ব্রিটিশ ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর শর্ত মানতে রাজি ৩ দেশ

ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির মুখে যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে তিনটি আফ্রিকান দেশ। দেশগুলো হলো অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি)। খবর বিবিসির।  যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের কঠোর অবস্থানের পর প্রথমে গত ডিসেম্বর অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতায় রাজি হয়। সর্বশেষ ডিআরসিও একই ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চুক্তির পর শাবানা মাহমুদ বলেন, কোনো দেশ যদি নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার ভাষায়, অবৈধ অভিবাসী ও বিপজ্জনক অপরাধীদের এখন অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও ডিআরসিতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। এর আগে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, এসব দেশের ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো সম্পন্ন না করা বা অভিবাসীদের দিয়ে নিজেরাই নথিতে স্বাক্ষর করানোর শর্ত আরোপ করায় কার্যত প্রত্যাবাসন আটকে যাচ্ছিল। এ অবস্থাকে তারা অগ্রহণযোগ্য ও বাধাদানমূলক বলে আখ্যা দিয়েছিল। গত নভেম্বর আশ্রয়ব্যবস্থা সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে স

ব্রিটিশ ভিসা নিষেধাজ্ঞার হুমকির পর শর্ত মানতে রাজি ৩ দেশ

ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির মুখে যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে তিনটি আফ্রিকান দেশ। দেশগুলো হলো অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি)। খবর বিবিসির। 

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের কঠোর অবস্থানের পর প্রথমে গত ডিসেম্বর অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতায় রাজি হয়। সর্বশেষ ডিআরসিও একই ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চুক্তির পর শাবানা মাহমুদ বলেন, কোনো দেশ যদি নিজেদের নাগরিকদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার ভাষায়, অবৈধ অভিবাসী ও বিপজ্জনক অপরাধীদের এখন অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও ডিআরসিতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে।

এর আগে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, এসব দেশের ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো সম্পন্ন না করা বা অভিবাসীদের দিয়ে নিজেরাই নথিতে স্বাক্ষর করানোর শর্ত আরোপ করায় কার্যত প্রত্যাবাসন আটকে যাচ্ছিল। এ অবস্থাকে তারা অগ্রহণযোগ্য ও বাধাদানমূলক বলে আখ্যা দিয়েছিল।

গত নভেম্বর আশ্রয়ব্যবস্থা সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করবে না, তাদের ওপর ভিসা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে। এর মধ্যে উচ্চমাত্রার আশ্রয়প্রার্থীর দেশগুলোর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ভিসা বন্ধের ব্যবস্থাও রয়েছে।

সরকারের দাবি, এই তিন দেশের সহযোগিতার ফলে তিন হাজারের বেশি ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হতে পারে। সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্য থেকে মোট ৩৬ হাজার ৪৭৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ছিলেন বিদেশি অপরাধী। তাদের প্রায় অর্ধেক ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর নাগরিক এবং বাকি অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, বাংলাদেশ, সোমালিয়া ও গ্যাবন এখনো প্রত্যাবাসন চুক্তিতে অনাগ্রহী। এসব দেশের বিরুদ্ধেও ভবিষ্যতে ভিসা বা অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার মনে করছে, অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে পারলে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় দেশটিতে প্রবেশের প্রবণতা কমবে। গত বছর এ পথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায় ৪১ হাজার ৪৭২ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।

এদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ ব্যাখ্যার পদ্ধতি নতুন করে নির্ধারণে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো সহজ হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow