ভারতের কতটা জমি নিয়েছে চীন? মোদীকে জবাব দিতে বললেন তারই সাবেক মন্ত্রী
অরুণাচলে চীনা বাহিনী কতটা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকেছে, তা স্পষ্ট করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিং। তিনি জানতে চেয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের তাকসিং এলাকায় শেরা পয়েন্ট ৫ ছাড়াও আর কোনো টহল পয়েন্টে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ চীনা বাহিনী বন্ধ করে দিয়েছে কি না। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এসব প্রশ্ন তোলেন আর কে সিং। তার দাবি, ভারতের কোনো টহল পয়েন্ট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। আরও পড়ুন দিল্লিতে রিপোর্ট / চীনের কাছে জমি হারাচ্ছে ভারত, ২৬টি পেট্রোলিং পয়েন্ট হাতছাড়া আর কে সিং বলেন, শেরা পয়েন্ট ৫-ই কি একমাত্র টহল পয়েন্ট, যেটি চীনা বাহিনী দখল করেছে? নাকি ২০১৪ সালের আগে ভারতীয় সেনারা যেসব টহল পয়েন্টে নিয়মিত যেত, সেগুলোর আরও কিছু বর্তমান সরকার ছেড়ে দিয়েছে? শেরা পয়েন্ট ৫ অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ টহল পয়েন্ট। তিব্বত সীমান্তের কাছে তাকসি
অরুণাচলে চীনা বাহিনী কতটা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকেছে, তা স্পষ্ট করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিং। তিনি জানতে চেয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের তাকসিং এলাকায় শেরা পয়েন্ট ৫ ছাড়াও আর কোনো টহল পয়েন্টে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ চীনা বাহিনী বন্ধ করে দিয়েছে কি না।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এসব প্রশ্ন তোলেন আর কে সিং। তার দাবি, ভারতের কোনো টহল পয়েন্ট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে।
আর কে সিং বলেন, শেরা পয়েন্ট ৫-ই কি একমাত্র টহল পয়েন্ট, যেটি চীনা বাহিনী দখল করেছে? নাকি ২০১৪ সালের আগে ভারতীয় সেনারা যেসব টহল পয়েন্টে নিয়মিত যেত, সেগুলোর আরও কিছু বর্তমান সরকার ছেড়ে দিয়েছে?
শেরা পয়েন্ট ৫ অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ টহল পয়েন্ট। তিব্বত সীমান্তের কাছে তাকসিং হলো ভারতের শেষ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর একটি।
সম্প্রতি ওই এলাকায় ভারত ও চীনা বাহিনীর মধ্যে অচলাবস্থার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে আর কে সিং বলেন, তাকসিংয়ের শেরা ৫-এ ভারতীয় বাহিনী টহল দেওয়া বন্ধ করেছে এবং সেখানে চীনা বাহিনী স্থায়ী উপস্থিতি তৈরি করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু সরকারের নয়, পুরো দেশের উদ্বেগের কারণ। ২০১৪ সালের পর ভারত কতগুলো টহল পয়েন্ট ছেড়ে দিয়েছে, সরকারকে সেই হিসাবও দিতে হবে।
‘টহল পয়েন্ট ছেড়ে দেওয়া মানে দাবি ছেড়ে দেওয়া’
সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আর কে সিং বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় আট বছর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাত বছর কাজ করেছেন তিনি। তাই সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তিনি জানেন।
pic.twitter.com/DYcLtb4lVg — R. K. Singh (@RajKSinghIndia) August 12, 2026
তার ব্যাখ্যা, ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। চীন অরুণাচল প্রদেশের ওপরও বড় ধরনের দাবি করে আসছে। দুই দেশের সীমান্তের অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ধারণার কারণে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি বরাবর দুই দেশই নিয়মিত টহল চালায়।
এসব টহলের মাধ্যমে প্রতিটি দেশ তাদের দাবির সীমারেখা স্পষ্ট করে। ফলে কোনো টহল পয়েন্ট ছেড়ে দিলে এবং সেখানে অন্য পক্ষ স্থায়ীভাবে অবস্থান নিলে সেটি ওই এলাকার ওপর নিজেদের দাবি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, একটি টহল পয়েন্ট ছেড়ে দেওয়ার খবর এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এখন দেশের মানুষ জানতে চায়, ২০১৪ সালের পর সরকার আর কতগুলো টহল পয়েন্ট ছেড়ে দিয়েছে।
মোদী সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন
ভিডিওবার্তায় সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস, সক্ষমতা ও সংকল্পের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তার প্রশ্ন সেনাবাহিনীকে নিয়ে নয়; বরং মোদী সরকারের নীতি, উদ্দেশ্য ও জবাবদিহি নিয়ে।
আর কে সিং আরও প্রশ্ন তোলেন, একদিকে চীনা বিনিয়োগের জন্য সরকার সুযোগ তৈরি করছে এবং উৎপাদননির্ভর প্রণোদনা বা পিএলআই প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে ভারতের ভূখণ্ড ও টহল পয়েন্টে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি উপেক্ষা করা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।
তিনি বলেন, চীন নিয়ে মোদী সরকারের প্রকৃত নীতি কী, তা দেশের মানুষ জানতে চায়।
বিরোধীদের সমর্থন
আর কে সিংয়ের বক্তব্য প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলোর নেতারাও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র অখিলেশ সিং বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব ও মোদী সরকারের সাবেক মন্ত্রী যখন অরুণাচল নিয়ে এত গুরুতর অভিযোগ তুলছেন, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য পবন খেরা ও রণদীপ সিং সুরজেওয়ালাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন।
পবন খেরা প্রশ্ন করেন, অরুণাচল প্রদেশে চীনের মাধ্যমে ভারতের মানচিত্রের যে পরিবর্তন ঘটছে, তা নিয়ে নরেন্দ্র মোদী নিজে কবে আপত্তি জানাবেন।
সুরজেওয়ালা বলেন, আর কে সিং মোদী সরকারে সাত বছর মন্ত্রী ছিলেন এবং স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। তিনি যখন অরুণাচলে চীনের ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ ও জমি দখলের অভিযোগ তুলছেন, তখন সরকার নীরব কেন—দেশের মানুষের তা জানার অধিকার রয়েছে।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
কেএএ/
What's Your Reaction?


