মেয়েকে নিয়ে স্বস্তিকার আবেগী পোস্ট

ভারতের আলোচিত অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই সময়ই খবরের শিরোনাম হয়ে থাকেন এই সুন্দরী। তবে এবার অভিনেত্রী খবরের শিরোনাম হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একমাত্র মেয়ে অন্বেষাকে নিয়ে লেখা একটি পোস্টের কারণে।  সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ইনস্টাগ্রামে বিমানবন্দরে অবস্থানরত একটি ছবি প্রকাশ করে  দীর্ঘ আবেগী পোস্ট শেয়ার করেছেন এই সুন্দরী।  প্রকাশিত সেই পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘মা অপেক্ষা করে। ব্যাগপত্তর সব চেক-ইন করে, ইমিগ্রেশন আর সিকিউরিটি চেকে চলে যাওয়ার আগে ওই যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য আবার দেখতে পাব, ছোট্ট একটা হাত নেড়ে টাটা করবে, ইশারায় বলবে মাম্মা ফোন করছি, তার অপেক্ষা। সব সুষ্ঠুভাবে হয়ে গেছে, তা জানার অপেক্ষা। অনেক বড় হয়ে গেছে, সারা দুনিয়া এদিকওদিক ঘুরে বেড়ায়, এক ছোট শহর বদলে অন্য বড় শহরে পাড়ি দিয়েছে একা-ই, তাও বাবা-মায়ের কাছে সন্তান চিরকাল ছোটটাই রয়ে যায়।‘ আবার কবে মেয়ে বাড়ি আসবে, সেই অপেক্ষায় নিদারুণ কষ্ট লুকিয়ে আছে। তা উল্লেখ করে স্বস্তিকা মুখার্জি লিখেছেন, 'মেয়ে বাড়ি আসবে তার অপেক্ষার চেয়ে, মেয়ে আবার কবে বাড

মেয়েকে নিয়ে স্বস্তিকার আবেগী পোস্ট

ভারতের আলোচিত অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রায়ই সময়ই খবরের শিরোনাম হয়ে থাকেন এই সুন্দরী। তবে এবার অভিনেত্রী খবরের শিরোনাম হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের একমাত্র মেয়ে অন্বেষাকে নিয়ে লেখা একটি পোস্টের কারণে। 

সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ইনস্টাগ্রামে বিমানবন্দরে অবস্থানরত একটি ছবি প্রকাশ করে  দীর্ঘ আবেগী পোস্ট শেয়ার করেছেন এই সুন্দরী। 

প্রকাশিত সেই পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘মা অপেক্ষা করে। ব্যাগপত্তর সব চেক-ইন করে, ইমিগ্রেশন আর সিকিউরিটি চেকে চলে যাওয়ার আগে ওই যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য আবার দেখতে পাব, ছোট্ট একটা হাত নেড়ে টাটা করবে, ইশারায় বলবে মাম্মা ফোন করছি, তার অপেক্ষা। সব সুষ্ঠুভাবে হয়ে গেছে, তা জানার অপেক্ষা। অনেক বড় হয়ে গেছে, সারা দুনিয়া এদিকওদিক ঘুরে বেড়ায়, এক ছোট শহর বদলে অন্য বড় শহরে পাড়ি দিয়েছে একা-ই, তাও বাবা-মায়ের কাছে সন্তান চিরকাল ছোটটাই রয়ে যায়।‘

আবার কবে মেয়ে বাড়ি আসবে, সেই অপেক্ষায় নিদারুণ কষ্ট লুকিয়ে আছে। তা উল্লেখ করে স্বস্তিকা মুখার্জি লিখেছেন, 'মেয়ে বাড়ি আসবে তার অপেক্ষার চেয়ে, মেয়ে আবার কবে বাড়ি আসবে তার অপেক্ষায় যে নিদারুণ কষ্ট লুকিয়ে আছে, তা যে মা সেই বোঝে। আমার বাড়ি ফিরতে দেরি হলে সব মায়েদের মতন আমার মাও বলত—নিজে মা হও তখন বুঝবে মায়েদের কত জ্বালা, মেয়ে বড় হোক তখন আরও বুঝবে। শুনে পাত্তা না দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছি।”   

স্বস্তিকা আরও লিখেছেন, ‘এখন প্লেন উড়ে না যাওয়া অব্দি দাঁড়িয়ে থাকি। উঠে গেছিস তো? বসে গেছিস তো?

হ্যান্ডব্যাগগুলো সব গুনে রাখ কিন্তু। আবার ফ্লাইট চেঞ্জ আছে, সব মনে করে নামিয়ে নিস। খেয়েনিস, সিনেমা দেখিস, ঘুমিয়ে নিস। ট্রানজিটে নেমে মেসেজ করিস, ল্যান্ড করে মেসেজ করিস, আবার প্লেন ছাড়ার আগে খবর দিস। কলকাতায় বসে এত খবর নিয়ে কি বা করার আছে? তাও বাপ-মা জিজ্ঞেস করে। এই কাজটাই সবচেয়ে বড় কাজ। এই একটা কাজ মন দিয়ে করতে পারলে বাকি কাজে একটু কম মন দিলেও চলে যাবে।‘

সন্তানের প্রতি মায়া ও মমতা নিয়ে স্বস্তিকা মুখার্জি বলেন, ‘মানি সোনা মা আমার। আবার শিগগির দেখা হবে। তুই না থাকলে সময় কাটতেই চায় না, তুই এলেই হুশ করে পলকের নিমেষেই সব দিন শেষ। সন্তানেরা ভালো থাক। দূরে থাক কিন্তু ভালো থাক। তাতেই আমাদের ভালো থাকা। মা-বাবা যতদিন আছে, জিজ্ঞেস করার লোক আছে, তাদের গল্প ফুরোলো নটে গাছটি মুড়োলোর মতন যত্নও মুড়িয়ে যায়।‘

এদিকে ব্যক্তিগত জীবনের সেই কঠিন অধ্যায় পেরিয়েই আজকের দৃঢ়চেতা মানুষ স্বস্তিকা মুখার্জি। ১৯৯৮ সালে প্রমিত সেন-কে ভালোবেসে সংসার শুরু করলেও, সময়ের সাথে ভেঙে যায় সেই সম্পর্কের বাঁধন। কোলে ছোট্ট শিশু অন্বেষাকে নিয়ে একাই জীবনযুদ্ধ শুরু করেন তিনি।

সব প্রতিকূলতাকে জয় করে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে মেয়েকে বড় করেছেন স্বস্তিকা—শুধু মা নন, হয়েছেন সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আজ সেই অন্বেষাই নিজের ডানায় ভর করে দূর দেশে পাড়ি জমালেও, তাদের বন্ধনের গভীরতা অটুট। জীবনের প্রতিটি উত্থান-পতনের সাক্ষী এই মা-মেয়ের সম্পর্ক যেন প্রমাণ করে,ভালোবাসা থাকলে দূরত্ব কোনো বাধা নয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow