ব্রাজিলও আমার, আর্জেন্টিনাও আমার

সামছুল আলম শিমুল আমার ছোটবোন হৃদির বয়স নয় বছর। ফুটবলের ‘ফ’ও সে ঠিকমতো বোঝে না। অফসাইড, কর্নার, ফাউল-এসব তো বুঝেই না, গোলটাও ঠিকমতো বোঝে না। মাঠে যে দলই গোল করুক, সে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। ব্রাজিল গোল দিলে সে হাততালি দেয়। আর্জেন্টিনা গোল দিলেও হাততালি দেয়। এমনকি রিপ্লেতে দেখানো গোলের দৃশ্য দেখেও সে উল্লাস করে। তার কাছে গোল মানেই আনন্দ। কে দিল, কার বিরুদ্ধে দিল এসব নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। ফুটবলের নিয়ম না বুঝলেও জার্সির ব্যাপারে হৃদি একেবারে ওস্তাদ। হলুদ জার্সি দেখলেই বলে ব্রাজিল। আকাশি-সাদা দেখলে বলে আর্জেন্টিনা। কোন দেশের কোন জার্সি, তা সে আশ্চর্যভাবে চিনে ফেলতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, শুধু চিনলেই তার মন ভরে না। জার্সি কিনেও দিতে হয়। আরও পড়ুন ব্রাজিল না ছাড়লে প্রেমিকা থাকবে না বিশ্বকাপ শুরুর আগে তার জার্সি ছিল মাত্র একটা। কয়েক দিনের মধ্যে সেটা তিনটিতে পৌঁছাল। তারপর পাঁচটি। তারপর সাতটি। তারপর... আমাদের আলমারির একটি পুরো তাক এখন শুধু হৃদির জার্সির দখলে। জার্সিগুলো সে এমন যত্ন করে রাখে, যেন সেগুলো কোনো মূল্যবান ধন। একদিন দুপুরে আমি তার ঘরে গিয়ে দেখি, সব জার্সি বিছানার ওপর সুন্দ

ব্রাজিলও আমার, আর্জেন্টিনাও আমার

সামছুল আলম শিমুল

আমার ছোটবোন হৃদির বয়স নয় বছর। ফুটবলের ‘ফ’ও সে ঠিকমতো বোঝে না। অফসাইড, কর্নার, ফাউল-এসব তো বুঝেই না, গোলটাও ঠিকমতো বোঝে না। মাঠে যে দলই গোল করুক, সে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে।

ব্রাজিল গোল দিলে সে হাততালি দেয়। আর্জেন্টিনা গোল দিলেও হাততালি দেয়। এমনকি রিপ্লেতে দেখানো গোলের দৃশ্য দেখেও সে উল্লাস করে। তার কাছে গোল মানেই আনন্দ। কে দিল, কার বিরুদ্ধে দিল এসব নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

ফুটবলের নিয়ম না বুঝলেও জার্সির ব্যাপারে হৃদি একেবারে ওস্তাদ। হলুদ জার্সি দেখলেই বলে ব্রাজিল। আকাশি-সাদা দেখলে বলে আর্জেন্টিনা। কোন দেশের কোন জার্সি, তা সে আশ্চর্যভাবে চিনে ফেলতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, শুধু চিনলেই তার মন ভরে না। জার্সি কিনেও দিতে হয়।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে তার জার্সি ছিল মাত্র একটা। কয়েক দিনের মধ্যে সেটা তিনটিতে পৌঁছাল। তারপর পাঁচটি। তারপর সাতটি। তারপর... আমাদের আলমারির একটি পুরো তাক এখন শুধু হৃদির জার্সির দখলে। জার্সিগুলো সে এমন যত্ন করে রাখে, যেন সেগুলো কোনো মূল্যবান ধন।

একদিন দুপুরে আমি তার ঘরে গিয়ে দেখি, সব জার্সি বিছানার ওপর সুন্দর করে সাজানো। হৃদি বসে বসে সেগুলো গুনছে। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো সে কোনো খেলা খেলছে। কিন্তু না। সে খুব মনোযোগ দিয়ে হিসাব করছে। অনেকক্ষণ গুনে-গেঁথে সে একটা খাতা বের করল। তারপর সেখানে কিছু সংখ্যা লিখল। আবার জার্সিগুলো গুনলো। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেললো। আমি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে। হৃদি জানাল, বিশ্বকাপে যতগুলো দেশ খেলছে, তার কাছে ততগুলো দেশের জার্সি নেই। তাই হিসাব করছে আর কতগুলো লাগবে।

আমি বললাম, এত জার্সি দিয়ে কী হবে? সে এমনভাবে তাকাল, যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না।
এরপর থেকে তার নতুন মিশন শুরু হলো। যে দেশের জার্সি নেই, সেই দেশের জার্সি সংগ্রহ। মাঝে মাঝে এসে আমাকে জানায়, তার সংগ্রহ কতদূর এগোল।

একদিন সন্ধ্যায় দেখি, সে আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে খুব খুশি। কারণ জানতে চাইলে বললো, এখন তার কাছে এতগুলো দেশের জার্সি হয়েছে যে চাইলে সে পুরো একটা ছোটখাটো বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে।

তারপর আরেকদিন সকালে গিয়ে দেখি, হৃদি তার সব জার্সি বিছানায় ছড়িয়ে রেখেছে। তারপর একটার ওপর আরেকটা জার্সি পরার চেষ্টা করছে। ব্রাজিলের ওপর আর্জেন্টিনা, তার ওপর জার্মানি, তারপর পর্তুগাল। আমি অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইলে সে খুব স্বাভাবিকভাবে বললো, এতদিন সে শুধু জার্সি সংগ্রহ করছিল। এখন আসল কাজ শুরু হবে।

তার পরিকল্পনা শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।

হৃদি ঠিক করেছে, সব দেশের জার্সি একসঙ্গে পরে নেবে। তাহলে আর কোনো দলকে আলাদা করে সমর্থন করতে হবে না। কারণ তখন ব্রাজিলও তার, আর্জেন্টিনাও তার, জার্মানিও তার, ফ্রান্সও তার। অর্থাৎ এক দলের সমর্থক হওয়ার চেয়ে পুরো বিশ্বকাপের মালিক হওয়াই বেশি লাভজনক! হৃদি এখন সেই পথেই হাঁটছে।

আর আমি বসে বসে ভাবছি-ফুটবলটা আসলে কম বুঝে কে, হৃদি নাকি আমি?

প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow