মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৭

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবার বলছে অপহরণ নয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় ছেলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছে।  শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নয়নপুর এলাকা থেকে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের প্রশিকা মোড় এলাকার সুরুজ্জামানের ছেলে আবিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অপহরণের হুমকি দিত। গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে সে ও তার সহযোগীরা প্রথমে ছাত্রীটিকে অপহরণ করে। তবে একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।  অভিযোগ রয়েছে, আবিদ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এবং ওই ছাত্রীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মারধর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করে শিক্ষার্থীর পরিবার। মাদ্রাসা

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৭

গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবার বলছে অপহরণ নয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় ছেলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছে। 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার নয়নপুর এলাকা থেকে শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামের প্রশিকা মোড় এলাকার সুরুজ্জামানের ছেলে আবিদ দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অপহরণের হুমকি দিত। গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে সে ও তার সহযোগীরা প্রথমে ছাত্রীটিকে অপহরণ করে। তবে একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। 

অভিযোগ রয়েছে, আবিদ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এবং ওই ছাত্রীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মারধর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করে শিক্ষার্থীর পরিবার।

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বাবা হাদিউল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে আমার গলা জড়িয়ে ধরেছে। সেখান থেকে আমার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আমার মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমার মেয়ে অত্যন্ত আতঙ্কিত। প্রেমের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়া ও মিথ্যা। 

তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা তাদের দোষত্রুটি ঢাকতেই সমস্ত অপবাদ মেয়ের উপর দেওয়া হয়েছে। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আবিদের মামাতো বোন জানান, আবিদের বাড়ির পাশে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর পরিবার ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ার সুবাদে আবিদের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর প্রেম দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। বিষয়টি দুটি পরিবারসহ এলাকার সবাই জানত। ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা চলছিল। এরমধ্যেই গত ১৪ এপ্রিল তারা পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের সমন্বয়ে এলাকায় শালিস বৈঠকে বসা হয়। 

পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের সিদ্ধান্ত হলে পরিবারের কাছে শিক্ষার্থীকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তারা বাড়ির গেট ও ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে তাদের মেয়েকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মেয়েটি আবিদের সহযোগিতা চায়। পরে ছেলেটি মেয়ের বাবার কাছে মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে আবিদকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এতে আবিদের পরিবারের লোকজন উত্তেজিত হয়। 

একপর্যায়ে মেয়েটিকে নিয়ে যেতে ঘরের চাবি চাওয়া হলে আবিদের মা ও খালাকে মারধর করা হয়। এরপর পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে উঠলে বাড়ির তালা ভেঙে মেয়েকে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে অপহরণের মত কোনো ঘটনা ঘটেনি। মেয়ে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে চলে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, শনিবার সকালে উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow