‘ভিক্ষা নয় কাজ করে বাঁচতে চাই’, অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে স্বাবলম্বী জহিরুল

জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন না জহিরুল ইসলাম (৪০)। শৈশবে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে দুটি পা অবশ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার জীবনসংগ্রাম। তবে চরম প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে আত্মসম্মান ও পরিশ্রমকে পুঁজি করে আজ তিনি একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি হিসেবে সমাজে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মধুপুর গ্রামের আজমান উল্লাহর ছেলে জহিরুল ইসলাম বড় হয়েছেন ভাইয়ের সংসারে। ভাইয়ের বিয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন- অন্যের ওপর বোঝা না হয়ে নিজ পায়ে দাঁড়াবেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সব কাজ তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই বসে থেকে করা যায়, এমন পেশা হিসেবে বেছে নেন কাঠমিস্ত্রির কাজ। জহিরুল জানান, আশির দশকে বানিয়াচং এলাকার একটি চক্র শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাড়া করে ভিক্ষাবৃত্তিতে পাঠাত। একসময় ওই চক্রের লোকজন তাকে মাসে এক হাজার ৩০০ টাকার বিনিময়ে ভিক্ষা করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আত্মসম্মানের প্রশ্নে তিনি সেই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। জহিরুল বলেন, ‘আমি কাজ করে খেতে চাই, ভিক্ষা করে নয়।’ সেই প্রত্যয় থেকেই তিনি কাঠমিস্ত্রির পেশায় আত্মনিয়ো

‘ভিক্ষা নয় কাজ করে বাঁচতে চাই’, অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে স্বাবলম্বী জহিরুল

জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন না জহিরুল ইসলাম (৪০)। শৈশবে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে দুটি পা অবশ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় তার জীবনসংগ্রাম। তবে চরম প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে আত্মসম্মান ও পরিশ্রমকে পুঁজি করে আজ তিনি একজন দক্ষ কাঠমিস্ত্রি হিসেবে সমাজে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মধুপুর গ্রামের আজমান উল্লাহর ছেলে জহিরুল ইসলাম বড় হয়েছেন ভাইয়ের সংসারে। ভাইয়ের বিয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন- অন্যের ওপর বোঝা না হয়ে নিজ পায়ে দাঁড়াবেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সব কাজ তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই বসে থেকে করা যায়, এমন পেশা হিসেবে বেছে নেন কাঠমিস্ত্রির কাজ।

জহিরুল জানান, আশির দশকে বানিয়াচং এলাকার একটি চক্র শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাড়া করে ভিক্ষাবৃত্তিতে পাঠাত। একসময় ওই চক্রের লোকজন তাকে মাসে এক হাজার ৩০০ টাকার বিনিময়ে ভিক্ষা করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আত্মসম্মানের প্রশ্নে তিনি সেই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।

জহিরুল বলেন, ‘আমি কাজ করে খেতে চাই, ভিক্ষা করে নয়।’

সেই প্রত্যয় থেকেই তিনি কাঠমিস্ত্রির পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। বর্তমানে তিনি কাইমা বাজারের ‘মাহবুব অ্যান্ড মাহবুবা ফার্নিচার’ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। সেখানে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি পান। পাশাপাশি দোকানের বাইরে ব্যক্তিগত কাজ করে অতিরিক্ত আয় করেন। তার দক্ষতা ও কাজের মানের কারণে স্থানীয় এলাকাজুড়ে তিনি একজন বিশ্বস্ত কারিগর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

সংসার জীবনেও তিনি সফল। তিন সন্তানের জনক জহিরুল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ছোট্ট সংসারে সাধ্যমতো সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। তবে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা এখনো তার সবচেয়ে বড় সমস্যা।

তিনি বলেন, ‘সরকার বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমাকে একটি ব্যাটারিচালিত বাহন দিতেন, তাহলে গ্রামে গ্রামে গিয়ে সহজে কাজ করতে পারতাম। আমি কারো কাছে দান চাই না, শুধু কাজ করার সুযোগ চাই, সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই।’

এছাড়া তার বসবাসের ঘরটিও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। একটি নিরাপদ ঘর নির্মাণে সহযোগিতা পেলে জীবন-সংগ্রাম আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জহিরুল ইসলামের এই অদম্য জীবনগাথা প্রমাণ করে- শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনো সাফল্যের বাধা হতে পারে না, যদি থাকে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মমর্যাদাবোধ। সমাজ ও সরকারের সামান্য একটু সহযোগিতার হাত পেলে জহিরুলের মতো মানুষগুলো শুধু নিজের জীবনই নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎকে আরও আলোকময় করে তুলতে পারেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow