ভিডিওটি দেখলেই বুক হাহাকার করে ওঠে

‌‘এটাই কি সোনার বাংলাদেশ?’ একটি ভিডিও, একটি ঘটনার সামনে দাঁড়িয়ে আজ অসংখ্য মানুষের মনে জেগে ওঠা প্রশ্ন এটি। বারবার সেই দৃশ্য দেখলে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। মনে হয়, এ কি সেই দেশ, যার জন্য ১৯৭১ সালে আমাদের বাবা-চাচা-দাদারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি স্বাধীন ভূখণ্ড অর্জনের সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন। সেই সময়ের মানুষরা বিশ্বাস করেছিলেন—একটি এমন দেশ গড়ে উঠবে, যেখানে মানুষের অধিকার সম্মান পাবে, দুর্নীতি ও অন্যায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না এবং প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন যাপন করবে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে আজ যখন আমরা বাস্তবতার দিকে তাকাই, তখন সেই স্বপ্নের সঙ্গে অনেক জায়গায় ফারাক চোখে পড়ে। সম্প্রতি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনা জাতিকে আবারও নাড়িয়ে দিয়েছে। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা, যিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনি নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেননি—এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আমাদে

ভিডিওটি দেখলেই বুক হাহাকার করে ওঠে

‌‘এটাই কি সোনার বাংলাদেশ?’ একটি ভিডিও, একটি ঘটনার সামনে দাঁড়িয়ে আজ অসংখ্য মানুষের মনে জেগে ওঠা প্রশ্ন এটি। বারবার সেই দৃশ্য দেখলে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। মনে হয়, এ কি সেই দেশ, যার জন্য ১৯৭১ সালে আমাদের বাবা-চাচা-দাদারা জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলেন?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি স্বাধীন ভূখণ্ড অর্জনের সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন। সেই সময়ের মানুষরা বিশ্বাস করেছিলেন—একটি এমন দেশ গড়ে উঠবে, যেখানে মানুষের অধিকার সম্মান পাবে, দুর্নীতি ও অন্যায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না এবং প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন যাপন করবে।

কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে আজ যখন আমরা বাস্তবতার দিকে তাকাই, তখন সেই স্বপ্নের সঙ্গে অনেক জায়গায় ফারাক চোখে পড়ে। সম্প্রতি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনা জাতিকে আবারও নাড়িয়ে দিয়েছে।

একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা, যিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনি নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারেননি—এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আমাদের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন। বাংলাদেশের চ্যানেল নিউজগুলোতে প্রচারিত শেষ আলিঙ্গন: বুকভরা শূন্যতার উপাখ্যান! এই ভিডিওটি যতবারই দেখি প্রশ্ন জাগে এইটাই কি স্বাধীনতা।

এ ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—অর্থনৈতিক উন্নয়ন থাকলেও, যদি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তবে সেই উন্নয়ন অসম্পূর্ণ। সাধারণ মানুষের মনে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং ক্ষোভ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

তবে এই প্রশ্নের উত্তর একপাক্ষিক নয়। বাংলাদেশ আজ অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়েছে—অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো—সবখানেই দৃশ্যমান উন্নয়ন রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে নৈতিকতা, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়ের জায়গায় এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। এই দ্বৈত বাস্তবতাই আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি দেশ মানে শুধু সরকার বা প্রতিষ্ঠান নয়; দেশ মানে আমরা সবাই। আমরা যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে চুপ থাকি, যখন ছোট ছোট অনিয়মকে মেনে নিই, তখনই সেই বড় সমস্যাগুলো শক্তি পায়। আবার আমরা যখন সচেতন হই, সত্যের পক্ষে দাঁড়াই, তখনই পরিবর্তনের সূচনা হয়।

সোনার বাংলাদেশ কোনো কল্পনা নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটি গড়ে ওঠে প্রতিটি মানুষের দায়িত্ববোধ, সততা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের আত্মত্যাগ আমাদের শুধু একটি দেশ দেয়নি, দিয়েছে একটি দায়িত্ব—সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব।

আজকের কষ্ট, হতাশা এবং প্রশ্নগুলোই হতে পারে আগামী দিনের পরিবর্তনের শক্তি। যদি আমরা সত্যিকার অর্থে সেই ত্যাগের মর্যাদা দিতে চাই, তবে শুধু আবেগে নয়, কাজেও তা প্রমাণ করতে হবে।

সোনার বাংলাদেশ তখনই বাস্তব হবে, যখন আমরা প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে সৎ থাকবো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবো।

এমআরএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow