ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
টানা কয়েক দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসের শঙ্কা আছে। জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, নিরাপদ আশ্রয়ে সবাইকে সরে যেতে জেলা উপজেলায় মাইকিং করা হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী এবং নদীর তীরবর্তী বসবাসকারীদের জন্য ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, বান্দরবানের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগরের অনেক ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। সেখানকার অধিবাসীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কে
টানা কয়েক দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড়ধসের শঙ্কা আছে।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, নিরাপদ আশ্রয়ে সবাইকে সরে যেতে জেলা উপজেলায় মাইকিং করা হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী এবং নদীর তীরবর্তী বসবাসকারীদের জন্য ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, বান্দরবানের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরেবাংলা নগরের অনেক ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। সেখানকার অধিবাসীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ সপরিবার নিয়ে প্রশাসন ঘোষিত আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন।
থানচি উপজেলার বলিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা থোয়াই চিং উ বলেন, উপজেলার নুতন পাড়া, হাসপাতাল রোড, বাগানপাড়া, হিন্দুপাড়াসহ অনেক পাড়ায় ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। অনেকে বলিবাজার উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া থানচির বলিপাড়ার বাগানপাড়ায় কালভার্ট ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে থানচি উপজেলার সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নৌকা করে এপার থেকে ওপারে গিয়ে আবার বাসে অনেকে বান্দরবানে যাচ্ছেন।
এদিকে রুমা উপজেলার বাসিন্দা উবাসিং মার্মা বরেন, রুমা সদরঘাট থেকে রুমা বাসস্টেশন এলাকার একটি সেতু ডুবে যাওয়ায় উপজেলা বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ওই জায়গায় নৌকার মাধ্যমে মানুষ যাতায়াত করছে।
বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার বলেন, উপজেলায় ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৯০ পরিবারের প্রায় ৭০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে জেলা-উপজেলাগুলোয় অতি ভারী এবং মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বসবাসকারীদের সরে আসার জন্য জেলা উপজেলায় প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ সকাল ৯টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫.৭৫ উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
What's Your Reaction?