মানবপাচারের বহুমাত্রিক বাস্তবতা উঠে এলো বেঁচে ফেরা মানুষের কণ্ঠে

বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবপাচারের বহুমাত্রিক বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে রচিত ফটোবুক ‘লিসেন’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয়ে (ইউএন হাউস) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এর মোড়ক উন্মোচিত হয়।  শক্তিশালী আলোকচিত্র ও মানবপাচার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই প্রকাশনাটি রচিত হয়েছে। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সহায়তায় সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইওএম-এর উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এছাড়াও বিভিন্ন দূতাবাস, জাতিসংঘের সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে

মানবপাচারের বহুমাত্রিক বাস্তবতা উঠে এলো বেঁচে ফেরা মানুষের কণ্ঠে

বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবপাচারের বহুমাত্রিক বাস্তবতা ও প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে রচিত ফটোবুক ‘লিসেন’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার জাতিসংঘ কার্যালয়ে (ইউএন হাউস) আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এর মোড়ক উন্মোচিত হয়। 

শক্তিশালী আলোকচিত্র ও মানবপাচার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই প্রকাশনাটি রচিত হয়েছে। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সহায়তায় সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, আইওএম-এর উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক, কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোইকা) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম। এছাড়াও বিভিন্ন দূতাবাস, জাতিসংঘের সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ফটোবুকটির মোড়ক উন্মোচনের পর অতিথিরা ‘লিসেন’-এ স্থান পাওয়া নির্বাচিত আলোকচিত্র ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের গল্প নিয়ে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের প্রামাণ্য আলোকচিত্র ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেয়।

‘লিসেন’ শুধুমাত্র একটি ফটোবুক নয়; এটি মানবপাচার থেকে বেঁচে ফেরা মানুষের কণ্ঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। পরিসংখ্যান ও সংবাদ শিরোনামের গণ্ডি পেরিয়ে এটি মানবপাচারের পেছনের মানবিক গল্পগুলো তুলে ধরেছে। শক্তিশালী আলোকচিত্র ও গভীর ব্যক্তিগত বর্ণনার মাধ্যমে বইটিতে নারী, পুরুষ, কিশোরী ও শিশুসহ বিভিন্ন ধরনের পাচার ও শোষণের শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে মানবপাচারের বহুমাত্রিক রূপ এবং মানুষকে কীভাবে বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শোষণের মুখে ঠেলে দেয়, তাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইওএমের অপারেশনসবিষয়ক উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস বলেন, ‘লিসেনে আমরা যে গল্পগুলো দেখছি, সেগুলো অসংখ্য অজানা গল্পের মাত্র একটি অংশ। প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প সামনে আসে, যা মানবপাচারের ভয়াবহ প্রভাবকে আমাদের সামনে তুলে ধরে। আমাদের আর নতুন গল্পের প্রয়োজন নেই। মানবপাচার মোকাবিলায় অর্থবহ পদক্ষেপ শুরু হতে পারে তখনই, যখন আমরা বেঁচে ফেরা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনব এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণ, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ এবং সুরক্ষা কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবে আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ ধরনের অপরাধ দমনে শক্তিশালী আইন, কার্যকর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতন ও সম্পৃক্ত জনগোষ্ঠীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘লিসেন’ বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে এবং আমাদের সবাইকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষার যৌথ দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’

বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক বলেন, ‘লিসেন’ মানবপাচার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী উদ্যোগ এবং এটি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বেঁচে ফেরা মানুষের কণ্ঠকে কেন্দ্রস্থলে রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।

কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম মানবপাচার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের কেন্দ্র করে সহায়তা কার্যক্রম জোরদার এবং অংশীদারত্বের মাধ্যমে মানবপাচার প্রতিরোধে কোইকার অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

কোইকার সহায়তায় ‘লিসেন’ ফটোবুকটি তৈরি করা হয়েছে। এটি মানবপাচার প্রতিরোধ, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সুরক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আইওএমের চলমান উদ্যোগের অংশ। প্রকাশনাটি মানবপাচারের বিভিন্ন রূপ এবং মানুষকে শোষণের ঝুঁকিতে ফেলে এমন জটিল বাস্তবতা সম্পর্কে গভীরতর উপলব্ধি তৈরিতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানটি একই সঙ্গে বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির অংশ ছিল। এ উপলক্ষে মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং অংশীদারত্ব আরও জোরদারে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজের মধ্যে টেকসই সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে অতিথিরা আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং ‘লিসেন’-এ স্থান পাওয়া আলোকচিত্র ও জীবনগল্পের সঙ্গে পরিচিত হন। এ সময় তারা মানবপাচার, শোষণ ও নির্যাতনমুক্ত একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow