মাহমুদা লাবনীর গুচ্ছ কবিতা

চক্র  আমার ভীষণ ঈর্ষা হয় সেই মেয়েটিকে যার দিকে তুমি দুবার ঘুরে তাকিয়েছিলে।  আমিও তাকিয়েছিলাম ভীষণ কৌতূহলে দুইবার... না তিনবার।  তারপর পুরোটা রাস্তা সেই মেয়েটিকেই ভাবলাম তার শাড়ির ভাঁজ, চুলের গোছা, পায়ের স্যান্ডেল। এমনকি তার চুলের ক্লিপটাও আমার চোখ এড়িয়ে যেতে পারলো না!  তার হাঁটার ভঙ্গি কী মোহময় ছিলো?  পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় তার সুগন্ধী কী বিমোহিত করেছিলো?  নাকি চকিতে পড়া চাহনি তোমাকে বিভ্রান্ত করেছিলো?  এসব ভাবতে ভাবতে আমি অন্ধ হয়ে গেলাম,  আমার চোখে পড়লো না তখনও  আমার পাশে তোমার হাতের মাঝে আমার হাত; আমি শুনতে পেলাম না  গভীর আগ্রহে আমাকে শোনানোর জন্য  জমিয়ে রাখা তোমার সারাদিনের গল্প; আমার দিকে তোমার মুগ্ধচোখের চাহনিও আমি অগ্রাহ্য করে গেলাম।  আমার ঈর্ষা হয় সেই সকল নারীকে  যারা তোমাকে সামান্যতমও স্পর্শ করার অধিকার পেয়েছিলো সেই সকল নারীকে যাদের তুমি স্পর্শ করেছিলে কখনও একবার  ভালোবাসায় কিংবা ভালোবাসাহীনতায়। আমার ভীষণ ঈর্ষা হয়।     অপেক্ষা  প্রায় সারাদিন থেকে থেকে তোমার নামের পাশে  জ্বলে উঠে টকটকে সবুজবাতি। আমি নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করি  তোমার ডাক শুনবো বলে। তা

মাহমুদা লাবনীর গুচ্ছ কবিতা

চক্র 

আমার ভীষণ ঈর্ষা হয় সেই মেয়েটিকে

যার দিকে তুমি দুবার ঘুরে তাকিয়েছিলে। 

আমিও তাকিয়েছিলাম ভীষণ কৌতূহলে

দুইবার... না তিনবার। 


তারপর পুরোটা রাস্তা সেই মেয়েটিকেই ভাবলাম

তার শাড়ির ভাঁজ, চুলের গোছা, পায়ের স্যান্ডেল।

এমনকি তার চুলের ক্লিপটাও আমার চোখ এড়িয়ে যেতে পারলো না! 

তার হাঁটার ভঙ্গি কী মোহময় ছিলো? 

পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় তার সুগন্ধী কী বিমোহিত করেছিলো? 

নাকি চকিতে পড়া চাহনি তোমাকে বিভ্রান্ত করেছিলো? 

এসব ভাবতে ভাবতে আমি অন্ধ হয়ে গেলাম, 

আমার চোখে পড়লো না তখনও 

আমার পাশে তোমার হাতের মাঝে আমার হাত;

আমি শুনতে পেলাম না 

গভীর আগ্রহে আমাকে শোনানোর জন্য 

জমিয়ে রাখা তোমার সারাদিনের গল্প;

আমার দিকে তোমার মুগ্ধচোখের চাহনিও আমি অগ্রাহ্য করে গেলাম। 

আমার ঈর্ষা হয় সেই সকল নারীকে 

যারা তোমাকে সামান্যতমও স্পর্শ করার অধিকার পেয়েছিলো

সেই সকল নারীকে যাদের তুমি স্পর্শ করেছিলে কখনও একবার 

ভালোবাসায় কিংবা ভালোবাসাহীনতায়।

আমার ভীষণ ঈর্ষা হয়।

 

 

অপেক্ষা 

প্রায় সারাদিন থেকে থেকে তোমার নামের পাশে 

জ্বলে উঠে টকটকে সবুজবাতি।

আমি নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করি 

তোমার ডাক শুনবো বলে।

তারপর নিভে যাওয়া বাতির দিকে তাকিয়ে 

আমি আস্তে করে ছেড়ে দেই

বুকের মধ্যে ধরে রাখা নিঃশ্বাস।

যেন কেউ শুনে না ফেলে।

অভিমানে নিজের থেকে আড়াল করি

অশ্রুসিক্ত নিজের দুই চোখ।

কয়েকটি কল আর মেসেজের পরে 

তোমার নামের পাশে দীর্ঘক্ষণ জ্বলে থাকা সবুজবাতি

অভিমানের নাম।

সে অভিমানের ভাষা তুমি বোঝো না।

 

 

বোধন 

এরকমই কাঁপুনি আসে প্রতিবার শরীরজুড়ে। 

ইচ্ছে হয় তোমাকে আর একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরি 

তপ্ত নিঃশ্বাসে পুড়ে তুমিও কিছুটা উত্তপ্ত হও। 

কিন্তু তুমি কপালে ছোঁয়াও তোমার ঠান্ডা হাত 

আমি আর একটু কেঁপে উঠি, মাথা রাখি তোমার কোলে 

তুমি হাত সরিয়ে উষ্ণ ঠোঁট রাখো চোখের পাতায়। 

হঠাৎ ভীষণ ভয় হয় আমার -

চোখ মেলে তোমায় দেখতে গেলে তন্দ্রা ভেঙ্গে যায়; 

বুঝি- আজ রাতে আমার ভীষণ জ্বর।

 

 

ফিনিক্স 

আমার দৃঢ়তা কি তোমাকে দুর্বল করে দেয়?

কেন তাহলে নুয়ে পড়ো সেই বিবর্ণ লতাটার মতো? 

আমার ঔদ্ধত্য কি তোমাকে বিস্মিত করে? 

তুমি কি আমাকে ভেঙে পড়তে দেখতে চাও? 

গড়িয়ে পড়া চোখের জলের মতো? 


 
তুমি তিক্ত মিথ্যা দিয়ে আমাকে লিখতেই পারো;

ধুলোর মতো মাড়িয়ে যেতে পারো পায়ের তলায় 

আমাকে তুমি আঘাত করতেই পারো-

জর্জরিত করতে পারো তোমার নোংরা কথায় 

আমাকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে তোমার দৃষ্টি।

কিন্তু তবুও-

আমি জেগে উঠবো বাতাসের ঘূর্ণির মতো 

আমি জেগে উঠবো ধুলিঝড়ের মতো

রাতের চাঁদ এবং দিনের সূর্যের মতো

নিশ্চিত ধেয়ে আসা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো- 

নতুন বসন্তের মতো আমি জেগে উঠবো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow