মস্তিষ্কের তরঙ্গ থেকে সরাসরি শব্দ অনুবাদ

অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এমন একটি নতুন মডেল তৈরি করেছেন, যা মানুষের মস্তিষ্কের তরঙ্গ (ব্রেনওয়েভ) শনাক্ত করে সেগুলোকে সরাসরি নির্দিষ্ট শব্দ ও বাক্যে রূপান্তর করতে সক্ষম। ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির (ইউটিএস) গ্রাফিনএক্স-হিউম্যান-সেন্ট্রিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের একদল গবেষক এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি)-এর এক প্রতিবেদনে এই বিস্ময়কর সাফল্যের তথ্য জানানো হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীকে কেবল একটি পরিধানযোগ্য ‘ইইজি ক্যাপ’ পরতে হয়, যা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত বিশ্লেষণ করে তা টেক্সটে রূপান্তর করে। বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল লিয়ং, পিএইচডি শিক্ষার্থী চার্লস ঝৌ এবং তাদের তত্ত্বাবধায়ক চিন-টেং লিনের নেতৃত্বে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষক দল জানিয়েছে, তারা উন্নত ‘ডিপ লার্নিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইইজি সংকেত থেকে মানুষের চিন্তাকে ভাষায় রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। লিন জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে এআই মডেলটিকে সীমিত সংখ্যক শব্দ ও বাক্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে এটি প্রতিটি শব্দ আলাদাভাবে নির্ভুলভাবে শ

মস্তিষ্কের তরঙ্গ থেকে সরাসরি শব্দ অনুবাদ

অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এমন একটি নতুন মডেল তৈরি করেছেন, যা মানুষের মস্তিষ্কের তরঙ্গ (ব্রেনওয়েভ) শনাক্ত করে সেগুলোকে সরাসরি নির্দিষ্ট শব্দ ও বাক্যে রূপান্তর করতে সক্ষম। ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির (ইউটিএস) গ্রাফিনএক্স-হিউম্যান-সেন্ট্রিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের একদল গবেষক এই যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি)-এর এক প্রতিবেদনে এই বিস্ময়কর সাফল্যের তথ্য জানানো হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীকে কেবল একটি পরিধানযোগ্য ‘ইইজি ক্যাপ’ পরতে হয়, যা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত বিশ্লেষণ করে তা টেক্সটে রূপান্তর করে।

বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল লিয়ং, পিএইচডি শিক্ষার্থী চার্লস ঝৌ এবং তাদের তত্ত্বাবধায়ক চিন-টেং লিনের নেতৃত্বে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে।

গবেষক দল জানিয়েছে, তারা উন্নত ‘ডিপ লার্নিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইইজি সংকেত থেকে মানুষের চিন্তাকে ভাষায় রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।

লিন জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে এআই মডেলটিকে সীমিত সংখ্যক শব্দ ও বাক্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে এটি প্রতিটি শব্দ আলাদাভাবে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে। বর্তমানে এই মডেলটির নির্ভুলতার হার ৭৫ শতাংশ হলেও গবেষকরা অদূর ভবিষ্যতে এটি ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এটি এক নতুন দিগন্তের সূচনা বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইলেকট্রনিক্স বিশেষজ্ঞ মোহিত শিবদাসানি জানান, বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে জীববৈজ্ঞানিক সংকেত শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, তবে বর্তমান এআই প্রযুক্তি এমন কিছু ব্রেনওয়েভ প্যাটার্ন ধরতে পারছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি।

বিশেষ করে এই প্রযুক্তি যদি শরীরের ভেতরে স্থাপনযোগ্য (ইমপ্ল্যান্টেবল) যন্ত্রের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়, তবে তা ব্যক্তির চিন্তাধারার সঙ্গে আরও দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে।

এই উদ্ভাবন শুধুমাত্র স্নায়বিক বা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্যই সহায়ক হবে না, বরং এটি মানুষ ও কম্পিউটারের যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও আমূল বদলে দিতে পারে। গবেষকরা বর্তমানে আরও অংশগ্রহণকারীকে যুক্ত করছেন যাতে বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে মডেলটির কার্যকারিতা বাড়ানো যায়।

ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দুই ব্যক্তির মধ্যে সরাসরি চিন্তাভিত্তিক বা টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের পরিকল্পনাও রয়েছে গবেষক দলটির। সফল হলে এই প্রযুক্তি মস্তিষ্কের ভাষা এবং বাস্তব ভাষার মধ্যকার বিদ্যমান ব্যবধান চিরতরে দূর করে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow