মারা গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত বিল মাইলাম
মারা গেছেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বিল মাইলাম। ৮৯ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্ট্যাটাসে মুশফিকুল আনসারী বলেন, ‘ঢাকায় থাকা অবস্থায় আচমকা এক দুঃসংবাদ আমার ভেতরটা উলোটপালট করে দিল। চলে গেলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বিল মাইলাম। তার মেয়ে, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এরিকা মাইলামের ইমেইলে খবরটি জানলাম এবং পরক্ষণে পেলাম বন্ধু ও সহকর্মী Jon Danilowicz এর হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ। শোকে স্তব্ধ ও গভীর বেদনাহত। ‘বিল মাইলামের কাছে আমার ব্যক্তিগত ঋণ অসীম। ওয়াশিংটনে আমার স্থিতু হওয়া থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডম গড়ে তোলা, সাউথ এশিয়া পার্সপেক্টিভস (এসএপি) ম্যাগাজিনের দায়িত্ব গ্রহণ, উইলসন সেন্টারের সাথে যুক্ত হওয়া —প্রতিটি পদক্ষেপে তার স্নেহময় দিকনির্দেশনা ও অক
মারা গেছেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বিল মাইলাম। ৮৯ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্ট্যাটাসে মুশফিকুল আনসারী বলেন, ‘ঢাকায় থাকা অবস্থায় আচমকা এক দুঃসংবাদ আমার ভেতরটা উলোটপালট করে দিল। চলে গেলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বিল মাইলাম। তার মেয়ে, প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এরিকা মাইলামের ইমেইলে খবরটি জানলাম এবং পরক্ষণে পেলাম বন্ধু ও সহকর্মী Jon Danilowicz এর হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ। শোকে স্তব্ধ ও গভীর বেদনাহত।
‘বিল মাইলামের কাছে আমার ব্যক্তিগত ঋণ অসীম। ওয়াশিংটনে আমার স্থিতু হওয়া থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডম গড়ে তোলা, সাউথ এশিয়া পার্সপেক্টিভস (এসএপি) ম্যাগাজিনের দায়িত্ব গ্রহণ, উইলসন সেন্টারের সাথে যুক্ত হওয়া —প্রতিটি পদক্ষেপে তার স্নেহময় দিকনির্দেশনা ও অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি।’
‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি ছিলেন আমাদের নির্ভরযোগ্য সারথি। ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগদানকারী এই পেশাদার কূটনীতিক ১৯৯০–১৯৯৩ সময়কালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের শাসনের অবসান ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় তিনি সেসময়েও ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের পাশে।’
‘অবসরের আগে তিনি পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে (১৯৯৮–২০০১) দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে লাইবেরিয়ায় (১৯৯৫–১৯৯৮) তার নেতৃত্বে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে, অনুষ্ঠিত হয় অবাধ নির্বাচন, প্রতিষ্ঠিত হয় নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। নাইন ইলেভেনের পর তাকে আবারও দায়িত্বে ডাকা হয়। আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে তিনি কাজ করেন এবং লিবিয়ার ত্রিপোলিতে অন্তর্বর্তীকালীন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।’
‘স্টেট ডিপার্টমেন্টের জেমস ক্লিমেন্ট ডান অ্যাওয়ার্ড, সুপিরিয়র অনার অ্যাওয়ার্ড এবং প্রেসিডেন্সিয়াল মেরিটোরিয়াস সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন—যা তার সততা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি।’
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি বলেন, ‘বিল মাইলামের প্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশ হারালো এক অকৃত্রিম বন্ধুকে, আর আমি হারালাম একজন প্রজ্ঞাবান মেন্টর, স্নেহশীল অভিভাবক। তার স্মৃতি আমার পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’
What's Your Reaction?