মসজিদুল আকসায় এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে ইসরায়েলের বাধা
মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার পর ঘোষিত জরুরি অবস্থার অজুহাতে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। রোববার (০১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোরে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে শনিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এদিন আকসা প্রাঙ্গণে এশা ও তারাবির জামাত বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের সূত্র আল জাজিরাকে জানায়, মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনিনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং ওয়াক্ফ বিভাগের অল্প কয়েকজন কর্মচারী সীমিত পরিসরে নামাজ আদায় করেন। জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, চলতি রমজান শুরুর পর থেকে মসজিদুল আকসায় তারাবির নামাজে ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তবে জরুরি অবস্থার অজুহাতে শনিবার অন্যান্য নামাজের মতো তারাবিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র অজুহাতে রমজান মাসজুড়ে আকসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হোম ফ্রন্ট কমান
মসজিদুল আকসা প্রাঙ্গণে এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার পর ঘোষিত জরুরি অবস্থার অজুহাতে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
রোববার (০১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোরে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে শনিবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এদিন আকসা প্রাঙ্গণে এশা ও তারাবির জামাত বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ।
ইসলামিক ওয়াক্ফ বিভাগের সূত্র আল জাজিরাকে জানায়, মসজিদের ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনিনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং ওয়াক্ফ বিভাগের অল্প কয়েকজন কর্মচারী সীমিত পরিসরে নামাজ আদায় করেন।
জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, চলতি রমজান শুরুর পর থেকে মসজিদুল আকসায় তারাবির নামাজে ৩৫ হাজার থেকে এক লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। তবে জরুরি অবস্থার অজুহাতে শনিবার অন্যান্য নামাজের মতো তারাবিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র অজুহাতে রমজান মাসজুড়ে আকসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হোম ফ্রন্ট কমান্ড।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড ‘পূর্ণ কার্যক্রম’ থেকে ‘শুধু প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে’ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দেশজুড়ে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত, জনসমাগম নিষিদ্ধ এবং অত্যাবশ্যক কর্মী ছাড়া কর্মস্থলে যাতায়াত বন্ধ করা হয়। একই নির্দেশনা আকসা প্রাঙ্গণেও কার্যকর করা হয়, যদিও এটি জর্ডানভিত্তিক ইসলামিক ওয়াক্ফ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।
শনিবার জোহরের আজানের আগে জেরুজালেমের বাসিন্দা ও ভেতর ফিলিস্তিনি অঞ্চল থেকে আগত মুসল্লিসহ ওয়াক্ফ কর্মীদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়া হয়। কেবল আকসার প্রহরীদের দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। পরে দখলদার পুলিশের নির্দেশে মসজিদের সব ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রমজানের ১১তম দিনে এশা ও তারাবির সময় মুসল্লিশূন্য আকসার চিত্র অনেকের কাছে ২০২০ সালের রমজানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন করোনা মহামারির কারণে মসজিদের ফটক বন্ধ রাখা হয়েছিল।
জেরুজালেমবিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘রমজানে আকসা বন্ধ করে দেওয়া মানে একে এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এর ইহুদিকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চূড়ান্ত ধাপ। এটি আকসাকে কথিত ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বের অধীনে নেওয়ার প্রচেষ্টা।’
তিনি বলেন, ‘আকসা বন্ধের বিষয়টি যেন স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া না হয়; সর্বশক্তি দিয়ে এর মোকাবিলা করতে হবে।’
শুধু মসজিদ বন্ধই নয়, দখলদার পুলিশ পুরোনো শহর ও আশপাশের এলাকায় ফিলিস্তিনি ব্যবসায়ীদের ওপরও কঠোরতা আরোপ করে। নিত্যপণ্য ও বেকারি ছাড়া অধিকাংশ দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকসার প্রবেশপথ কাত্তানিন বাজারের দোকানগুলোও ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
রমজানে এ বাজার মুসল্লিদের উপস্থিতিতে সবচেয়ে জমজমাট থাকে। তবে একই সময়ে বসতি স্থাপনকারীরা পুলিশের সুরক্ষায় প্রতিদিন সেখানে তোরাহভিত্তিক আচার-অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে শনিবার ইসলামিক ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয় জানায়, জরুরি অবস্থার অজুহাতে দখলদার কর্তৃপক্ষ ইব্রাহিমি মসজিদ (হেবরন) বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেখানকার কর্মীদের বের করে দিয়েছে।
What's Your Reaction?