ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ পরপর দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৪২ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলার সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় কোনো সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না। বরং জনগণের মধ্যে গভীর সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে। দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এখানে কোনো সামাজিক বিশৃঙ্খলা হবে না। আমাদের শক্তি মানুষের পারস্পরিক সংহতি। তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও নিহতদের উদ্ধারে হাজারো সরকারি কর্মকর্তা, সেনা সদস্য এবং উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। গত ২৪ জুন আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু বহুতল ভবন ধসে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। ভূমিকম্পের ১১ দিন পরও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের খোঁজে অভি
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ পরপর দুটি ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৪২ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নিয়েও জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
তবে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলার সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় কোনো সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে না। বরং জনগণের মধ্যে গভীর সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে।
দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এখানে কোনো সামাজিক বিশৃঙ্খলা হবে না। আমাদের শক্তি মানুষের পারস্পরিক সংহতি।
তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ও নিহতদের উদ্ধারে হাজারো সরকারি কর্মকর্তা, সেনা সদস্য এবং উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।
গত ২৪ জুন আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু বহুতল ভবন ধসে পড়ে এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
ভূমিকম্পের ১১ দিন পরও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে স্বজনরা নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
তবে সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সরকারের তৎপরতা ছিল অপর্যাপ্ত। নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণ ও দাফন নিয়েও দেখা দিয়েছে সংকট।
২৫ বছর বয়সী নিরাপত্তাকর্মী হোসে আন্তোনিও তোলেদো ভূমিকম্পের সময় কর্মস্থলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। তার মরদেহ উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও জায়গা না থাকায় তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে অন্য একটি স্থানে পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি খোলা পার্কিং এলাকায় রাখা হয়।
কয়েক দিন পর এক ফরেনসিক চিকিৎসকের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ শনাক্ত করেন। কিন্তু প্রায় সাড়ে চারশ ডলার ব্যয় করে দাফনের ব্যবস্থা করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। পরে স্থানীয় মেয়র কার্যালয় বিনা খরচে কবরের ব্যবস্থা করলে গভীর রাতে তাকে দাফন করা হয়।
হোসের শাশুড়ি রোসা লোপেজ বলেন, সে খুব ভালো মানুষ ছিল। সব সময় অন্যদের সাহায্য করতে চাইত।
ফরেনসিক বিভাগের প্রযুক্তিবিদ জোয়েল মিরাবাল জানান, অনেক মরদেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে স্বজনদের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ট্যাটু বা পোশাক দেখে পরিচয় নিশ্চিত করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, মরদেহগুলোর বাস্তব জীবনের চেহারার সঙ্গে সামান্যতম মিলও নেই।
যেসব মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না, সেগুলো লা গুয়াইরা সমুদ্রবন্দরের ফরেনসিক কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে মরদেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গণকবর খোঁড়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মিরাবালের ধারণা, ধ্বংসস্তূপ থেকে সব মরদেহ উদ্ধার করতে আরও প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
What's Your Reaction?