‘ভেবেছিলাম আজ স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারবো, এসে দেখি উল্টো অবস্থা’
পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও রাজধানী ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো ঘরমুখো মানুষ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও কাঁধে বস্তা, কেউ আবার ছোট শিশু কোলে দাঁড়িয়ে আছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গ্রামের বাড়ি ফিরতে চান সবাই। সব সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন থাকলেও সংকটে পড়েছেন শরীয়তপুরের যাত্রীরা। গাড়ি সংকটে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে। নারী, শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই আছেন গাড়ির অপেক্ষায়। শিকড় পরিবহন, শ্রাবণ পরিবহন, বোরাক এক্সপ্রেস পরিবহন, রায়েদা পরিবহন, ট্রান্স সিলভা পরিবহন ও বাহাদুর শাহ পরিবহনে বাড়ি যাচ্ছেন শরীয়তপুরের যাত্রীরা। সরেজমিনে চোখে পড়ে, শরীয়তপুর সুপার পরিবহনের এক এসি বাসে উঠতে হুড়োহুড়ি করছেন অনেকে। এর মধ্যে আরেকটি বাস এলে সেটিও মুহূর্তেই ভরে গেল। এরপর আর গাড়ি না থাকায় অপেক্ষা করছেন বাকি অনেকেই। আবার কেউ কেউ লোকাল বাসে উঠছেন দ্রুত বাড়ি পৌঁছাতে। শনিবার (৩০ মে) ঈদের ছুটিতে রাজধানীর ভেতরের বেশিরভাগ সড়ক ফাঁকা ও যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ও ধোলাইপাড় মোড়সহ আশপাশে ঢাকায় ঢোকার পথে দেখা গেছে যানজট। তাই কিছুটা দুর্ভোগে পড়েছেন শিশুসহ সাধারণ যাত্র
পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও রাজধানী ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো ঘরমুখো মানুষ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও কাঁধে বস্তা, কেউ আবার ছোট শিশু কোলে দাঁড়িয়ে আছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গ্রামের বাড়ি ফিরতে চান সবাই।
সব সড়কে পর্যাপ্ত যানবাহন থাকলেও সংকটে পড়েছেন শরীয়তপুরের যাত্রীরা। গাড়ি সংকটে এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে। নারী, শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ সবাই আছেন গাড়ির অপেক্ষায়।
শিকড় পরিবহন, শ্রাবণ পরিবহন, বোরাক এক্সপ্রেস পরিবহন, রায়েদা পরিবহন, ট্রান্স সিলভা পরিবহন ও বাহাদুর শাহ পরিবহনে বাড়ি যাচ্ছেন শরীয়তপুরের যাত্রীরা।
সরেজমিনে চোখে পড়ে, শরীয়তপুর সুপার পরিবহনের এক এসি বাসে উঠতে হুড়োহুড়ি করছেন অনেকে। এর মধ্যে আরেকটি বাস এলে সেটিও মুহূর্তেই ভরে গেল। এরপর আর গাড়ি না থাকায় অপেক্ষা করছেন বাকি অনেকেই। আবার কেউ কেউ লোকাল বাসে উঠছেন দ্রুত বাড়ি পৌঁছাতে।
শনিবার (৩০ মে) ঈদের ছুটিতে রাজধানীর ভেতরের বেশিরভাগ সড়ক ফাঁকা ও যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, ও ধোলাইপাড় মোড়সহ আশপাশে ঢাকায় ঢোকার পথে দেখা গেছে যানজট।
তাই কিছুটা দুর্ভোগে পড়েছেন শিশুসহ সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পারিবারিক কারণে কিংবা ঢাকায় কোরবানি শেষ করে আজ যারা গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন, তারা এই আকস্মিক যানজটের কারণে এখন বিপাকে।
শরীয়তপুরের উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষায় ছিলেন তৌকির আহমেদ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকি এবং এখানে ব্যবসা করি। কোরবানিও ঢাকায় দিয়েছি। আজ গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি মা-বাবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে। কিন্তু যাত্রাবাড়ীতে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছি। এরপর শুনলাম যানজটে বাস আটকে আছে। গরমে ছোট বাচ্চারা খুব কষ্ট পাচ্ছে, কী আর করা।
একই পরিস্থিতি সায়েদাবাদ থেকে যশোরগামী বাসের যাত্রী তাইফুল ইসলামেরও। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভেবেছিলাম ঈদের তৃতীয় দিনে রাস্তায় গাড়ির চাপ কম থাকবে এবং স্বস্তিতে যেতে পারবো। কিন্তু এখানে এসে দেখি পুরো উল্টো অবস্থা। আজও প্রচুর যাত্রী রয়েছে।
শরীয়তপুরগামী একটি বাসের সুপারভাইজর সুমন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ঈদের আগের ৩-৪ দিন যাত্রীর চাপ খুব বেশি ছিল। আজকে সকাল ১টা পর্যন্ত ৪০টা বাস ছেড়ে গেছে। জ্যামের কারণে বাস আটকা পড়ে। দেখুন না ঢাকার লোকাল গাড়িতে যাত্রী যাচ্ছে শরীয়তপুরে। এর আগে গতকাল (২৯ মে) ৪৫টি বাস ঢাকা থেকে শরীয়তপুরে গেছে।
গাড়ি কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকায় ঢোকার পথে ধোলাইপাড়ে যানজট, আবার নিচে দিয়ে আসতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্টরা গাড়ি ঘুরিয়ে দেয়। গুলিস্তান হয়ে আসতে আসতে দেরি হচ্ছে। আবার ধোলাইপাড় থেকে ভেতর দিয়ে এলে ওই রোডে বেশি জ্যাম, আবার সায়দাবাদ হয়ে ঘুরে আসতে হয়। এই কারণে শরীয়তপুরের বাস সংকট। আমাদের কিন্তু গাড়ি কম না।
স্বামীর সঙ্গে মাদারীপুরে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়া ফারহানা জানান, ভিড় এড়াতে সকালে বের হলেও সায়েদাবাদ মোড়ে এসে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী সূর্যমুখী কাউন্টারের ম্যানেজার সাদিক হাসান বলেন, আজকে সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ কম। কিন্তু এই যে মানুষের ভিড় দেখছেন সবই শরীয়তপুরের মানুষ। তাদের গাড়ি আটকা পড়ার কারণে এই এলাকায় মানুষের চাপ বেড়েছে।
ভোর থেকেই যাত্রীরা এখান থেকে নোয়াখালী, কুমিল্লা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরিশাল, নড়াইল, ঝিনাইদহ,ফরিদপুর মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছেন বলে কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যাত্রীর চাপও বাড়তে থাকে। যদিও ঈদের আগের দিনগুলোতে ব্যাপক যাত্রীর চাপ ছিল। সে তুলনায় আজকেও ব্যাপক চাপ। কিন্তু বিকেলে এমন যাত্রীর চাপ থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন বাসের কাউন্টারে থাকা সুপারভাউজর ও অন্যরা।
এফএইচ/এএমএ
What's Your Reaction?