মহাসড়কে গাড়ির তেল ফুরালেই জরিমানা
এমকে হক, জার্মানি অনেকেই ভাবেন লাইসেন্স হাতে পেলেই জার্মানির মহাসড়কে মনের সুখে গতি বাড়িয়ে গাড়ি চালানো যাবে। যারা এমনটা ভাবছেন, তাদের বলব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু থামুন। প্রবাস জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম এখনই মনে গেঁথে নেওয়া ভালো, যা এখানে নতুন আসা সবার জন্যই জানা জরুরি। আমরা অনেকেই জানি, জার্মানির চালকেরা সবাই প্রশিক্ষণ নিয়ে রাস্তায় নামেন। কিন্তু বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে যারা এখানে আসেন, তারা অনেকেই এখানকার পথচলতি আইনের সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো জানেন না। বিশেষ করে জার্মানির গতিসীমানহীন মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সময় কিছু অলিখিত নিয়ম আপনাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। প্রথমত, ডানপাশ দিয়ে কোনো গাড়িকে টপকে সামনে যাওয়া এখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এখানকার প্রধান নিয়মই হলো- ডানপাশ দিয়ে কাউকে পার করা যাবে না, এটি পুরোপুরি আইনবিরুদ্ধ। আপনাকে সবসময় বাম পাশের পথ বা লেনের মাধ্যমেই সামনের গাড়িকে অতিক্রম করতে হবে। একমাত্র তীব্র যানজট থাকলে গাড়ি যখন খুব ধীর গতিতে চলে, তখনই কেবল এর ব্যতিক্রম হতে পারে। আরও পড়ুন জার্মানির বিলাসী জীবনের আড়ালে যে গল্প ঢাকা পড়ে যায় দ্বিতীয়ত, বাম পাশের পথে যাওয়ার আগে পেছ
এমকে হক, জার্মানি
অনেকেই ভাবেন লাইসেন্স হাতে পেলেই জার্মানির মহাসড়কে মনের সুখে গতি বাড়িয়ে গাড়ি চালানো যাবে। যারা এমনটা ভাবছেন, তাদের বলব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু থামুন। প্রবাস জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম এখনই মনে গেঁথে নেওয়া ভালো, যা এখানে নতুন আসা সবার জন্যই জানা জরুরি।
আমরা অনেকেই জানি, জার্মানির চালকেরা সবাই প্রশিক্ষণ নিয়ে রাস্তায় নামেন। কিন্তু বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে যারা এখানে আসেন, তারা অনেকেই এখানকার পথচলতি আইনের সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো জানেন না। বিশেষ করে জার্মানির গতিসীমানহীন মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সময় কিছু অলিখিত নিয়ম আপনাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
প্রথমত, ডানপাশ দিয়ে কোনো গাড়িকে টপকে সামনে যাওয়া এখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এখানকার প্রধান নিয়মই হলো- ডানপাশ দিয়ে কাউকে পার করা যাবে না, এটি পুরোপুরি আইনবিরুদ্ধ। আপনাকে সবসময় বাম পাশের পথ বা লেনের মাধ্যমেই সামনের গাড়িকে অতিক্রম করতে হবে। একমাত্র তীব্র যানজট থাকলে গাড়ি যখন খুব ধীর গতিতে চলে, তখনই কেবল এর ব্যতিক্রম হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বাম পাশের পথে যাওয়ার আগে পেছনের গাড়ি দেখার আয়না জোড়া খুব ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত। এই মহাসড়কের অনেক অংশে কোনো নির্দিষ্ট গতিসীমা থাকে না। আপনি হয়তো ঘণ্টায় একশত তিরিশ পরিমাপের গতিতে বামে যাওয়ার কথা ভাবছেন, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে পেছন থেকে কোনো দ্রুতগামী ক্রীড়া যান বা স্পোর্টস কার ঘণ্টায় একশত ষাট পরিমাপের চেয়েও বেশি গতিতে আপনাকে পার করে চলে যেতে পারে। তাই পথ বদলানোর আগে আয়না দেখা বাধ্যতামূলক।
একই সাথে, কম গতির গাড়িকে সবসময় ডানপাশের পথেই রাখতে হবে। সামনের গাড়িকে অতিক্রম করা শেষ হওয়ামাত্রই নিজের গাড়ি আবার ডানপাশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। মাঝের বা বামের পথে অলসভাবে গাড়ি চালানো যাবে না। এখানে ছুটির দিনে এবং গ্রীষ্মকালে নির্দিষ্ট সময়ে ভারী মালবাহী যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকে, যেন পথ সুগম থাকে।
লেন বা পথ পরিবর্তন করার সময় ইশারা বা ইঙ্গিতবাতি ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক গাড়িগুলোতে হালকা চাপ দিলেই ইঙ্গিতবাতি তিনবার জ্বলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা পথ পরিবর্তনের জন্য দারুণ এক প্রযুক্তিগত সুবিধা।
সবার মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে যে এই মহাসড়কে কোনো গতিসীমা নেই। আসলে মাত্র কয়েকটি অংশে সর্বোচ্চ গতিতে চালানো যায়, বাকি বেশিরভাগ জায়গায় একশত বিশ, একশত বা তারও কম গতিসীমা থাকে। গোল লাল সীমানার ভেতর কালো সংখ্যা দিয়ে এই সীমাবদ্ধতা বোঝানো হয়। মনে রাখবেন, এখানকার পুলিশ ও গোপন আলোকচিত্রগ্রাহী বা রাডার ক্যামেরা কিন্তু নিমেষেই আপনার গাড়ির নম্বরপ্লেটের ছবি তুলে নেবে এবং জরিমানা পাঠাবে।
প্রচণ্ড গতিতে মহাসড়কে গাড়ি চালানো অনেক বেশি মানসিক চাপের কাজ। তাই প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর বিশ্রামাগারে নেমে একটু সতেজ হয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আর হ্যাঁ, মহাসড়কে জ্বালানির ট্যাংক খালি হয়ে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিন্তু একটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এখানকার পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে চলা শিখতে হবে। এখানকার চালকেরা মাঝে মধ্যে একটু আক্রমণাত্মক হতে পারে। কেউ যদি হুট করে আপনার সামনে চলে আসে, তবে মাথা গরম না করে নিজের গাড়ির নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখলে আপনার বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড হতে পারে।
এর বাইরে একটি বিশেষ নাগরিক কর্তব্যের কথা না বললেই নয়, তা হলো আপৎকালীন পথ তৈরি করা। মহাসড়কে কোনো দুর্ঘটনার কারণে যদি যানজট লাগে, তবে আইন অনুযায়ী সাথে সাথে রাস্তার ঠিক মাঝখানটা খালি করে দিতে হবে। অর্থাৎ বাম লেনের গাড়ি একদম বামে আর ডান লেনের গাড়ি একদম ডানে চেপে যাবে। এই ফাঁকা রাস্তা দিয়ে যেন রোগীবাহী গাড়ি বা দমকল বাহিনী দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে।
আমি নিজে জার্মানির তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করার পাশাপাশি এখানকার জীবনযাত্রাকে খুব কাছ থেকে দেখি। আমার অভিজ্ঞতা বলে, সঠিক নিয়ম জানা থাকলে এই দেশের জীবনযাত্রা আপনার জন্য অনেক বেশি নিরাপদ ও উপভোগ্য হবে।
এমআরএম
What's Your Reaction?
