মেরামত হয়নি ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, বন্যা আতঙ্ক
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ৪২টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে পরশুরাম পৌরসভার কোলাপাড়া এবং পরশুরাম বাজার ছাড়া পুরো উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, ক্ষতি হয়েছে ফসল, সড়ক, সেতু দোকানের মালামাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বেড়িবাঁধ সঠিক সময়ে মেরামত না করায় ২০২৫ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজারো মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। সরেজমিনে চিত্র ভিন্ন। মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে ছিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ২০২৪ সালের বন্যায় তলিয়ে যায়। ওই বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু এখনো মেরামত তো দূরের কথা যেভাবে ভেঙে যায় এভাবে রয়ে যায়। ভারী বৃষ্টি হলে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। পুরো এলাকা ক্ষণিকের মধ্যে প্লাবিত হয়ে যায়। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ এখনো মেরামত করা হয়নি। আকাশে মেঘ জমলেই নদীর তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক দেখা যায়। গত দুই বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই এ বছ
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ৪২টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে পরশুরাম পৌরসভার কোলাপাড়া এবং পরশুরাম বাজার ছাড়া পুরো উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, ক্ষতি হয়েছে ফসল, সড়ক, সেতু দোকানের মালামাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বেড়িবাঁধ সঠিক সময়ে মেরামত না করায় ২০২৫ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজারো মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ মেরামত করা হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। সরেজমিনে চিত্র ভিন্ন। মির্জানগর ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে ছিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ২০২৪ সালের বন্যায় তলিয়ে যায়। ওই বেড়িবাঁধ মেরামত না করায় বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন স্থানীয়রা। কিন্তু এখনো মেরামত তো দূরের কথা যেভাবে ভেঙে যায় এভাবে রয়ে যায়। ভারী বৃষ্টি হলে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। পুরো এলাকা ক্ষণিকের মধ্যে প্লাবিত হয়ে যায়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ এখনো মেরামত করা হয়নি। আকাশে মেঘ জমলেই নদীর তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক দেখা যায়। গত দুই বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই এ বছর আবারও বৈরী আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে। গত ১৫ দিনে কয়েকবার কালবৈশাখীর ছোবল দেখা গেছে। সাগরের নিম্নচাপ বা টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখলেই কপালে পড়ছে শঙ্কার ভাঁজ।
মির্জানগর ইউনিয়নে কাশিনগর মহুরি নদীর বেড়িবাঁধ মেরামত না করার কারণে ২৫০ পরিবারের মাঝে বন্যার আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটছে। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কাশীনগর ও চম্পক নগর দুটি স্থানে মহুরি নদীর বেড়িবাঁধে ভাঙন রয়েছে। আবার একই বেড়িবাঁধের পশ্চিমে ৪৫০ ফুট বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২৫০ পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। আবার বৃষ্টি হলে বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ী করিম মিয়া বলেন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এছাড়া ৯০ শতাংশ সড়ক, সেতু, মৎস্য ব্যবসায়ী, কৃষক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় জসিম উদ্দিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ মেরামত করা না হলে গত দুই বছরের মতো ক্ষেত-খামার, পুকুরের মাছ, ক্ষেতের ফসল, রাস্তা, সেতু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মেঘ দেখলে সাধারণ মানুষের মাঝে অনেক আতঙ্ক দেখা দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে বেড়িবাঁধ মেরামত হয় না। প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। চিথলিয়া ইউনিয়নে শালধর গ্রামে বেড়িবাঁধ মেরামত হয়েছে নামমাত্র। তবে ঠিকাদার লাভবান হলেও বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে।
পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক কালবেলাকে বলেন, এটা আমার নজরে ছিল না। কিন্তু ভাঙা অংশ মেরামত করার জন্য পানি উন্নয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। দ্রুত মেরামতের জন্য চেষ্টা করব।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা কালবেলাকে বলেন, বেড়িবাঁধ মেরামত করার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামত করতে যোগাযোগ করব।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, এরই মধ্যে পরশুরাম উপজেলার মুহুরি, কহুয়া, সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধ মেরামত হয়েছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ তালিকা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের মধ্যদিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামত করা হবে।
What's Your Reaction?