মাধ্যমিকে গণিত-ইংরেজিতে ‘বিপর্যয়’ : মূল্যায়ন
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে ভয়াবহ দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও ভিন্ন ধরনের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচালিত এ মূল্যায়নে দেখা যায়, ইংরেজি ও গণিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ন্যূনতম দক্ষতাও অর্জন করতে পারছে না। এরমধ্যে ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে কাঙ্ক্ষিত অর্জন করতে পারছেন না। বিশেষ করে গণিতে উচ্চ দক্ষতা রয়েছে এমন শিক্ষার্থীর হার মাত্র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য গঠিত কনসালটেশন কমিটির প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন তুলে দেন কমিটির আহ্বায়ক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনসুর আহমদ। কমিটির অন্য সদস্য সচিব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব তরফদার আক্তার জামিলসহ আরও ৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কমিটিকে গবেষণা ও লেখার সহযোগিতা করেন ৮ জন, দাপ্তরিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন ৩ জন। কনসালটেশন কমিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি, এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের মোট ৪৩৭ জন অষ্টম ও নবম শ্রেণি
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে ভয়াবহ দুর্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও ভিন্ন ধরনের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচালিত এ মূল্যায়নে দেখা যায়, ইংরেজি ও গণিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ন্যূনতম দক্ষতাও অর্জন করতে পারছে না। এরমধ্যে ৭১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে এবং ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে কাঙ্ক্ষিত অর্জন করতে পারছেন না। বিশেষ করে গণিতে উচ্চ দক্ষতা রয়েছে এমন শিক্ষার্থীর হার মাত্র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য গঠিত কনসালটেশন কমিটির প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন তুলে দেন কমিটির আহ্বায়ক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনসুর আহমদ।
কমিটির অন্য সদস্য সচিব মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব তরফদার আক্তার জামিলসহ আরও ৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কমিটিকে গবেষণা ও লেখার সহযোগিতা করেন ৮ জন, দাপ্তরিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করেন ৩ জন।
কনসালটেশন কমিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি, এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের মোট ৪৩৭ জন অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ওপর বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ৫০ নম্বরের অভীক্ষা নেওয়া হয়। এতে বাংলা বিষয়ে প্রায় সব শিক্ষার্থী প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলেও ইংরেজিতে কম অংশগ্রহণ করে। আর গণিতে সম্পূর্ণ প্রশ্ন সমাধানের চেষ্টা করেছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ। যা স্পষ্ট গণিত ভীতির ও দুর্বলতার প্রমাণ মিলেছে। প্রতিবেদনে এই অবস্থাকে ‘শিখন বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুর্বলতার গোড়া লুকিয়ে আছে প্রাথমিক স্তরে। প্রাথমিক শিক্ষায় ভিত্তিমূলক জ্ঞান দুর্বল থাকায় মাধ্যমিকের উচ্চতর পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা তাল মেলাতে পারছে না। এছাড়া মুখস্থ-নির্ভর শিক্ষণ পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং আধুনিক শিক্ষা উপকরণের অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
প্রতিবেদনে শহর-গ্রাম ও সামাজিক বৈষম্য প্রবল চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্লেষণে শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। শহরের শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ে এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে রয়েছে উপকূলীয়, চরাঞ্চল ও শিল্পাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে গণিতের গড় অর্জন সর্বনিম্ন। এছাড়া শিক্ষার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকার প্রভাবও স্পষ্ট। উচ্চশিক্ষিত মায়ের সন্তানরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন মায়ের সন্তানদের তুলনায় ভালো ফলাফল করছে।
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলও এই চিত্রের প্রতিফলন দেখা গেছে। এই স্তুরে পাসের হার মাত্র ৬৮ শতাংশ এবং অকৃতকার্যদের বড় অংশই ফেল করেছে ইংরেজি ও গণিতে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কনসালটেশন কমিটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন ও মাধ্যমিক শিক্ষা টাস্কফোর্স গঠন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভাগ বিভাজন বাদ দেওয়া, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাময়মূলক শিক্ষা চালু, ভাষা, গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে ভিত্তিমূলক দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক স্তরের এই দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা জরুরি। প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
What's Your Reaction?