মাসদার হোসেনের সনদ স্থগিত করলো বার কাউন্সিল, কারণ দর্শানোর নোটিশ

মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেনের ‘আইনজীবী সনদ’ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। একই সঙ্গে তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, এই মর্মে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সে পর্যন্ত তার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে বার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনজীবী মাসদার হোসেন কর্তৃক মক্কেলের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ করা সংক্রান্ত সংবাদটি বার কাউন্সিলের গোচরীভূত হয়েছে। আইনজীবী মাসদার হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন বিবেচনায় নিয়ে বার কাউন্সিল বুধবার (১৫ এপ্রিল) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তার সনদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগ পর্যন্ত বিচার বিভাগ পৃথককরণ মামলার বাদী হিসেবে সুপরিচিত মাসদার হোসেন এখন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেন উ

মাসদার হোসেনের সনদ স্থগিত করলো বার কাউন্সিল, কারণ দর্শানোর নোটিশ

মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেনের ‘আইনজীবী সনদ’ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

একই সঙ্গে তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, এই মর্মে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সে পর্যন্ত তার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে বার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনজীবী মাসদার হোসেন কর্তৃক মক্কেলের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ করা সংক্রান্ত সংবাদটি বার কাউন্সিলের গোচরীভূত হয়েছে। আইনজীবী মাসদার হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা ও পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্ন বিবেচনায় নিয়ে বার কাউন্সিল বুধবার (১৫ এপ্রিল) সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তার সনদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগ পর্যন্ত বিচার বিভাগ পৃথককরণ মামলার বাদী হিসেবে সুপরিচিত মাসদার হোসেন এখন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেন উচ্চ আদালতে। সেই সুবাদে এক মক্কেলের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বিনিময়ে তিনি তার মক্কেলের কোনো কাজ করেননি। ফলে ভুক্তভোগী ওই বিচারপ্রার্থীকে আরও ৪২ লাখ টাকার বেশি খেসারত গুনতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ওই ভুক্তভোগীর পক্ষে এসব অভিযোগ লিখিতভাবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কাছে জমা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণসহ টাকা ফেরত চেয়েছেন।

মাসদার হোসেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেছেন। ১৯৯৪ সালে জুডিসিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব থাকাকালে মাসদার হোসেন দেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য মামলা করেন। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথককরণের ওই রিট মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয় ১৯৯৯ সালে।

ওই রায়ের পর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক ঘোষণা করা হয়। বিচার বিভাগ পৃথককরণের ঐতিহাসিক এ মামলাটি ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিত।

এফএইচ/এমকেআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow