মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলা সেই বিএনপি নেতা আবারও বললেন ‘স্লিপ অব টাং’
মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলে সমালোচিত ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক আবারো ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রোববার (৩১ মে) বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এটিকে কথা বা বক্তব্য দেওয়ার সময় মনের অজান্তে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হওয়া একটি ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ওই স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘শনি ও রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, যা ইতিমধ্যে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে তার প্রতি আমি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। শনিবার (৩০ মে) দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে আমি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি শব্দচয়নগত ভুল (Slip of Tongue) করি। বিষয়টি উপলব্ধি করার সঙ্গে সঙ্গেই আমি মঞ্চে উপস্থিত সবার সামনে আমার বক্তব্যের ওই অংশকে ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করি ও স্পষ্ট করি য
মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলে সমালোচিত ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এ খালেক আবারো ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এটিকে কথা বা বক্তব্য দেওয়ার সময় মনের অজান্তে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে হওয়া একটি ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ওই স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘শনি ও রবিবার বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, যা ইতিমধ্যে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে তার প্রতি আমি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
শনিবার (৩০ মে) দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদানকালে আমি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি শব্দচয়নগত ভুল (Slip of Tongue) করি। বিষয়টি উপলব্ধি করার সঙ্গে সঙ্গেই আমি মঞ্চে উপস্থিত সবার সামনে আমার বক্তব্যের ওই অংশকে ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করি ও স্পষ্ট করি যে, আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা বা কাউকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তুলনা করা নয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দ।
আরও পড়ুন-
এবার মন্ত্রীকে ‘প্রিয় নবী’ বলে সমালোচনায় ফেনী জেলা পরিষদ প্রশাসক
এরপরও একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো এবং আমার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই কোনো ব্যক্তিকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তুলনা করা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা ছিল না।
আবদুল আউয়াল মিন্টু আমাদের নেতা, আমাদের নবী নয়। আমাদের নবী একজন তিনি হলেন হযরত মোহাম্মদ (সা.)। ওনার সাথে কারো তুলনা হয় না। আমরা সবাই ওনার উম্মত। ওনার সুপারিশে আখেরাতে আমাদের নাজাতের ফয়সালা হবে। সুতরাং ওনাকে নিয়ে কোনো ব্যক্তির সাথে তুলনা করা কোনো মুসলমানের পক্ষে সম্ভব নয়।
আমি একজন মুসলমান হিসেবে মহানবী (সা.)-এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও বিশ্বাস পোষণ করি। আমার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের কোনো কর্মকাণ্ডেই ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননার প্রশ্ন ওঠে না। বক্তব্যের একটি অংশকে বিচ্ছিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাকে ধর্মীয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নিন্দনীয়।
আমি বিশ্বাস করি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই আমার বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। একটি অনিচ্ছাকৃত উচ্চারণকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তবুও যদি আমার বক্তব্যের কারণে কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে কষ্ট বা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত; আমি গত ১৫ বছর যাবত লস্করহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে খেদমত করার আল্লাহ পাক তৌফিক দান করেছেন। আমি ৩০ বছর যাবত একটি বেসরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপনা করে আসছি। বিগত ৪০ বছর যাবত বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছি। ফেনী জয়নাল হাজারী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। ২০১৩-২০১৬ সাল পর্যন্ত ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছি। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি।
সুতরাং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শত শত বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছি। কোনো কোনো সময় ভুল হতেই পারে, মানুষ মাত্রই ভুল, কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আমি আবারো আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ফেনীবাসী ও দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
প্রসঙ্গত, এরআগে বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুকে প্রিয় নবী বলে বিতর্কের পাশাপাশি সমালোচনায় পড়েন খালেক। তার এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। খালেকের এমন বক্তব্যকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও শিরকের সঙ্গে তুলনা করেন অনেকে।
শনিবার (৩০ মে) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ খালেক এমন উক্তি করেন।
তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আমার আপনার সবার প্রিয় নবী, প্রিয় মানুষ।’
খালেকের এমন উক্তির সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থলে শোরগোল ও কানাঘুষো শুরু হয়ে যায়। অনেকে বলে ওঠেন অযোগ্যতার বহিঃপ্রকাশ।
তার আগে গত বছর ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফেনী সদর উপজেলা তাঁতী দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এম এ খালেক বলেন, ‘আমরা কখনো চাই না বিএনপি আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য। বিএনপি হলো একটা ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল। এরা গণতন্ত্র বুঝে না, এরা নির্বাচন বুঝে না। এরা জনগণের মনের বাসনা বুঝে না, এরা বুঝে ক্ষমতা। তাদের ক্ষমতা দরকার। নির্বাচন-টির্বাচন গণতন্ত্র এগুলোর ধার ধারে না তারা।’
যদিও পরে বক্তব্যের ওই অংশকে ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে পরে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও বক্তব্যটা শুনে গলদঘর্ম হয়ে গেছি।’
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এমএস
What's Your Reaction?