মা চোখের আড়াল হলেই শিশু অস্থির হয়ে পড়ে কেন
অনেক নতুন মা বলেন – পাঁচ মিনিটের জন্য টয়লেটে গেলেও শিশু চিৎকার করে কান্না করতে থাকে, চোখের আড়াল হওয়া যায় না। এমন ক্ষেত্রে অনেক সময় বড়রা পরামর্শ দেন - শিশুকে কাঁদতে দিলে একাই থেমে যাবে, সবসময় কলে করে রাখলে অভ্যাস খারাপ হয়ে যাবে। কিন্তু এটা কি সঠিক উপায়? আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর এই প্রতিক্রিয়া কোনো অভ্যাস বা জেদ নয়, মা চোখের আড়াল হলে অস্থির হয়ে যাওয়া শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। শিশুর মস্তিষ্ক কীভাবে বিষয়টি বোঝে? নবজাতকের মস্তিষ্ক এখনো সময় বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারে না। সে জানে না, মা একটু পরেই ফিরে আসবেন। তাই যখন সে মাকে দেখতে পায় না, শুনতে পায় না বা ছুঁতে পারে না, তখন মস্তিষ্ক সেটিকে সাময়িক বিচ্ছেদ হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে ধরে নেয়। সেই মুহূর্তে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র সারভাইভাল মোডে চলে যায়। এসময় শিশুর শরীরে কী ঘটে? মাকে দেখতে না পেলে শিশুর স্ট্রেস রেসপন্স সিস্টেম সক্রিয় হয়ে যায়। এসময় শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরকে সতর্ক করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে এই কর্টিসল স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণও হয়ে যেতে পারে। তবে এটি শিশুর দুর্বলতা না, বরং প্রাকৃতিক
অনেক নতুন মা বলেন – পাঁচ মিনিটের জন্য টয়লেটে গেলেও শিশু চিৎকার করে কান্না করতে থাকে, চোখের আড়াল হওয়া যায় না। এমন ক্ষেত্রে অনেক সময় বড়রা পরামর্শ দেন - শিশুকে কাঁদতে দিলে একাই থেমে যাবে, সবসময় কলে করে রাখলে অভ্যাস খারাপ হয়ে যাবে। কিন্তু এটা কি সঠিক উপায়?
আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর এই প্রতিক্রিয়া কোনো অভ্যাস বা জেদ নয়, মা চোখের আড়াল হলে অস্থির হয়ে যাওয়া শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা।
শিশুর মস্তিষ্ক কীভাবে বিষয়টি বোঝে?
নবজাতকের মস্তিষ্ক এখনো সময় বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারে না। সে জানে না, মা একটু পরেই ফিরে আসবেন। তাই যখন সে মাকে দেখতে পায় না, শুনতে পায় না বা ছুঁতে পারে না, তখন মস্তিষ্ক সেটিকে সাময়িক বিচ্ছেদ হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে ধরে নেয়। সেই মুহূর্তে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র সারভাইভাল মোডে চলে যায়।
এসময় শিশুর শরীরে কী ঘটে?
মাকে দেখতে না পেলে শিশুর স্ট্রেস রেসপন্স সিস্টেম সক্রিয় হয়ে যায়। এসময় শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরকে সতর্ক করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে এই কর্টিসল স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণও হয়ে যেতে পারে। তবে এটি শিশুর দুর্বলতা না, বরং প্রাকৃতিকভাবে তার নিরাপত্তার জন্য তৈরি একটি প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
এ পরিস্থিতিতে দেখা যায় শিশুর কান্না দ্রুত তীব্র হয় এবং তার নিজে নিজে শান্ত হওয়ার ক্ষমতা ভেঙে পড়ে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা কান্না থামাতে পারে না কারণ তাদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া তখনো পরিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠেনি। তাদের শান্ত হতে সাহায্য করতে হয় বাইরের নিরাপত্তার মাধ্যমে – যেমন মায়ের কণ্ঠ, স্পর্শ বা উপস্থিতি।
সাড়া দিলে কী হয়?
মা-বাবা যখন শিশুকে কোলে নেন, কথা বলেন বা শান্তভাবে সাড়া দেন, তখর শিশুর শরীরে কর্টিসল দ্রুত কমে আসে। স্নায়ুতন্ত্র আবার ভারসাম্যে ফেরে ও শিশুর মস্তিষ্ক শেখে - বিচ্ছেদের পরও নিরাপত্তা ফিরে আসে।
বারবার এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলে শিশুর ভেতরে বিশ্বাস তৈরি হয়। ভবিষ্যতে সে চাপ সামলাতে পারে, আত্মবিশ্বাসী হয় এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভিত গড়ে ওঠে।
এতে কি শিশু বেশি নির্ভরশীল হয়ে যায়?
বিজ্ঞান বলছে, ঠিক উল্টোটা। ছোটবেলায় নিয়মিত সাড়া পাওয়া শিশুরাই বড় হয়ে বেশি স্বাধীন ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল হয়। কারণ তারা জানে – বিপদ এলেও তা সাময়িক এবং নিরাপত্তা ফিরে আসে।
শিশুর কান্না থামানো মানে তাকে দুর্বল করা নয়। বরং তার স্নায়ুতন্ত্রকে ট্রেনিং দেওয়া - নিরাপত্তা ফিরে আসে। এই শেখাটাই পরবর্তী জীবনের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিতির ভিত্তি।
সূত্র: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, জার্নাল অব ডেভেলপমেন্টাল সাইকোবায়োলজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট
এএমপি/এমএস
What's Your Reaction?