মেসি-রোনালদোর চেয়ে যেখানে যোজন যোজন পিছিয়ে নেইমার

ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। এই দুই মহাতারকার সঙ্গে প্রায়ই উচ্চারিত হয় ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের নামও। ফুটবল দক্ষতায় তারা তিনজনই অনন্য। তবে মাঠের বাইরের এক বিচারে মেসি-রোনালদের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে নেইমার। আর তা হলো ধন-সম্পদের হিসাব। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এই তিন ফুটবলারের সম্পদের এক বিশাল ব্যবধান ফুটে উঠেছে। বিলিয়নিয়ার ক্লাবে মেসি-রোনালদো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাময়িকী ফোর্বসের তথ্যমতে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি এরই মধ্যে বিলিয়নিয়ার বা শতকোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোর বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২০ কোটি থেকে ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির মোট সম্পদ প্রায় ১১০ কোটি মার্কিন ডলার। আরও পড়ুন মেসি কি এবার রাজনীতিতে নামবেন? পিছিয়ে থাকা নেইমারের সম্পদ কত মেসি ও রোনালদো যখন বিলিয়নিয়ার ক্লাবে রাজত্ব করছেন, নেইমার তখন অনেকটাই পেছনে। সৌদি ক্লাব আল হিলালের অধ্যায় চুকিয়ে ব্রাজিলের সান্তোসে ফেরা নেইমারের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রা

মেসি-রোনালদোর চেয়ে যেখানে যোজন যোজন পিছিয়ে নেইমার

ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। এই দুই মহাতারকার সঙ্গে প্রায়ই উচ্চারিত হয় ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার জুনিয়রের নামও। ফুটবল দক্ষতায় তারা তিনজনই অনন্য। তবে মাঠের বাইরের এক বিচারে মেসি-রোনালদের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে নেইমার। আর তা হলো ধন-সম্পদের হিসাব। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এই তিন ফুটবলারের সম্পদের এক বিশাল ব্যবধান ফুটে উঠেছে।

বিলিয়নিয়ার ক্লাবে মেসি-রোনালদো

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাময়িকী ফোর্বসের তথ্যমতে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি এরই মধ্যে বিলিয়নিয়ার বা শতকোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। পর্তুগিজ সুপারস্টার রোনালদোর বর্তমান মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২০ কোটি থেকে ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির মোট সম্পদ প্রায় ১১০ কোটি মার্কিন ডলার।

পিছিয়ে থাকা নেইমারের সম্পদ কত

মেসি ও রোনালদো যখন বিলিয়নিয়ার ক্লাবে রাজত্ব করছেন, নেইমার তখন অনেকটাই পেছনে। সৌদি ক্লাব আল হিলালের অধ্যায় চুকিয়ে ব্রাজিলের সান্তোসে ফেরা নেইমারের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার। সংখ্যার বিচারে যা মেসি বা রোনালদোর সম্পদের অর্ধেকও নয়।

অর্থাৎ, মাঠের খেলায় নেইমার বিশ্বসেরাদের কাতারেই আছেন, কিন্তু আর্থিক ব্র্যান্ড তৈরিতে তিনি বাকি দুজনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে।

বার্ষিক আয়ে আকাশ-পাতাল ব্যবধান

আয়ের দিক থেকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফোর্বসের (Forbes) ২০২৬ সালের জুন মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালদোর বর্তমান বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা)। এর মাধ্যমে তিনি টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী ক্রীড়াবিদ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।

ronaldo
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো/ ছবি: ফেসবুক@রোনালদো

 

বিপরীতে, লিওনেল মেসির বর্তমান বার্ষিক আয় ১৪ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা)। এই বিপুল আয়ের মাধ্যমে তিনি বর্তমান বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ক্রীড়াবিদ।

সেই তুলনায় নেইমারের বর্তমান বার্ষিক আয় প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা)। ফলে, এবারের বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় তিনি রয়েছেন ১১তম অবস্থানে।

রোনালদোর আয়ের প্রধান মাধ্যম

সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসর থেকে রোনালদো প্রতি বছর প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার বেতন পান, যা ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেতন। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড নাইকির (Nike) সঙ্গে রোনালদোর এক বিলিয়ন ডলারের আজীবন চুক্তি রয়েছে, যা থেকে প্রতি বছর বিশাল অংক আসে।

রোনালদোর নিজস্ব সিআরসেভেন (CR7) ব্র্যান্ডের অধীনে বিলাসবহুল হোটেল চেইন (Pestana CR7), সুগন্ধি, অন্তর্বাস, পোশাক এবং ফুটওয়্যার ব্যবসা রয়েছে। নিজস্ব চেইন জিম ‘CR7 Crunch Fitness’ এবং বিভিন্ন বহুজাতিক প্রযুক্তির স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে তার বড় অংকের শেয়ার ও বিনিয়োগ রয়েছে।

ইনস্টাগ্রামে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকায় প্রতি স্পনসরড পোস্ট থেকে তিনি রেকর্ড পরিমাণ আয় করেন। এছাড়া ক্লিয়ার শ্যাম্পু, হারবালাইফ ও বাইন্যান্সের মতো ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন তার আয়ের বড় উৎস।

messi
লিওনেল মেসি/ ছবি: ফেসবুক@মেসি

মেসির আয়ের প্রধান মাধ্যম

লিওনেল মেসির আয়ের মূল উৎসকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত ইন্টার মায়ামির সঙ্গে করা তার আকর্ষণীয় চুক্তি। এই চুক্তির অধীনে তিনি প্রতি মৌসুমে প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার নিশ্চিত বেতন পান।

এর বাইরে স্পোর্টসওয়্যার জায়ান্ট অ্যাডিডাসের সঙ্গে মেসির আজীবন চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তি থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার আসে। মেসির আরেকটি বড় আয়ের উৎস হলো অ্যাপল টিভির সঙ্গে রাজস্ব অংশীদারত্ব। মেজর লিগ সকার স্ট্রিমিং পাসের সাবস্ক্রিপশন থেকে মেসি নির্দিষ্ট লভ্যাংশ পান।

এছাড়াও পেপসিকো, মাস্টারকার্ড, বুডউইজার ও হার্ড রক ক্যাফের মতো ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে তার লাভজনক চুক্তি রয়েছে। নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ ‘মেসি স্টোর’ এবং রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগও তার সম্পদ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

neymar
নেইমার জুনিয়র/ ছবি: ফেসবুক@নেইমার

নেইমারের আয়ের প্রধান মাধ্যম

ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারের আয়ের মাধ্যমগুলোও বেশ বৈচিত্র্যময়। বর্তমানে তার আয়ের সবচেয়ে বড় জায়গা হলো স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড পুমার সঙ্গে চুক্তি। নাইকির সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ভেঙে তিনি পুমার সঙ্গে বার্ষিক প্রায় তিন কোটি ডলারের রেকর্ড চুক্তি করেছেন।

বিজ্ঞাপন জগতে নেইমারের জনপ্রিয়তা এখনো অনেক বেশি। তিনি এনার্জি ড্রিংক জায়ান্ট রেডবুল, বেটিং প্ল্যাটফর্ম ব্লেজ এবং ফ্ল্যাটার এন্টারটেইনমেন্টের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন।

এছাড়াও কাতার এয়ারওয়েজ ও বিটস বাই ড্রের বিজ্ঞাপন থেকে তার ভালো আয় হয়। নেইমারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘এনআর স্পোর্টস’ তার ইমেজ রাইটস এবং বিপণন চুক্তিগুলো পরিচালনা করে। ব্রাজিলের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট ও মায়ামিতে তার আবাসন বিনিয়োগও আয়ের অন্যতম উৎস।

যে কারণে পিছিয়ে পড়লেন নেইমার

মেসি ও রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ার ও ধারাবাহিকতা তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে ব্র্যান্ডেড করেছে। কিন্তু নেইমারের ক্ষেত্রে বারবার চোট এবং ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল ছেড়ে আগেভাগে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো বড় প্রভাব ফেলেছে। যদিও সৌদি আরবে তিনি বড় অংকের বেতন পেয়েছিলেন, কিন্তু বিশ্বব্যাপী তার সামগ্রিক বাণিজ্যিক আকর্ষণ মেসি-রোনালদোর মতো টেকসই হয়নি। যার ফলে মাঠ ও মাঠের বাইরে নেইমার এখন বাকি দুই মহাতারকা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন।

সূত্র: ফোর্বস, সেলিব্রেটি নেট ওর্থ, ইএসপিএন
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow