মুমিনের নববর্ষের রাত যেমন হওয়া উচিত

ঘড়ির কাঁটার কটকট শব্দে সময় বদলায়। বদলায় আলো-আঁধারির ক্ষণ। মানবজীবনে আসে নতুন দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে নতুন বছর বা সময়ের মাঝে আলাদা করে কল্যাণ বা অকল্যাণের কিছু নেই। বর্তমানে পহেলা বৈশাখ বা বর্ষবরণের নামে যেসব অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড দেখা যায়, তা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন। এ ধরনের বিশৃঙ্খল সংস্কৃতি থেকে বিরত থাকতে কোরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ৮৫) নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির আচার-আচরণ ও কৃষ্টি-কালচার অনুসরণ করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত বিবেচিত হবে।’(সুনানে আবু দাউদ : ২৭৩২) কোরআনের অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘প্রত্যেক জাতির জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান ও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।’(সুরা মায়িদা : ৪৮) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘যদি তুমি খারাপ কাজ করে খারাপ মনে করো এবং ভালো কাজ করে ভ

মুমিনের নববর্ষের রাত যেমন হওয়া উচিত

ঘড়ির কাঁটার কটকট শব্দে সময় বদলায়। বদলায় আলো-আঁধারির ক্ষণ। মানবজীবনে আসে নতুন দিন, সপ্তাহ, মাস ও বছর। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে নতুন বছর বা সময়ের মাঝে আলাদা করে কল্যাণ বা অকল্যাণের কিছু নেই।

বর্তমানে পহেলা বৈশাখ বা বর্ষবরণের নামে যেসব অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড দেখা যায়, তা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ এবং শরিয়তের সীমা লঙ্ঘন।

এ ধরনের বিশৃঙ্খল সংস্কৃতি থেকে বিরত থাকতে কোরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ৮৫)

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির আচার-আচরণ ও কৃষ্টি-কালচার অনুসরণ করবে, সে তাদেরই দলভুক্ত বিবেচিত হবে।’(সুনানে আবু দাউদ : ২৭৩২)

কোরআনের অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘প্রত্যেক জাতির জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান ও সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।’(সুরা মায়িদা : ৪৮)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘যদি তুমি খারাপ কাজ করে খারাপ মনে করো এবং ভালো কাজ করে ভালো লাগে, তাহলে তুমি মুমিন। কিন্তু যদি খারাপ কাজ করে ভালো লাগে আর ভালো কাজ করে খারাপ লাগে, তাহলে তুমি মুমিন হতে পার না।’ (সহিহ মুসলিম : ১৯২৭)

তাহলে বাংলা নববর্ষের রাত কীভাবে কাটাবেন?

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের (মিরপুর-১২) ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে বলেন, একজন ইমানদারের জন্য প্রতিটি দিন ও রাতই মূল্যবান। তাই বছরের প্রথম রাত উত্তাল উদযাপন বা গোনাহে কাটানো নয়; বরং কোরআন ও হাদিসের নির্দেশিত পথে কাটানোই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।

এ রাতে একজন মুসলিম যেভাবে সময় কাটাতে পারেন

১. বিগত বছরের গোনাহের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিক তওবা করা, আত্মসমালোচনার মাধ্যমে আগামী বছরের কল্যাণ কামনা করা।

২. সিজদাবনত হয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা—তওবা, ইস্তেগফার, দোয়া-দরুদ, নফল নামাজসহ নেক আমলে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।

৩. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা এবং নতুন বছরকে দ্বীনি ও নৈতিকভাবে সুন্দর করার প্রতিজ্ঞা করা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow