মানহীন পণ্য প্রত্যাহারে গড়িমসি করছে কোম্পানিগুলো
গত এক সপ্তাহে দুদফায় ১১টি পণ্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকারের দুটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে সেগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারে গড়িমসি করছে কোম্পানিগুলো। বরং এখনো দেদারসে বিক্রি হচ্ছে প্রায় এসব পণ্য। গত বৃহস্পতিবার মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাস্টার্ড কেক ও ব্রেড (পাউরুটি) বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ বাদেও এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে পাড়া-মহল্লার দোকানে। এরমধ্যে ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডকে ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট) ও ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট) এখনো দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া আরবোটিং ফুড কোম্পানি লিমিটেডের স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যামও রয়েছে কিছু দোকানে। আরও পড়ুন বাজার থেকে তিন প্রতিষ্ঠানের ৩ খাদ্যপণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ তবে বাজার থেকে এসব পণ্য তুলে নেওয়ার পাশাপাশি কোম্পানি তিনটিকে খাদ্যপণ্যের বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বিএফএসএ। অন্যদিকে, গত
গত এক সপ্তাহে দুদফায় ১১টি পণ্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকারের দুটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে সেগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহারে গড়িমসি করছে কোম্পানিগুলো। বরং এখনো দেদারসে বিক্রি হচ্ছে প্রায় এসব পণ্য।
গত বৃহস্পতিবার মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাস্টার্ড কেক ও ব্রেড (পাউরুটি) বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ বাদেও এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে পাড়া-মহল্লার দোকানে।
এরমধ্যে ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডকে ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট) ও ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট) এখনো দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া আরবোটিং ফুড কোম্পানি লিমিটেডের স্লাইস ব্রেড মিক্স জ্যামও রয়েছে কিছু দোকানে।
তবে বাজার থেকে এসব পণ্য তুলে নেওয়ার পাশাপাশি কোম্পানি তিনটিকে খাদ্যপণ্যের বিপণন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বিএফএসএ।
অন্যদিকে, গত সোমবার চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সেসব পণ্যও প্রত্যাহারের কোনো উদ্যোগের কথা জানা যায়নি।
বিএসটিআইয়ের নিষিদ্ধ পণ্য প্রত্যাহারে তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মাঝে তারা তাদের সরবরাহকৃত মালামাল দোকান থেকে প্রত্যাহার না করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওইসব কোম্পানির সনদ বাতিল বা জেল-জরিমানা করা হবে।—মো. আলাউদ্দিন হুসাইন
ঢাকার বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লায় এসব এখনো বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও অনেক বিক্রেতা এসব পণ্য প্রত্যাহারের বিষয়টি জানেন না। যে কারণে তারাও না জেনে দেদারসে বিক্রি করছেন। কেক ও পাউরুটি এখনো খুচরা দোকানগুলোতে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রেখেই বিক্রি করতে দেখা গেছে।
মানহীন ইস্ট গ্রুপের পণ্য প্রত্যাহার প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার গোলাম ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, নির্দেশনার পরপরই আমরা পণ্যটির উৎপাদন বন্ধ করেছি। বাজার থেকেও তুলে নেওয়ার জন্য ডিলার ও বিক্রয় প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তারপরও কীভাবে পণ্য বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখা গেছে, এক ডিলারের অধীনে অনেক খুচরা দোকান থাকে, সব জায়গা থেকে তুলতে সময় লাগবে। আমাদের আদেশ হয়েছে বৃহস্পতিবার। এরপর শুক্র-শনিবার বন্ধ ছিল। এরপর চারদিন গেছে। এ সামান্য সময়ে সারাদেশ থেকে এসব পণ্য তোলা সম্ভব নয়। ঢাকায় তুলতে গেলেই তো সাত-আটদিন লাগবে।
এদিকে, পণ্য বাজারে থাকায় এসব খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন সাধারণ ভোক্তারা। রামপুরা জামতলা এলাকায় এক দোকানি জানান, তারা পণ্য প্রত্যাহার বিষয়ে কোনোকিছু জানেন না। তাদের ডিলার এখনো পণ্য দিচ্ছেন। ক্রেতারাও আগের মতো কিনে খাচ্ছেন।
এগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়ার জন্য কোম্পানিগুলোকে কঠিন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমরা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের বার্তা দিয়েছি, বাজারে এসব পণ্য পাওয়া গেলে যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।—শফিকুল ইসলাম
দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানিগুলো পণ্য প্রত্যাহারে দীর্ঘসূত্রতার কথা বললেও দু-একদিনের মধ্যেই সেটা করা সম্ভব। কারণ পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্ডারের এক-দুদিনের মধ্যে সেটা দোকানে এসে পৌঁছায়। একই পদ্ধতিতে পণ্য প্রত্যাহারে এতো সময় লাগার কথা নয়। মূলত কোম্পানিগুলো গড়িমসি করছে। তারা চাচ্ছে, পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার না করে সেটি বিক্রির মাধ্যমে লোকসান কমাতে।
বিএসটিআই যে চার কোম্পানির পণ্য মানহীন ঘোষণা করেছে সেগুলো হলো- ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেস, কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেড ও ডেকো ফুডস লিমিটেড। তাদের পণ্য প্রত্যাহারের কোনো কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এসব কোম্পানির জুস, শ্যাম্পু, আইসক্রিম, লোশনসহ আট ধরনের পণ্যের জন্য এ নির্দেশনা এসেছে।
মধ্যবাড্ডা এলাকায় এক দোকানি আমিনুল জাগো নিউজকে বলেন, খবরে দেখেছি, কিন্তু কোম্পানির লোক এখনো কিছু বলেনি। তারা আসেওনি। যে কারণে এখনো বিক্রি করছি।
সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, বাজারে যদি এসব পণ্য পাওয়া যায়, তাহলে কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন করে অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ওইসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ সম্পূর্ণ নিষেধ।
খবরে দেখেছি, কিন্তু কোম্পানির লোক এখনো কিছু বলেনি। তারা আসেওনি। যে কারণে এখনো বিক্রি করছি।
এ বিষয়ে বিএফএসএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়ার জন্য কোম্পানিগুলোকে কঠিন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আমরা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের বার্তা দিয়েছি, বাজারে এসব পণ্য পাওয়া গেলে যেন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জনগণকেও এসব পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের পরিচালক মো. আলাউদ্দিন হুসাইন জাগো নিউজকে বলেন, বিএসটিআইয়ের নিষিদ্ধ পণ্য প্রত্যাহারে তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মাঝে তারা তাদের সরবরাহকৃত মালামাল দোকান থেকে প্রত্যাহার না করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ওইসব কোম্পানির সনদ বাতিল বা জেল-জরিমানা করা হবে।
জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন-২০১৮ উভয় আইনে পণ্য প্রত্যাহারে ব্যত্যয় হলে মামলা, জরিমানা ও কারাদণ্ডসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এনএইচ/এমকেআর
What's Your Reaction?


