ভারতের কেরালা-পশ্চিমবঙ্গ নিপাহ ভাইরাসের জন্য ‘এন্ডেমিক’

ভারতে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দেশটির শীর্ষ চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ—এই দুই রাজ্যই নিপাহ ভাইরাসের জন্য এন্ডেমিক বা স্থায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এআইআইএমএস বিলাসপুরের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের জাতীয় টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের কোভিড-১৯ ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. নরেন্দ্র কুমার অরোরা এক সাক্ষাৎকারে জানান, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক নিপাহ প্রাদুর্ভাবের ঘটনা প্রথম ধরা পড়ে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে। তিনি বলেন, অজ্ঞাত রোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ওই পাঁচ স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হন। এ ঘটনার পর আরও ১০০ থেকে ২০০ জন ব্যক্তি ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। আরও পড়ুন>>ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস, শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপভারতে নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে কড়াকড়িনিপাহ ভাইরাস কী, ভারতে প্রাদুর্ভাবে অন্য দেশগুলো উদ্বিগ্ন কেন? ডা. অরোরা জানান, নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, যা ৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতা

ভারতের কেরালা-পশ্চিমবঙ্গ নিপাহ ভাইরাসের জন্য ‘এন্ডেমিক’

ভারতে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দেশটির শীর্ষ চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ—এই দুই রাজ্যই নিপাহ ভাইরাসের জন্য এন্ডেমিক বা স্থায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা।

এআইআইএমএস বিলাসপুরের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের জাতীয় টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের কোভিড-১৯ ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. নরেন্দ্র কুমার অরোরা এক সাক্ষাৎকারে জানান, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক নিপাহ প্রাদুর্ভাবের ঘটনা প্রথম ধরা পড়ে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে।

তিনি বলেন, অজ্ঞাত রোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর ওই পাঁচ স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হন। এ ঘটনার পর আরও ১০০ থেকে ২০০ জন ব্যক্তি ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন>>
ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস, শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ভারতে নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এশিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে কড়াকড়ি
নিপাহ ভাইরাস কী, ভারতে প্রাদুর্ভাবে অন্য দেশগুলো উদ্বিগ্ন কেন?

ডা. অরোরা জানান, নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, যা ৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তিনি একে অত্যন্ত সংক্রামক ও প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত দুই ধরনের জটিলতায় ভোগেন—একটি হলো এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহ, অন্যটি হলো মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এই দুই ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি।

ডা. অরোরা বলেন, নিপাহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কার্যকর টিকা নেই। তবে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হয় চিকিৎসার অংশ হিসেবে।

তবে বিশ্বজুড়ে এই মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির সরবরাহও খুবই সীমিত বলে জানিয়েছেন তিনি। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশে এই অ্যান্টিবডির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডা. অরোরা আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগির ভারতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি মজুত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব এলাকায় ফলবাদুড়ের উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে মানুষ ও প্রাণীর সংস্পর্শ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে হবে বা এড়িয়ে চলতে হবে। এতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow