মালদিনির নতুন দাবি, গার্দিওলা ইতালির কোচ প্রায় হয়েই গিয়েছিলেন!
ইতালির জাতীয় দলের কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলাকে পাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। এমনকি অর্থও নাকি কোনো বাধা ছিল না। বরং গার্দিওলা আগের কোচের চেয়েও কম বেতনে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নের প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এবার সেই ব্যর্থতার নেপথ্যের গল্প সামনে আনলেন ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেল্লা সেরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালদিনি জানিয়েছেন, ইতালিয়ান ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। আর সেই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে গার্দিওলাকে নিয়োগ দেওয়া। মালদিনির ভাষায়, গার্দিওলাকে নিয়ে আলোচনা শুধু প্রাথমিক যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং দুই পক্ষের কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। এমনকি ইতালির বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত খেলোয়াড়দের তালিকা নিয়েও কাজ শুরু করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ কোচ। মালদিনি বলেন, ‘গার্দিওলার সঙ্গে আমরা অনূর্ধ্ব-১৭ দল থেকে শুরু করে ওপরের সব দলের খেলোয়াড়দের তালিকা নিয়ে কাজ করেছি। তিনি এমনকি একাদশও লিখতে শুরু করে
ইতালির জাতীয় দলের কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলাকে পাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। এমনকি অর্থও নাকি কোনো বাধা ছিল না। বরং গার্দিওলা আগের কোচের চেয়েও কম বেতনে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নের প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এবার সেই ব্যর্থতার নেপথ্যের গল্প সামনে আনলেন ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনি।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যম কোরিয়েরে দেল্লা সেরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালদিনি জানিয়েছেন, ইতালিয়ান ফুটবলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। আর সেই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জাতীয় দলের কোচ হিসেবে গার্দিওলাকে নিয়োগ দেওয়া।
মালদিনির ভাষায়, গার্দিওলাকে নিয়ে আলোচনা শুধু প্রাথমিক যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং দুই পক্ষের কথাবার্তা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। এমনকি ইতালির বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত খেলোয়াড়দের তালিকা নিয়েও কাজ শুরু করেছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্প্যানিশ কোচ।
মালদিনি বলেন, ‘গার্দিওলার সঙ্গে আমরা অনূর্ধ্ব-১৭ দল থেকে শুরু করে ওপরের সব দলের খেলোয়াড়দের তালিকা নিয়ে কাজ করেছি। তিনি এমনকি একাদশও লিখতে শুরু করেছিলেন।’
অর্থাৎ ইতালির দায়িত্ব নেওয়ার সম্ভাবনাকে গার্দিওলা যে নিছক আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখছিলেন না, সেটিই স্পষ্ট হয়েছে মালদিনির বক্তব্যে। সম্ভাব্য কোচিং প্রকল্পের খেলোয়াড় বাছাই ও কৌশল নিয়েও তিনি ভাবতে শুরু করেছিলেন।
গার্দিওলা চেয়েছিলেন এক ইউরো কম!
আলোচনার একপর্যায়ে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েও কথা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও গার্দিওলার আগ্রহ ছিল বিস্ময়কর। মালদিনি জানিয়েছেন, ইতালির আগের কোচ যে বেতন পেতেন, তার চেয়েও মাত্র এক ইউরো কম পেলেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন গার্দিওলা।
মালদিনি বলেন, ‘গার্দিওলা আমাদের বলেছিলেন, শেষ কোচ যত বেতন পেতেন, তার চেয়ে এক ইউরো কম দিন, আমি প্রস্তুত।’ তাহলে প্রশ্ন- এতটা এগিয়ে গিয়েও কেন ভেস্তে গেল গার্দিওলাকে ইতালির কোচ করার পরিকল্পনা?
মালদিনির দাবি, অর্থ কোনোভাবেই সমস্যা ছিল না। গার্দিওলার আপত্তির কারণ ছিল অন্যত্র। ম্যানচেস্টার সিটিতে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল পিঠে অস্ত্রোপচারের বিষয়টিও।
‘তিনি অর্থের কারণে না করেননি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টানা প্রায় ১০ বছর কঠিন পরিশ্রমের পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার পিঠেও অস্ত্রোপচার হয়েছিল,’ বলেন মালদিনি।
অর্থাৎ গার্দিওলার জন্য ইতালির জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার দরজা প্রায় খুলেই গিয়েছিল, কিন্তু সেই মুহূর্তে তার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। দীর্ঘ এক দশকের ক্লাব ফুটবলের চাপ থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টিই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে দাঁড়ায়।
শুধু কোচ নিয়োগ নয়, ছিল বড় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা
মালদিনির পরিকল্পনা অবশ্য কেবল জাতীয় দলের জন্য একজন তারকা কোচ নিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ইতালিয়ান ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন করতে চেয়েছিলেন। বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দল- পুরো কাঠামোকে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অধীনে আনার চিন্তা ছিল তার।
কিন্তু ফেডারেশনের সভাপতি মালাগোর সঙ্গে মতপার্থক্য ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে। মালদিনির দাবি, যে স্বাধীনতা ও আস্থার ভিত্তিতে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেটি আর বজায় ছিল না। সেই কারণেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ইতালির সাবেক এই ডিফেন্ডার।
‘আমরা পদত্যাগ করেছিলাম, কারণ প্রয়োজনীয় আস্থার পরিবেশ আর ছিল না,’ বলেন মালদিনি।
নিজের অবস্থান নিয়েও কোনো অনুশোচনা নেই তার। বরং দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা নিয়ে নিজের অবস্থানকে কঠোরভাবে সমর্থন করেছেন তিনি।‘নিজের কাজ রক্ষা করা এবং নিজের দায়িত্ব নেওয়াকে যদি কঠোর অবস্থান বলা হয়, তাহলে আমি কঠোরই,’ বলেন মালদিনি।
গার্দিওলা না হলে পছন্দ ছিল পিরলো
গার্দিওলাকে পাওয়া সম্ভব না হওয়ার পর মালদিনির পছন্দের তালিকায় ছিলেন আরেক ইতালিয়ান কিংবদন্তি- আন্দ্রেয়া পিরলো। মালদিনির চোখে, ইতালির জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব গুণই ছিল পিরলোর মধ্যে। যদিও কোচ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে সেই যুক্তিও মানতে নারাজ মালদিনি।
বিশ্বকাপজয়ী কোচদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘শেষ দুই বিশ্বকাপজয়ী কোচ স্কালোনি ও দে লা ফুয়েন্তের কোচিং রেকর্ড কী ছিল?’
আর্জেন্টিনাকে ২০২২ বিশ্বকাপ জেতানো লিওনেল স্কালোনি এবং স্পেনকে ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতানো লুইস দে লা ফুয়েন্তের উদাহরণ দিয়ে মালদিনি বোঝাতে চেয়েছেন, জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য দীর্ঘ ক্লাব কোচিং ক্যারিয়ার থাকতেই হবে- এমন কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। তার মতে, পিরলো এই দায়িত্বের জন্য ‘অত্যন্ত প্রস্তুত’ ছিলেন।
পিরলোর বেটিং-সংশ্লিষ্টতার বিতর্কও বাধা হয়নি
পিরলোর প্রার্থিতার পথে আরেকটি বিতর্ক ছিল একটি বেটিং কোম্পানির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা। তবে মালদিনির দাবি, সেটি ছিল পিরলোকে বাদ দেওয়ার একটি অজুহাত মাত্র। ‘এটি ছিল একটি অজুহাত,’ বলেন তিনি।
মালদিনির বক্তব্য অনুযায়ী, পিরলোর জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা ছিল না। প্রয়োজন হলে ওই রুশ কোম্পানির সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন করতে প্রস্তুত ছিলেন সাবেক ইতালিয়ান মিডফিল্ডার।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেডারেশন সভাপতি মালাগো পিরলোকে বেছে নেননি। ফলে পিরলোর পাশাপাশি ড্যানিয়েলে দে রসি ও ফাবিও গ্রোসোর মতো সম্ভাব্য নামও আলোচনার বাইরে চলে যায়।
থিয়াগো মোত্তা ছিলেনই না তালিকায়
ইতালির কোচ হওয়ার আলোচনায় থিয়াগো মোত্তার নামও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছিল। তবে মালদিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তার পরিকল্পনায় মোট্টা কখনোই ছিলেন না। ‘তিনি কখনোই আমাদের বিকল্পগুলোর মধ্যে ছিলেন না,’ বলেন মালদিনি।
সব মিলিয়ে মালদিনির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইতালির জাতীয় দলকে নতুনভাবে সাজানোর একটি বড় পরিকল্পনা ছিল তার। সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিলেন গার্দিওলা, যিনি অর্থের বিষয়েও আপস করতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, শারীরিক সমস্যা এবং ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
আর গার্দিওলার পর মালদিনির পছন্দের পিরলোও সুযোগ না পাওয়ায় ইতালিয়ান ফুটবলের সম্ভাব্য একটি ভিন্ন অধ্যায়েরও ইতি ঘটে শুরু হওয়ার আগেই।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?