মাথা গোঁজার ঠাঁই চান নিঃস্ব নূরজাহান

একটি ছোট ঝুপড়ি ঘর, যা দূর থেকে দেখলে আবর্জনার স্তূপ বা মুরগির খাঁচা বলে ভ্রম হতে পারে। এমনই এক জরাজীর্ণ ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন পার করছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সাতভিটা গ্রামের নূরজাহান বেগম (৫০)। কৈশোরে বাবা-মাকে হারানোর পর থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযুদ্ধের কষ্টের প্রহর যেন শেষই হচ্ছে না। জানা গেছে, নূরজাহানের জীবনকাহিনি কেবলই বঞ্চনার। শৈশবে এতিম হওয়ার পর মামাদের আশ্রয়ে বড় হলেও সেখানে জোটেনি একটু স্বস্তি। বিয়ের পর সংসারে সুখের মুখ দেখার আগেই মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই শুরু হয় তার যাযাবর জীবন।  বর্তমানে খালার জমিতে এক কোণে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে একবেলা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন এই অসহায় নারী। সরেজমিনে দেখা যায়, নূরজাহানের বর্তমান বাসস্থানটি এতটাই নিচু যে সেখানে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই। ভাঙা বেড়া আর ছেঁড়া পলিথিনের আবরণে তৈরি এই ঘরে রোদ-বৃষ্টি সমানভাবে হানা দেয়। নূরজাহান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শীতকালে কুয়াশায় শরীর জমে যায়, রাতে ঘুমানোর উপায় থাকে না। আর বর্ষা এলে বৃষ্টির পানিতে বিছানাপত্র সব ভিজ

মাথা গোঁজার ঠাঁই চান নিঃস্ব নূরজাহান

একটি ছোট ঝুপড়ি ঘর, যা দূর থেকে দেখলে আবর্জনার স্তূপ বা মুরগির খাঁচা বলে ভ্রম হতে পারে। এমনই এক জরাজীর্ণ ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবন পার করছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সাতভিটা গ্রামের নূরজাহান বেগম (৫০)। কৈশোরে বাবা-মাকে হারানোর পর থেকে শুরু হওয়া তার জীবনযুদ্ধের কষ্টের প্রহর যেন শেষই হচ্ছে না।

জানা গেছে, নূরজাহানের জীবনকাহিনি কেবলই বঞ্চনার। শৈশবে এতিম হওয়ার পর মামাদের আশ্রয়ে বড় হলেও সেখানে জোটেনি একটু স্বস্তি। বিয়ের পর সংসারে সুখের মুখ দেখার আগেই মানসিক প্রতিবন্ধী স্বামী মারা যান। এরপর থেকেই শুরু হয় তার যাযাবর জীবন। 

বর্তমানে খালার জমিতে এক কোণে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। মানুষের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে একবেলা খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন এই অসহায় নারী।

সরেজমিনে দেখা যায়, নূরজাহানের বর্তমান বাসস্থানটি এতটাই নিচু যে সেখানে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর কোনো উপায় নেই। ভাঙা বেড়া আর ছেঁড়া পলিথিনের আবরণে তৈরি এই ঘরে রোদ-বৃষ্টি সমানভাবে হানা দেয়।

নূরজাহান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শীতকালে কুয়াশায় শরীর জমে যায়, রাতে ঘুমানোর উপায় থাকে না। আর বর্ষা এলে বৃষ্টির পানিতে বিছানাপত্র সব ভিজে একাকার হয়ে যায়। আমার চাওয়া শুধু একটু মাথা গোঁজার মতো শক্ত ঘর আর শীত কাটানোর জন্য একটা কম্বল। 

নূরজাহানের প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের মতে, এই বয়সে এমন পরিবেশে বসবাস করা যে কোনো মানুষের জন্য অমানবিক। নূরজাহান আজ একা, তার পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো আপনজন নেই। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সাহায্য বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি এগিয়ে আসেন, তবেই হয়তো এই নিঃস্ব নারীর শেষ জীবনটা একটু শান্তিতে কাটবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow