ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে কোনো সুযোগই অস্ট্রেলিয়াকে দেয়নি টাইগাররা
বিশ্ব এখন হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দিকে। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালে অনেকে হয়তো বিশ্বাসই করতে চাইবে না। কেউ কেউ ভাবতে পারেন, স্কোরকার্ডের সংখ্যাগুলো উল্টো লেখা হলো কি না! যে স্কোরটা অস্ট্রেলিয়ার নামের পাশে লেখা হওয়ার কথা, সেটা কী ভুলে বাংলাদেশের নামের পাশে লিখে ফেললো? আর বাংলাদেশেরটা অস্ট্রেলিয়ার নামের পাশে? অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সমর্থকরা চিমটি কেটে হয়তো দেখছে যে, যা দেখছে তা স্বপ্ন দেখছে না তো আবার! বাংলাদেশের সমর্থকদের পক্ষেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার জোগাড়। এমন অবিশ্বাস্য টেস্ট জয়, খোদ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে- কখনো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পেরেছে কেউ? আরও পড়ুন ডারউইন টেস্ট / পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দলের গো-হারা হারের পর, মূল টেস্ট ম্যাচ নিয়ে স্বপ্ন দেখাটাও তো ছিল অন্যায়। কিন্তু বেরসিক কবি যে আগেই লিখে গিয়ে গিয়েছিলেন, ‘মেঘ দেখে করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।’ নাজমুল হোসেন শান্তরা প্রস্তুতি ম্যাচে সূর
বিশ্ব এখন হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দিকে। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের স্কোরবোর্ডের দিকে তাকালে অনেকে হয়তো বিশ্বাসই করতে চাইবে না। কেউ কেউ ভাবতে পারেন, স্কোরকার্ডের সংখ্যাগুলো উল্টো লেখা হলো কি না! যে স্কোরটা অস্ট্রেলিয়ার নামের পাশে লেখা হওয়ার কথা, সেটা কী ভুলে বাংলাদেশের নামের পাশে লিখে ফেললো? আর বাংলাদেশেরটা অস্ট্রেলিয়ার নামের পাশে?
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সমর্থকরা চিমটি কেটে হয়তো দেখছে যে, যা দেখছে তা স্বপ্ন দেখছে না তো আবার! বাংলাদেশের সমর্থকদের পক্ষেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার জোগাড়। এমন অবিশ্বাস্য টেস্ট জয়, খোদ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে- কখনো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পেরেছে কেউ?
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ দলের গো-হারা হারের পর, মূল টেস্ট ম্যাচ নিয়ে স্বপ্ন দেখাটাও তো ছিল অন্যায়। কিন্তু বেরসিক কবি যে আগেই লিখে গিয়ে গিয়েছিলেন, ‘মেঘ দেখে করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে।’
নাজমুল হোসেন শান্তরা প্রস্তুতি ম্যাচে সূর্যকে মেঘে ঢেকে দিয়ে দিয়েছিলেন। আর সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচে সেই সূর্যটাকে বের করে এনে নিজেরাই বগলদাবা করলেন। রীতিমত ইতিহাস গড়ে। ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে। অথচ টেস্টের বাকি ছিল পুরো দেড়টি দিন।
চতুর্থ দিনের অর্ধেক খেলা হলো। পুরো খেলার মধ্যে কোনো একটি অংশে অস্ট্রেলিয়াকে উপরে উঠতে দেয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এতটা প্রভাব বিস্তার করে, এতটা ডমিনেটিং ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশের টেস্ট জয় অবিশ্বাস্য নয় তো কি!
প্রথম ইনিংসে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচটি মিস করেছিলেন তানজিদ তামিম। পুরো ম্যাচে হয়তো ওই একটিই কালো দাগ লেগেছিল। না হয়, পুরো ম্যাচের আর কোনো অংশেই কোনো ভুল করেনি বাংলাদেশ। বোলিংয়ে তো বিশ্বের সেরা পারফরম্যান্স দেখালেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, মেহেদী মিরাজ এবং তাইজুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের মাথা উঁচু করেই দাঁড়াতে দেননি। প্রথম ইনিংসে স্মিথ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন হয়তো মাথা তুলে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন; কিন্তু তাদেরকে একেবারে মহীরুহ হয়ে উঠতে দেনটি টাইগার বোলাররা। স্মিথ ৭১ রান করেছিলেন, গ্রিন করেছিলেন ১০৪ রান। কিন্তু তাদের এই দুটি ইনিংস লড়াইয়ের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে কেবল, অস্ট্রেলিয়ার পরাজয় ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
বোলিংয়ে যেমন বাংলাদেশের বোলাররা ছিলেন সবচেয়ে বিধ্বংসী, তেমনি ব্যাটিংয়ে ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা অসাধারণ, পারফেক্ট টেস্ট ব্যাটার। তানজিদ তামিম শুরুতেই একটা পাগলামি করতে গিয়েছিলেন। মাত্র ২ রানের মাথায় ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। ভাগ্য ভালো, নাথান লায়ন সেই ক্যাচটা মিস করেছিলেন।
সেই ক্যাচ মিসটাই অস্ট্রেলিয়ার জন্য হয়ে গেলো ম্যাচ মিসের সমান। তানজিদ তামিম টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করলেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের বোলারদের মোকাবেলা করে। মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স, ক্যামেরন গ্রিন- এরা বিশ্বের যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপের জন্য আতঙ্ক। সেখানে তামিম খেললেন সেঞ্চুরির অসাধারণ ইনিংস।
মুমিনুল হক ১ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি মিস করলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রান এবং শেষ দিকে মেহেদী মিরাজের ৬৫ রানের ক্যামিও ইনিংস বাংলাদেশকে একটি বড় টেস্ট প্লেইং দেশের কাতারেই তুলে দিলে দিলো। সে সঙ্গে হাসান মাহমুদ ১৪ রান করলেও তার ৯২টি বল মোকাবেলা চাট্টিখানি কথা নয়।
১৯৮ রানের বিপরীতে ৪২৬ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ যেন অস্ট্রেলিয়ার আসনটাই দখল করে নিয়েছিল প্রথম ইনিংসে। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে ২২৮ রান। ঘরের মাঠে এমন পরিস্থিতিতে নিকট অতীতে তারা পড়েছে কি না সন্দেহ।
২২৮ রান পাড়ি দিতেই অস্ট্রেলিয়াকে খোয়াতে হয়েছিল ৭টা উইকেট। বাকি ৩ উইকেট দিয়ে যোগ করতে পারলো আর মাত্র ৫৬ রান। স্মিথ (৪৪), গ্রিন (১০৪), ক্যারে (৩০)- এরা চেষ্টা করেছিলেন- অস্ট্রেলিয়ার লজ্জা বাঁচাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের লড়াই বৃথা গেলো বাংলাদেশের ঘূর্ণি মাস্টার মেহেদী হাসান মিরাজের সামনে। প্রথম ইনিংসে বল হাঁতে কাঁপিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ, দ্বিতীয় ইনিংসে ঘূর্নি বলের মায়াজালে বেধেছিলেন মিরাজ। সঙ্গে হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিং তো ছিলই। অস্ট্রেলিয়া ব্যাটারদের কাঁপাকাঁপি ছিল দেখার মতো।
বাংলাদেশ দলের ফিল্ডাররাও ছিলেন বেশ ক্ষিপ্র, সচেতন। এমন একটি সুযোগ হেলায় হারিয়ে যেতে পারতো ফিল্ডারদের ব্যর্থতায়। দু-একটি ছোট-খাট ভুল-চুক হয়েছিল হয়তো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে নিঃসন্দেহে ভালো ফিল্ডিং করেছে টাইগার ফিল্ডাররা। যার কারণে এমন ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারলো তারা।
লক্ষ্য মাত্র ৫৭ রানের। তানজিদ তামিম শূন্য রানে আউট হলেও সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক আর বিপদ ঘটাতে দেননি। বাংলাদেশকে এনে দিলেন অস্ট্রেলিয়ারই ঘরের মাটিতে, অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর গৌরবময় একটি বিজয়।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?


