মেট্রোরেলে বিজ্ঞাপনের অর্থ ‘ভাড়া’ নয়, ‘বিজ্ঞাপন আয়’ হিসেবে গণনার দাবি
মেট্রোরেলের কোচে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) দেওয়া অর্থ ‘স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া’ নাকি ‘বিজ্ঞাপন পরিষেবা’—এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ চেয়েছে অ্যানেক্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড। সম্প্রতি এনবিআরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ডিএমটিসিএলকে দেওয়া এ অর্থকে ভাড়া হিসেবে নয়, বরং বিজ্ঞাপন আয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, লেনদেনটির প্রকৃত চরিত্র একটি সমন্বিত বিজ্ঞাপন পরিষেবার সঙ্গে সম্পর্কিত। চিঠিতে বলা হয়, ভ্যাট এসআরও-১৮৬-আইন/২০১৯/৪৩-মূসকের সংজ্ঞা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন সংস্থা বলতে কোনো পণ্য, সেবা বা অন্য কোনো বিষয়ের প্রচারণার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপন প্রস্তুত, প্রচার বা প্রচারে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্থান বা স্থাপনা ভাড়া বলতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কোনো স্থাবর স্থান বা স্থাপনা ব্যবহারের অধিকার প্রদানকে বোঝানো হয়েছে। আরও পড়ুন ঢাকায় তিন মেট্রোরেলে বড় বরাদ্দ, ঝুলে গেল তিনটি অ্যানেক্স কমিউনিকেশনসের দাবি, ডিএমটিসিএল কেবল বিজ্ঞাপনের জন্য একটি স্থান ভাড়া দেয় না। প্রতিষ্
মেট্রোরেলের কোচে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) দেওয়া অর্থ ‘স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া’ নাকি ‘বিজ্ঞাপন পরিষেবা’—এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ চেয়েছে অ্যানেক্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
সম্প্রতি এনবিআরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ডিএমটিসিএলকে দেওয়া এ অর্থকে ভাড়া হিসেবে নয়, বরং বিজ্ঞাপন আয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, লেনদেনটির প্রকৃত চরিত্র একটি সমন্বিত বিজ্ঞাপন পরিষেবার সঙ্গে সম্পর্কিত।
চিঠিতে বলা হয়, ভ্যাট এসআরও-১৮৬-আইন/২০১৯/৪৩-মূসকের সংজ্ঞা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন সংস্থা বলতে কোনো পণ্য, সেবা বা অন্য কোনো বিষয়ের প্রচারণার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞাপন প্রস্তুত, প্রচার বা প্রচারে সহায়তাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্থান বা স্থাপনা ভাড়া বলতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কোনো স্থাবর স্থান বা স্থাপনা ব্যবহারের অধিকার প্রদানকে বোঝানো হয়েছে।
অ্যানেক্স কমিউনিকেশনসের দাবি, ডিএমটিসিএল কেবল বিজ্ঞাপনের জন্য একটি স্থান ভাড়া দেয় না। প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের অবকাঠামো পরিচালনা, আলোকসজ্জা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রতিদিন হাজারও যাত্রীর কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে। ফলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞাপন পরিষেবা, যা সাধারণ ভাড়া প্রদানের সংজ্ঞার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিজ্ঞাপনগুলো চলমান মেট্রো ট্রেনের কোচের ভেতরে প্রদর্শিত হয়। একটি চলমান ট্রেনকে স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। পাশাপাশি অ্যানেক্স কমিউনিকেশনস মেট্রোর কোনো অংশের ওপর একচেটিয়া দখল বা নিয়ন্ত্রণও পায় না। ডিএমটিসিএল সম্পূর্ণ মালিকানা ও পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই রাখে এবং বিজ্ঞাপনদাতা কেবল নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ পায়।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ লেনদেনের মূল উদ্দেশ্য কোনো জায়গা ব্যবহার নয়; বরং নির্দিষ্ট যাত্রীগোষ্ঠীর কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেওয়ার একটি সমন্বিত সেবা গ্রহণ করা। তাই এটিকে বিজ্ঞাপন পরিষেবা হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
আন্তর্জাতিক উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। এতে বলা হয়, দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি), হংকংয়ের এমটিআর এবং লন্ডনের ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের (টিএফএল) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের আয়কে ‘নন-ফেয়ার রেভিনিউ’ বা বাণিজ্যিক/ বিজ্ঞাপন আয় হিসেবে বিবেচনা করে, সম্পত্তি ভাড়া হিসেবে নয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএমটিসিএলের প্রস্তুত ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতেও এ খাতের প্রাপ্তি ‘অ্যাডভার্টাইজ ইনকাম’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এ অবস্থায় অ্যানেক্স কমিউনিকেশনস এনবিআরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, ডিএমটিসিএলকে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য দেওয়া অর্থকে ভ্যাটের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত বিধানের আওতায় ‘বিজ্ঞাপন আয়’ হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ জারি করা হোক।
এদিকে, মেট্রোরেল সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। মেট্রোরেল ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় এবং পরদিন ২৯ ডিসেম্বর থেকে তা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশ চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশ চালু করা হয়। মেট্রোরেলে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞাপন কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস থেকে।
এসএম/কেএসআর
What's Your Reaction?

