ভোট গণনার আগেই স্পষ্ট বার্তা মমতার

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসন জিতে আবারও সরকার গঠন করবে। একই সঙ্গে ভোটগণনার দিন এজেন্টদের করণীয় নিয়েও বিস্তারিত নির্দেশ দেন তিনি এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (২ মে) বিকেলে কালীঘাট থেকে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল বৈঠকে বিভিন্ন কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টরা অংশ নেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি ছিল নির্বাচনের আগে শেষ দফার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠক। সেখানে মমতা স্পষ্ট করে জানান, জয়ের ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। তবে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সতর্কতাও জারি করেন তিনি। তার নির্দেশ, ভোটগণনার দিন কোনো ধরনের গাফিলতি চলবে না। প্রত্যেক কাউন্টিং এজেন্টকে ভোর থেকেই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে। দলের অনুমতি ছাড়া কেউ কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় যারা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল

ভোট গণনার আগেই স্পষ্ট বার্তা মমতার

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন দলীয় কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসন জিতে আবারও সরকার গঠন করবে।

একই সঙ্গে ভোটগণনার দিন এজেন্টদের করণীয় নিয়েও বিস্তারিত নির্দেশ দেন তিনি এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার (২ মে) বিকেলে কালীঘাট থেকে আয়োজিত এই ভার্চুয়াল বৈঠকে বিভিন্ন কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টরা অংশ নেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি ছিল নির্বাচনের আগে শেষ দফার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠক। সেখানে মমতা স্পষ্ট করে জানান, জয়ের ব্যাপারে তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।

তবে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি সতর্কতাও জারি করেন তিনি। তার নির্দেশ, ভোটগণনার দিন কোনো ধরনের গাফিলতি চলবে না। প্রত্যেক কাউন্টিং এজেন্টকে ভোর থেকেই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে। দলের অনুমতি ছাড়া কেউ কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় যারা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে। ফল ঘোষণার পর তাদের সম্মানিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

মমতার বক্তব্যে স্পষ্ট, কর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই এই বার্তার অন্যতম লক্ষ্য। গণনার সময় কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

তিনি জানান, কোথাও যদি ২০০ থেকে ৩০০ ভোটের ব্যবধানে ভারতীয় জনতা পার্টি এগিয়ে আছে বলে মনে হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কম ব্যবধানের আসনগুলোই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

বৈঠকে বুথফেরত সমীক্ষা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন মমতা। তার মতে, এই ধরনের সমীক্ষা অনেক সময় জনমত প্রভাবিত করতে ব্যবহৃত হয় এবং বাস্তব ফলাফলের সঙ্গে এর মিল নাও থাকতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি কর্মীদের এসব উপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

এই বৈঠকে নিজের বক্তব্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও গণনার দিন সতর্ক থাকার বার্তা দেন। তিনি বলেন, ফলাফলের সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কাউন্টিং সেন্টার ছেড়ে বেরোনো যাবে না। কোথাও যদি এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে দলের উচ্চপর্যায়ে জানাতে হবে।

অভিষেক আরও জানান, পোস্টাল ব্যালট গণনার দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এই ভোটের ফলাফলই ব্যবধান তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি ইভিএম খোলার সময় তারিখ ও তথ্য যাচাই করার উপরও জোর দেন তিনি।

এছাড়া তিনি বলেন, যেখানে ব্যবধান কম থাকবে, সেখানে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। ইভিএমের চার্জ এবং অবস্থাও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। কোনো অসঙ্গতি নজরে এলে তা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

একদিকে তৃণমূল তাদের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে বিজেপিও সরকার গঠনের দাবি করছে। এই অবস্থায় গণনার দিন প্রতিটি ধাপকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগের শেষ মুহূর্তে তৃণমূল নেতৃত্বের এই বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তারা সংগঠনকে শক্তভাবে ধরে রাখতে চাইছে এবং কোনো পরিস্থিতিতেই গণনার প্রক্রিয়ায় শৈথিল্য দেখাতে রাজি নয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow