ভাতের মাড়ের সঙ্গে যেসব উপাদান মেশালে ত্বক টানটান থাকবে
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই কোলাজেনের উৎপাদন কমতে শুরু করে। এর ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়, দেখা দেয় বলিরেখা, সূক্ষ্ম রেখা, কালচে দাগ এবং ত্বক ঝুলে যাওয়ার মতো সমস্যা। ৪০ বছর বয়সের পর অনেকেই ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে দামি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম, কেমিক্যাল সিরাম বা বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়ালের ওপর নির্ভর করেন। অথচ আমাদের রান্নাঘরেই এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা অনেকেই প্রতিদিন ফেলে দেন। সেটি হলো ভাতের মাড়। কোরিয়ান স্কিনকেয়ারে বহু বছর ধরেই চালের পানি ও ভাতের মাড় সৌন্দর্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা ভিটামিন বি, অ্যামিনো অ্যাসিড, খনিজ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ত্বককে কোমল রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল, ভিটামিন ই এবং সামান্য কাঠবাদামের তেলের সঙ্গে এটি মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক আরও মসৃণ ও সতেজ দেখাতে পারে। যেভাবে তৈরি করবেন ভাতের মাড়ের প্যাক ভাত রান্নার সময় ঘন মাড় থেকে ২ টেবিল চামচ আলাদা করে নিন। মাড়টি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। এরপর এতে ১ টেবিল চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল যোগ করুন। এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা খাঁটি কাঠব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে স্বাভাবিকভাবেই কোলাজেনের উৎপাদন কমতে শুরু করে। এর ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়, দেখা দেয় বলিরেখা, সূক্ষ্ম রেখা, কালচে দাগ এবং ত্বক ঝুলে যাওয়ার মতো সমস্যা।
৪০ বছর বয়সের পর অনেকেই ত্বকের টানটান ভাব ধরে রাখতে দামি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম, কেমিক্যাল সিরাম বা বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়ালের ওপর নির্ভর করেন। অথচ আমাদের রান্নাঘরেই এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যা অনেকেই প্রতিদিন ফেলে দেন। সেটি হলো ভাতের মাড়।
কোরিয়ান স্কিনকেয়ারে বহু বছর ধরেই চালের পানি ও ভাতের মাড় সৌন্দর্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা ভিটামিন বি, অ্যামিনো অ্যাসিড, খনিজ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং ত্বককে কোমল রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল, ভিটামিন ই এবং সামান্য কাঠবাদামের তেলের সঙ্গে এটি মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক আরও মসৃণ ও সতেজ দেখাতে পারে।
যেভাবে তৈরি করবেন ভাতের মাড়ের প্যাক
ভাত রান্নার সময় ঘন মাড় থেকে ২ টেবিল চামচ আলাদা করে নিন। মাড়টি পুরোপুরি ঠান্ডা হতে দিন। এরপর এতে ১ টেবিল চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল যোগ করুন। এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা খাঁটি কাঠবাদামের তেল এবং একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ভেতরের তেল মিশিয়ে নিন। সব উপকরণ একটি চামচ দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে ক্রিমের মতো মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করুন।
যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা এই মিশ্রণে ১ চা-চামচ খাঁটি মধু যোগ করতে পারেন। মধু ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে আরও কোমল করে।
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিলে উজ্জ্বলতা ফিরতে পারে
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
প্যাক লাগানোর আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। মৃদু ফেসওয়াশ, বেসন বা আপনার ত্বকের উপযোগী ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে নিন।
এরপর পুরো মুখ ও গলায় সমানভাবে প্যাকটি লাগান। চোখ ও ঠোঁটের চারপাশের অংশ এড়িয়ে চলুন।
১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। প্যাকটি শুকিয়ে এলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।
প্যাকের উপকারিতা
ভাতের মাড়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল দেখাতে ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যালোভেরা জেলে রয়েছে প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, যা ত্বককে শান্ত রাখতে এবং সূক্ষ্ম রেখার দৃশ্যমানতা কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ভিটামিন ই ত্বককে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং কাঠবাদামের তেল ত্বককে পুষ্টি জোগায়। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে মধু বাড়তি আর্দ্রতা ধরে রাখতে কার্যকর হতে পারে।
সতর্কতা
যদিও এটি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি, তবুও প্রথমবার ব্যবহারের আগে হাতে বা কানের পেছনে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো।
যাদের ত্বক খুব সংবেদনশীল বা কোনো ত্বকের রোগ রয়েছে, তারা নতুন কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ভাতের মাড়ের এই প্যাক ত্বকের যত্নে সহায়ক একটি ঘরোয়া উপায় হলেও এটি চিকিৎসা বা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার বিকল্প নয়। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ভালো ঘুমের সঙ্গে এই ধরনের প্রাকৃতিক পরিচর্যা যুক্ত করলে ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, বি বিউটিফুল ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?

