মেসিকে কি আটকানো যায়
কৌশলের জাল বুনেও মেসিকে থামানো যায় না। বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ড কিংবা ইংল্যান্ড—প্রতিটি প্রতিপক্ষই জানত, তাকে আটকাতে দরকার আলাদা পরিকল্পনা। মাঠের ছকে ছিল মেসিকে বোতলবন্দি করার নানা কৌশল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিবারই সেই পরিকল্পনার ফাঁক গলে নিজের জাদুর আলো ছড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কখনো ড্রিবলিংয়ে, কখনো নিখুঁত পাসে, আবার কখনো ফরমেশন ভেঙে গোলমুখে চতুর উপস্থিতিতে মেসি প্রতিপক্ষের সাজানো দেয়াল ভেঙেছেন। দুই যুগের কাছাকাছি সময় ধরে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২২ বছর আগেও যে মেসিকে ৯০ মিনিট আটকে রাখা যায়নি, আজও সেই বাস্তবতা বদলায়নি। বয়স বেড়েছে, মঞ্চ বদলেছে, প্রতিপক্ষের কৌশলও পাল্টেছে; কিন্তু চাপের ম্যাচে মোক্ষম মুহূর্তে সেই চেনা মেসির ঝলক এখনও অটুট। কারণ তাকে আটকানোর পরিকল্পনা কাগজে তৈরি করা গেলেও তার ফুটবলীয় বুদ্ধি ও সৃজনশীলতাকে থামানো কঠিন। মেসিকে আটকানোর কৌশল ভাঙার গল্প শুরু হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকেই। স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সেই পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেছেন গল্পে গল্পে। তখন মেসির বয়স মাত্র ১৭ বছর। তিনি ছিলেন বার্সেলোনার বয়সভ
কৌশলের জাল বুনেও মেসিকে থামানো যায় না। বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে কেপ ভার্দে, মিশর, সুইজারল্যান্ড কিংবা ইংল্যান্ড—প্রতিটি প্রতিপক্ষই জানত, তাকে আটকাতে দরকার আলাদা পরিকল্পনা। মাঠের ছকে ছিল মেসিকে বোতলবন্দি করার নানা কৌশল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতিবারই সেই পরিকল্পনার ফাঁক গলে নিজের জাদুর আলো ছড়িয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
কখনো ড্রিবলিংয়ে, কখনো নিখুঁত পাসে, আবার কখনো ফরমেশন ভেঙে গোলমুখে চতুর উপস্থিতিতে মেসি প্রতিপক্ষের সাজানো দেয়াল ভেঙেছেন। দুই যুগের কাছাকাছি সময় ধরে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
২২ বছর আগেও যে মেসিকে ৯০ মিনিট আটকে রাখা যায়নি, আজও সেই বাস্তবতা বদলায়নি। বয়স বেড়েছে, মঞ্চ বদলেছে, প্রতিপক্ষের কৌশলও পাল্টেছে; কিন্তু চাপের ম্যাচে মোক্ষম মুহূর্তে সেই চেনা মেসির ঝলক এখনও অটুট। কারণ তাকে আটকানোর পরিকল্পনা কাগজে তৈরি করা গেলেও তার ফুটবলীয় বুদ্ধি ও সৃজনশীলতাকে থামানো কঠিন। মেসিকে আটকানোর কৌশল ভাঙার গল্প শুরু হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকেই। স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সেই পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেছেন গল্পে গল্পে। তখন মেসির বয়স মাত্র ১৭ বছর। তিনি ছিলেন বার্সেলোনার বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়, আর ফুয়েন্তে ছিলেন সেভিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ।
কোপা দে লের অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচে মেসিকে থামাতে বিশেষ পরিকল্পনা করেছিলেন ফুয়েন্তে। একজন ডিফেন্ডারকে দেওয়া হয়েছিল তাকে পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব। ৭৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। কিন্তু মেসিকে আটকানো সেই ডিফেন্ডার হলুদ কার্ড দেখলে তাকে বদলি করেন ফুয়েন্তে। এর পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। রক্ষণের বাধা সরে যেতেই মেসি নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান। মাত্র ২২ মিনিটে চার গোল করে ভেঙে দেন প্রতিপক্ষের সব পরিকল্পনা।
সেই ঘটনার পর কেটে গেছে ২২ বছর। ১৭ বছরের সেই মেসি এখন ৩৯-এ। গতি ও শারীরিক সক্ষমতায় স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু প্রতিপক্ষের কৌশল ভাঙার ক্ষমতা এখনও অটুট। চলতি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচগুলো তারই প্রমাণ। কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ ৫-৪-১ ফরমেশনে লো-ব্লক রক্ষণে মেসিকে আটকে রাখার চেষ্টা করে। দুই-তিনজন ডিফেন্ডার তাকে ঘিরে রেখেছিল।
কিন্তু মেসি নিজের অবস্থান বদলে ফলস নাইনে খেলতে শুরু করেন। এতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের রক্ষণ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়, তৈরি হয় ফাঁকা জায়গা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ পর্যন্ত গোলও আদায় করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মিশরের বিপক্ষেও একইভাবে কৌশল বদলে সফল হন মেসি। ৪-৫-১ ফরমেশনে মিশর তার পাসিং লেন বন্ধ করে চাপ তৈরি করেছিল।
৭০ মিনিট পর্যন্ত তারা ২-০ গোলে এগিয়েও ছিল। এরপর মেসি উইংয়ে চলে যান এবং উইং-ব্যাকদের আক্রমণে ওঠার সুযোগ তৈরি করেন। মিশরের জমাট মিডফিল্ড ভাঙতে শুরু করেন ভেতরের দিকে ক্রস দিয়ে। তার অসাধারণ এক ক্রস থেকে গোল করেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। পরে ৮৩তম মিনিটে বক্সের ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিজেই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের পরিকল্পনা ছিল আরও কঠিন। ৪-৪-২ ফরমেশনে তারা জোনাল মার্কিংয়ের বদলে ম্যান মার্কিং করে মেসিকে মাঝমাঠেই আটকে রাখতে চেয়েছিল।
বল পেলেই দ্রুত ট্যাকলে চাপ তৈরি করছিল তারা। কিন্তু মেসি সরাসরি ড্রিবলিংয়ের বদলে ওয়ান-টাচ পাসিং ও সেট-পিসকে অস্ত্র বানান। তার কর্নার থেকেই আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে সুইস পরিকল্পনায় ধাক্কা দেন। অতিরিক্ত সময়ে মেসির মুভমেন্টে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে আর্জেন্টিনা জয় পায়। ইংল্যান্ডও মাঝমাঠে ডেকলান রাইস ও জুড বেলিংহামকে ব্যবহার করে মেসির পথ বন্ধ করতে চেয়েছিল।
কিন্তু ইংল্যান্ডের রক্ষণে সামান্য ফাঁক দেখেই মেসি নিজেকে ডান প্রান্তে সরিয়ে নেন। এতে ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল ডিফেন্স ছড়িয়ে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার আক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। মেসি শুধু নিজে আক্রমণ করেননি, সতীর্থদের জন্যও জায়গা তৈরি করেছেন। এবার মেসিকে থামাতে স্পেন কী কৌশল সাজাবে, সেটিই দেখার বিষয়। তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সৃজনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করা। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—মেসিকে কি সত্যিই ৯০ মিনিট আটকে রাখা সম্ভব? নাকি আবারও কৌশলের দেয়াল ভেঙে নিজের গল্প লিখবেন তিনি?
What's Your Reaction?