বেশি মাংস খেয়ে বদহজম? জেনে নিন দ্রুত সমাধান
ঈদ, দাওয়াত বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাংস খাওয়া হয়ে যায়। সুস্বাদু খাবারের লোভ সামলানো কঠিন হলেও অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর অনেকেরই বদহজম, পেট ফাঁপা, গ্যাস, বুকজ্বালা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে গরু বা খাসির মাংস তুলনামূলক বেশি চর্বিযুক্ত হওয়ায় হজম হতে সময় লাগে। ফলে পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বিভিন্ন ধরনের হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। কেন বেশি মাংস খেলে বদহজম হয়? মাংসে প্রচুর প্রোটিন ও চর্বি থাকে। শরীরকে এগুলো ভাঙতে তুলনামূলক বেশি সময় ও শক্তি ব্যয় করতে হয়। একসঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণে মাংস খেলে পাকস্থলী দীর্ঘ সময় খাবার ধরে রাখে, ফলে- পেট ভারী লাগে গ্যাস ও পেট ফাঁপা হয় বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটি দেখা দেয় বমি বমি ভাব হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার উপায় পর্যাপ্ত পানি পান করুন: অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়। তবে একবারে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে পান করা ভালো। হালকা হাঁটাহাঁটি করুন: খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ার বদলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধীরে হাঁটুন। এতে হজমক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং পেটের
ঈদ, দাওয়াত বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে অনেক সময় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাংস খাওয়া হয়ে যায়। সুস্বাদু খাবারের লোভ সামলানো কঠিন হলেও অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর অনেকেরই বদহজম, পেট ফাঁপা, গ্যাস, বুকজ্বালা বা অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
বিশেষ করে গরু বা খাসির মাংস তুলনামূলক বেশি চর্বিযুক্ত হওয়ায় হজম হতে সময় লাগে। ফলে পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বিভিন্ন ধরনের হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কেন বেশি মাংস খেলে বদহজম হয়?
মাংসে প্রচুর প্রোটিন ও চর্বি থাকে। শরীরকে এগুলো ভাঙতে তুলনামূলক বেশি সময় ও শক্তি ব্যয় করতে হয়। একসঙ্গে অতিরিক্ত পরিমাণে মাংস খেলে পাকস্থলী দীর্ঘ সময় খাবার ধরে রাখে, ফলে-
- পেট ভারী লাগে
- গ্যাস ও পেট ফাঁপা হয়
- বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটি দেখা দেয়
- বমি বমি ভাব হতে পারে
- কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে
দ্রুত স্বস্তি পাওয়ার উপায়
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন: অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়। তবে একবারে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে পান করা ভালো।
- হালকা হাঁটাহাঁটি করুন: খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ার বদলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধীরে হাঁটুন। এতে হজমক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং পেটের অস্বস্তি কমতে সাহায্য করে।
- আদা খেতে পারেন: আদা প্রাকৃতিকভাবে হজমে সহায়ক। এক কাপ কুসুম গরম পানিতে আদা দিয়ে চা তৈরি করে পান করলে গ্যাস ও বমি বমি ভাব কিছুটা কমতে পারে।
- গরম পানি বা হারবাল চা: কুসুম গরম পানি, পুদিনা চা বা মৌরি-যুক্ত হারবাল চা হজমে সাহায্য করতে পারে এবং পেট ফাঁপা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
- পরবর্তী খাবার হালকা রাখুন: যদি দুপুরে বেশি মাংস খাওয়া হয়ে যায়, তাহলে রাতের খাবারে সবজি, সালাদ, ফল বা হালকা স্যুপ রাখার চেষ্টা করুন। এতে হজমতন্ত্র কিছুটা বিশ্রাম পাবে।
আরও পড়ুন:
- আপেলের বীজ খেলে কি সত্যিই বিষক্রিয়া হয়?
- গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে যেসব খাবার
- স্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সতর্ক সংকেত দেয়
যা করা উচিত নয়
- খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া
- অতিরিক্ত কোমল পানীয় পান করা
- একসঙ্গে আরও ভারী বা তেলযুক্ত খাবার খাওয়া
- অযথা ওষুধ সেবন করা
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণ বদহজম কয়েক ঘণ্টা বা এক-দুই দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে যদি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, বুকে তীব্র ব্যথা, দীর্ঘসময় ধরে পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্য,রক্তমিশ্রিত বমি বা পায়খানা-এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়
মাংস যতই পছন্দের হোক, পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। মাংসের সঙ্গে পর্যাপ্ত সালাদ, শাকসবজি ও পানি গ্রহণ করলে হজম সহজ হয়। ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাসও বদহজমের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর বদহজম হওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে কিছু সহজ অভ্যাস, যেমন- পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা হাঁটাহাঁটি এবং পরবর্তী খাবারে সংযম-দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে। আর যদি উপসর্গ গুরুতর হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জেএস/
What's Your Reaction?