ব্যক্তিগত অডিও প্রকাশ ঠেকাতে করা বাইডেনের মামলা খারিজ

স্মৃতিকথা লেখার সময় রেকর্ড করা ব্যক্তিগত অডিও প্রকাশ ঠেকাতে আদালতে মামলা ঠুকেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক।  শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ ড্যাবনি ফ্রিডরিখ রায়ে বলেন, ওই অডিও রেকর্ড ও প্রতিলিপি জনস্বার্থে প্রকাশ করা যেতে পারে। ফলে রক্ষণশীল চিন্তাকেন্দ্র হেরিটেজ ফাউন্ডেশন তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সেগুলো পেতে বাধা থাকছে না। বাইডেন তার ঘোস্টরাইটার মার্ক জওনিটজারের সঙ্গে ২০১৭ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘Promise Me, Dad: A Year of Hope, Hardship, and Purpose’ লেখার সময় এসব রেকর্ড করেছিলেন। তখন তিনি সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না। ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক ফ্রিডরিখ স্বীকার করেন, এসব রেকর্ড প্রকাশ পেলে বাইডেনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনামের ক্ষতি হতে পারে। তবে তিনি বলেন, জনস্বার্থের তুলনায় সেই ক্ষতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। রায়ে বলা হয়, নিজ বাড়িতে একজন জনপরিচিত ব্যক্তির খোলামেলা বক্তব্য প্রকাশে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে তা এতটা অপূরণীয় নয় যে প্রকাশ বন্ধ রাখতে হবে। বাইডেনের আইনজীবীরা আদা

ব্যক্তিগত অডিও প্রকাশ ঠেকাতে করা বাইডেনের মামলা খারিজ
স্মৃতিকথা লেখার সময় রেকর্ড করা ব্যক্তিগত অডিও প্রকাশ ঠেকাতে আদালতে মামলা ঠুকেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক।  শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ ড্যাবনি ফ্রিডরিখ রায়ে বলেন, ওই অডিও রেকর্ড ও প্রতিলিপি জনস্বার্থে প্রকাশ করা যেতে পারে। ফলে রক্ষণশীল চিন্তাকেন্দ্র হেরিটেজ ফাউন্ডেশন তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সেগুলো পেতে বাধা থাকছে না। বাইডেন তার ঘোস্টরাইটার মার্ক জওনিটজারের সঙ্গে ২০১৭ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘Promise Me, Dad: A Year of Hope, Hardship, and Purpose’ লেখার সময় এসব রেকর্ড করেছিলেন। তখন তিনি সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না। ২৬ পৃষ্ঠার রায়ে বিচারক ফ্রিডরিখ স্বীকার করেন, এসব রেকর্ড প্রকাশ পেলে বাইডেনের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সুনামের ক্ষতি হতে পারে। তবে তিনি বলেন, জনস্বার্থের তুলনায় সেই ক্ষতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। রায়ে বলা হয়, নিজ বাড়িতে একজন জনপরিচিত ব্যক্তির খোলামেলা বক্তব্য প্রকাশে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে তা এতটা অপূরণীয় নয় যে প্রকাশ বন্ধ রাখতে হবে। বাইডেনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, একজন বর্তমান বা সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টেরও ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। তারা বলেন, বিচার বিভাগ অপরাধ তদন্তে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। ২০২৩ সালে বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট হার বাইডেনের বিরুদ্ধে গোপন নথি ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের সময় এসব অডিও ও প্রতিলিপি সংগ্রহ করেন। তদন্তে বাইডেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানালেও হার তার প্রতিবেদনে বাইডেনকে ‘সহানুভূতিশীল কিন্তু স্মৃতিশক্তি দুর্বল এক বৃদ্ধ ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর থেকেই বাইডেনের বয়স ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বাইডেনের অসংলগ্ন মন্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। পরে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এবং তার স্থলাভিষিক্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন। তবে বাইডেন বরাবরই দাবি করে আসছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি সক্ষম ছিলেন। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বাইডেনের বয়স ও মানসিক সক্ষমতার বিষয়টি সামনে এনে তার সময়কার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা বলেছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউস জুডিশিয়ারি কমিটিও একই রেকর্ড সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার সময় বাইডেনের বয়স ছিল ৮২ বছর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব শেষ করেন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলে ট্রাম্প তার চেয়েও বেশি বয়সে প্রেসিডেন্ট থাকবেন। বাইডেন শুক্রবারের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow