মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা

১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ছুটির ঘণ্টা’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও হৃদয়বিদারক শিশুতোষ চলচ্চিত্র। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাতে স্কুলের বাথরুমে আটকে পড়া ১২ বছর বয়সী একটি শিশুর ১১ দিনের করুণ মৃত্যুর গল্প তুলে ধরা হয়েছে।  সাড়া জাগানো বাংলা সিনেমাটির গল্পে এক শিশুর হৃদয়বিদারক পরিণতি কাঁদিয়েছে অনেককেই। মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল তেমনই এক হৃদয়বিদারক গল্প। তবে ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোনো বেদনার কারণ হয়নি। বাথরুমে আটকা তৃতীয় শ্রেণির শিশুটিকে কয়েক ঘণ্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। জানা গেছে, বিকেল ৪টায় স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। তখন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া বাথরুমে আটকে পড়ে। পরে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই চিৎকার পথচারীরা শুনতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। এদিকে শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলাম খোঁজ নিতে স্কুলে আসেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দ

মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমা

১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ছুটির ঘণ্টা’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও হৃদয়বিদারক শিশুতোষ চলচ্চিত্র। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাতে স্কুলের বাথরুমে আটকে পড়া ১২ বছর বয়সী একটি শিশুর ১১ দিনের করুণ মৃত্যুর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। 

সাড়া জাগানো বাংলা সিনেমাটির গল্পে এক শিশুর হৃদয়বিদারক পরিণতি কাঁদিয়েছে অনেককেই। মেহেরপুরে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছিল তেমনই এক হৃদয়বিদারক গল্প। তবে ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত কোনো বেদনার কারণ হয়নি। বাথরুমে আটকা তৃতীয় শ্রেণির শিশুটিকে কয়েক ঘণ্টা পর পরিবার ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে ঘটনাটি ঘটে মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

জানা গেছে, বিকেল ৪টায় স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। তখন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া বাথরুমে আটকে পড়ে। পরে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই চিৎকার পথচারীরা শুনতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। এদিকে শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলাম খোঁজ নিতে স্কুলে আসেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। ওই শিক্ষিকার উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, মেহেরপুর শহরের বিএম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া (৮) স্কুল ছুটির পর বাথরুমে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রাণসংকটে পড়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা স্কুল ভবন ও মূল ফটকে তালা দিয়ে চলে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে স্কুল ছুটি হলে শিক্ষকরা যথারীতি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ওই সময় বাথরুমে থাকা সাদিয়া তালাবদ্ধ অবস্থায় ভেতরেই আটকা পড়ে যায়। সময় গড়াতে থাকলে শিশুটি ভয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করে। তার সেই চিৎকার পথচারীরা শুনতে পেয়ে এগিয়ে আসেন। এদিকে শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলাম খোঁজ নিতে স্কুলে আসেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের মূল ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের কলাপসিবল  দরজা ভেঙে শিশুটিকে বের করা সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয়রা এক পর্যায়ে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে ডেকে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর শিক্ষিকা লিনা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে অবশেষে সাদিয়াকে উদ্ধার করা হয়। 

ঘটনাটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি জানতে চাইলে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরো কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী মোবাইল নম্বরটিতে কল দিলেও, কোনো কল রিসিভ হয়নি। এতে করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাত প্রায় বারোটার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মেহেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য নেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, এটাই স্বস্তির বিষয়। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow