বিক্রি করা কঠিন। আমার দাম খুব বেশি চাচ্ছি না। অল্প কিছু লাভ হলেই ছেড়ে দিচ্ছি।
সিরাজগঞ্জের ব্যাপারী মো. স্বপন বলেন, হাটে গরু এনেছি তিন দিন হচ্ছে। আজই প্রথম বিক্রি করতে পেরেছি। তিনটি গরু বিক্রি হয়েছে। আজ সকালে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। তাই সকালে হাট বসতে পারেনি। দুপুরের দিক থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। আমাদের ধারণা আগামীকাল ও পরশু মূল বিক্রি শুরু হবে।
গরুর দামের বিষয়ে তিনি বলেন, এবার খাবারের খরচ, শ্রমিক খরচ সব বেড়েছে। মানুষ শুধু হাটের দাম দেখে, কিন্তু একটি গরু ঢাকায় আনতে কত খরচ হয় সেটা অনেকেই বোঝেন না। আমাদের সব খরচ বেড়েছে, তাই এবার গত বছরের তুলনায় দাম একটু বেশি।
টাঙ্গাইলের ব্যাপারী শহিদুল ইসলাম বলেন, ছোট গরুর চাহিদা এবার সবচেয়ে বেশি। আমরা চারজন মিলে ৩০টি গরু এনেছি। আজ দুটি বিক্রি হয়েছে। আমাদের গরু এক লাখ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি করছি।
তিনি বলেন, সকালের বৃষ্টির কারণে বিক্রি হয়নি। মানুষজন সকালে তেমন হাটে আসতে পারেনি। বৃষ্টি শেষে দুপুরের দিকে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছে। তবে আকাশ এখনো (বিকেল ৩টার দিকে) মেঘলা, তাই মানুষের আনাগোনা কম। আমরা আশা করছি আগামীকাল এবং পরশু ক্রেতাদের মূল চাপ দেখা যাবে।
এমএএস/এমকেআর
What's Your Reaction?