ভারতের ‘বেভারেজ কিং’ রবি জয়পুরিয়ার উত্থান হলো যেভাবে

রবি জয়পুরিয়া ভারতের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী, যিনি বেভারেজ কিং অব ইন্ডিয়া বা ইন্ডিয়ার কোলা কিং নামে পরিচিত। তিনি আরজে কর্পের চেয়ারম্যান। ভারতের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় রবি জয়পুরিয়া ১৭তম স্থানে রয়েছেন। ফোর্বস রিয়েল টাইমে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন ডালারের বেশি। ২০২০ সালের পর থেকেই তার সম্পত্তির পরিমাণ বাড়তে থাকে। ২০২১ সালে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল তিন বিলিয়ন ডালারের সামান্য বেশি। ২০২৩ সালে তার সম্পত্তির পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডালার ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালে এসে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন ডালারে পৌঁছায়। ভারতের বেভারেজখাতে তিনিই শীর্ষ ধনী। তার নেতৃত্বে ভরুন বেভারেজেস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পেপসিকো বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি খাদ্য, দুগ্ধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন। রবি জয়পুরিয়া এমন একটি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যাদের মূল ব্যবসা ছিল পানীয় ও বোতলজাতকরণ শিল্প। ছোটবেলা থেকেই তিনি পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা তার ব্যবসায়িক কৌশল ও নেতৃত্বের দক

ভারতের ‘বেভারেজ কিং’ রবি জয়পুরিয়ার উত্থান হলো যেভাবে

রবি জয়পুরিয়া ভারতের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী, যিনি বেভারেজ কিং অব ইন্ডিয়া বা ইন্ডিয়ার কোলা কিং নামে পরিচিত। তিনি আরজে কর্পের চেয়ারম্যান।

ভারতের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় রবি জয়পুরিয়া ১৭তম স্থানে রয়েছেন। ফোর্বস রিয়েল টাইমে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন ডালারের বেশি। ২০২০ সালের পর থেকেই তার সম্পত্তির পরিমাণ বাড়তে থাকে।

২০২১ সালে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ছিল তিন বিলিয়ন ডালারের সামান্য বেশি। ২০২৩ সালে তার সম্পত্তির পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডালার ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালে এসে তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন ডালারে পৌঁছায়। ভারতের বেভারেজখাতে তিনিই শীর্ষ ধনী।

তার নেতৃত্বে ভরুন বেভারেজেস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পেপসিকো বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি খাদ্য, দুগ্ধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন।

রবি জয়পুরিয়া এমন একটি ব্যবসায়ী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যাদের মূল ব্যবসা ছিল পানীয় ও বোতলজাতকরণ শিল্প। ছোটবেলা থেকেই তিনি পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে পরিচিত হন।

পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা তার ব্যবসায়িক কৌশল ও নেতৃত্বের দক্ষতা আরও শক্তিশালী করে।

১৯৯৫ সালে রবি জয়পুরিয়া ভরুন বেভারেজেস প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি পেপসিকোর পণ্য বোতলজাত ও বাজারজাত করার কাজ করে।

প্রথমদিকে বাজার প্রতিযোগিতা ও সরবরাহ ব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও তিনি ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। পেপসিকোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভারতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে একচেটিয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি অধিকার লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।

আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যবসা সম্প্রসারণ ছিল তার বড় সাফল্যের একটি। আধুনিক বোতলজাত কারখানা স্থাপন ও বিস্তৃত বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে তিনি ভরুন বেভারেজেসকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেন।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বৃহত্তম পেপসি বোতলজাতকারী অংশীদারদের অন্যতম।

রবি জয়পুরিয়ার ব্যবসা শুধু পানীয় খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রতিষ্ঠান ডেভায়ানি ইন্টারন্যাশনাল ভারতের জনপ্রিয় ফাস্টফুড ব্র্যান্ড যেমন কেএফসি ও পিজ্জা হাট পরিচালনা করে।

এ ছাড়া দুগ্ধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। এসব উদ্যোগ তাকে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রবি জয়পুরিয়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে পেপসিকোর বৃহৎ বোতলজাত অধিকার পাওয়ার মাধ্যমে। পরে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পেপসিকোর বোতলজাত কার্যক্রম অধিগ্রহণ করে তিনি ব্যবসার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন।

এর ফলে ভরুন বেভারেজেস বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সফট ড্রিংক বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

তার ছেলে ভরুন জয়পুরিয়ার নামেই ভরুন বেভারেজের নামকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারতে নাইকির ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা তদারকি করছেন, যার ১১টি স্টোর রয়েছে দেশে। রবি জয়পুরিয়ার মেয়ে ডেভায়ানি জয়পুরিয়া পরিচালনা করেন ডেভায়ানি ইন্টারন্যাশনাল।

রবি জয়পুরিয়া সম্প্রতি বলেন, ভারতের পানীয় বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এতে বড় সব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

সম্প্রতি বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, রিলায়েন্সের কনজিউমার প্রডাক্ট ক্যাম্পাকোলা এবং কোকা কোলা দু’টিই ভারতের বাজারে দ্রুত এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজারে অবশ্যই প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ক্যাম্পা বাজারে এসেছে এবং তাদের বিক্রি বাড়ছে। একইভাবে কোকও বাড়ছে। আমরা দ্রুত বাড়ছি কি না জানি না, তবে বাজার খুব দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, রিলায়েন্স ২০২২ সালে আক্রমণাত্মক মূল্য কৌশল নিয়ে ক্যাম্পা কোলা পুনরায় বাজারে আনে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পুনরায় চালুর দুই বছরেরও কম সময়ে ক্যাম্পা দেশের চতুর্থ বৃহত্তম কার্বোনেটেড পানীয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্যাম্পার আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি রুপি।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন চাহিদা এবং ৩০ লাখের বেশি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক তাদের প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

রিলায়েন্সের সর্বশেষ আয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের এফএমসিজি বিভাগ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২২ হাজার কোটি রুপি আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। শুধু চতুর্থ প্রান্তিকেই আয় হয়েছে ৭ হাজার ৩৫০ কোটি রুপি।

এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে পানীয় খাত থেকে। ক্যাম্পা, প্যাকেটজাত পানি ও ফাংশনাল ড্রিংকসহ পুরো বেভারেজ বিভাগ থেকে বছরে ৬ হাজার কোটির বেশি আয় হয়েছে।

তবে রবি জয়পুরিয়া এটিকে প্রতিযোগিতার হুমকি হিসেবে নয়, বরং ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

তার ভাষ্য, ক্যাম্পা, কোকা-কোলা ও ভরুন বেভারেজেস মিলিয়ে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ নতুন কুলিং ইউনিট বাজারে যুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতারাও আরও চার থেকে পাঁচ লাখ কুলার কিনছেন। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ নতুন রেফ্রিজারেশন পয়েন্ট যুক্ত হচ্ছে, যা শুধু বাজার ভাগাভাগি নয়, বরং পানীয় গ্রহণের পরিমাণও বাড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, যে প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে বাজার সম্প্রসারণ করতে পারবে এবং শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন গড়ে তুলতে পারবে, তারাই শেষ পর্যন্ত সফল হবে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ভারতে ভরুন বেভারেজেসের বিক্রয় পরিমাণ ১৪.৪ শতাংশ বেড়েছে, যা কয়েক প্রান্তিকের মধ্যে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে তারা আরও প্রায় পাঁচ লাখ নতুন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। সাধারণত তারা বছরে তিন থেকে চার লাখ নতুন আউটলেট যুক্ত করে থাকে।

রবি জয়পুরিয়ার ধারণা, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছর ভারতীয় পানীয় বাজারে দ্বিগুণ অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এর পেছনে বাড়তি আয়, নগরায়ণ এবং মাথাপিছু পানীয় গ্রহণের তুলনামূলক কম হার বড় কারণ হিসেবে কাজ করবে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক পানীয় জায়ান্ট কোকা কোলা ভারতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি আয় এবং ৬০০ কোটির বেশি মুনাফা করেছে।

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow