মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়: শিশির মনির

মানুষের মধ্যে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লাগার কারণে সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘একজন ভদ্রলোক কখনো মামলা করতে যেতে চান না। কারণ একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে যে পরিমাণ সময় লাগে, একজন মানুষের পক্ষে ততটা ধৈর্য ধারণ করা কঠিন। মানুষ পুলিশের কাছে মামলা করতে ভয় পায়, পুলিশের কাছে যেতে আস্থা পায় না।’ তিনি বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। হাইকোর্টে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৬টি মৃত্যুদণ্ডের মামলা ঝুলে রয়েছে। আদালত প্রতিদিন পরিচালিত হলেও আগামী ১০ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না।’ শিশির মনির আরও বলেন, ‘মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চায়। কিন্তু বিচার

মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়: শিশির মনির

মানুষের মধ্যে পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

তিনি বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর সময় লাগার কারণে সাধারণ মানুষ এখন পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘একজন ভদ্রলোক কখনো মামলা করতে যেতে চান না। কারণ একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে যে পরিমাণ সময় লাগে, একজন মানুষের পক্ষে ততটা ধৈর্য ধারণ করা কঠিন। মানুষ পুলিশের কাছে মামলা করতে ভয় পায়, পুলিশের কাছে যেতে আস্থা পায় না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। হাইকোর্টে বর্তমানে ১ হাজার ২৩৬টি মৃত্যুদণ্ডের মামলা ঝুলে রয়েছে। আদালত প্রতিদিন পরিচালিত হলেও আগামী ১০ বছরেও এসব মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না।’

শিশির মনির আরও বলেন, ‘মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চায়। কিন্তু বিচার করা তো প্রধানমন্ত্রীর কাজ নয়। জনগণ আর কোনো উপায় খুঁজে পায় না বলেই এমনটি করে।’

আলোচনা সভায় বক্তারা নির্যাতন, বিচারহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কার্যকর ও জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায় বন্ধ এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

সভায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার-এর পরিচালক (প্রোগ্রামস) মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি) তাসকিন ফাহমিনা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ড. ফয়েজুল হাকিম, দ্য ডেইলি ওয়াদারের সম্পাদক-ইন-চিফ শফিকুল আলম, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow