মোজার মধ্যে লোশন দিয়ে ঘুমানো কি সত্যি উপকারী

শীত এলেই হাত-পায়ের শুষ্কতা বাড়ে। অনেকের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়, ত্বক খসখসে হয়ে ওঠে। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে ইদানিং সামাজিক মাধ্যমে এক ধরনের মোজার বিজ্ঞাপন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে লোশন বা ময়েশ্চারাইজার মেখে মোজা পরে নিলে পায়ের ত্বকের শুষ্কতা ও ফাঁটা গোড়ালিতে উপকার মিলবে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। তবে প্রশ্ন হলো — মোজার মধ্যে লোশন দিয়ে ঘুমানো কি সত্যি উপকারী, নাকি শুধু ঘরোয়া বিশ্বাস? এটি কীভাবে কাজ করে? বিশেষজ্ঞদের মতে, মোজার মধ্যে লোশন দিয়ে ঘুমানো বেশ উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের জন্য। লোশন বা ক্রিম ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়। কিন্তু খোলা পায়ে থাকলে সেই আর্দ্রতা সহজেই বাতাসে উড়ে যায়, বা বিছানায় মুছ যেতে পারে। মোজা পরলে একটি ‘অক্লুসিভ ব্যারিয়ার’ তৈরি হয়, যা ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা আটকে রাখতে সাহায্য করে। ফলে সারা রাত ধরে লোশন কাজ করার সুযোগ পায়। আরেকটি সুবিধা হলো — রাতে আমাদের ত্বকের রিপেয়ার প্রক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময় পায়ে লোশন দিয়ে মোজা পরলে মৃত ত্বক নরম হয়, ফাটা গোড়ালি ধীরে ধীরে মেরামত হতে শুরু করে। নিয়মিত করলে পা অনেকটাই নরম ও মসৃণ হয়ে ওঠে। তবে সব ধরনের ল

মোজার মধ্যে লোশন দিয়ে ঘুমানো কি সত্যি উপকারী

শীত এলেই হাত-পায়ের শুষ্কতা বাড়ে। অনেকের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়, ত্বক খসখসে হয়ে ওঠে। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে ইদানিং সামাজিক মাধ্যমে এক ধরনের মোজার বিজ্ঞাপন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে লোশন বা ময়েশ্চারাইজার মেখে মোজা পরে নিলে পায়ের ত্বকের শুষ্কতা ও ফাঁটা গোড়ালিতে উপকার মিলবে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। তবে প্রশ্ন হলো — মোজার মধ্যে লোশন দিয়ে ঘুমানো কি সত্যি উপকারী, নাকি শুধু ঘরোয়া বিশ্বাস?

এটি কীভাবে কাজ করে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোজার মধ্যে লোশন দিয়ে ঘুমানো বেশ উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের জন্য। লোশন বা ক্রিম ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়। কিন্তু খোলা পায়ে থাকলে সেই আর্দ্রতা সহজেই বাতাসে উড়ে যায়, বা বিছানায় মুছ যেতে পারে। মোজা পরলে একটি ‘অক্লুসিভ ব্যারিয়ার’ তৈরি হয়, যা ত্বকের ভেতরে আর্দ্রতা আটকে রাখতে সাহায্য করে। ফলে সারা রাত ধরে লোশন কাজ করার সুযোগ পায়।

মোজার মধ্যে লোশন দিয়ে ঘুমানো কি সত্যি উপকারী

আরেকটি সুবিধা হলো — রাতে আমাদের ত্বকের রিপেয়ার প্রক্রিয়া বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময় পায়ে লোশন দিয়ে মোজা পরলে মৃত ত্বক নরম হয়, ফাটা গোড়ালি ধীরে ধীরে মেরামত হতে শুরু করে। নিয়মিত করলে পা অনেকটাই নরম ও মসৃণ হয়ে ওঠে।

তবে সব ধরনের লোশন এক্ষেত্রে সমান কার্যকর নয়। খুব হালকা লোশন দ্রুত মিশে গেলে বা সাধারণ মোজার গায়ে শোষণ হয়ে গেলে তেমন উপকার নাও মিলতে পারে। একারণেই ভেতরে সিলিকনের আবরণের কার্যকারিতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ঘন ক্রিম, ইউরিয়া, গ্লিসারিন বা শিয়া বাটারযুক্ত ময়েশ্চারাইজার বেশি কার্যকর। চাইলে পেট্রোলিয়াম জেলির পাতলা স্তরও ব্যবহার করা যায়।

সব সমাধান সবার জন্য নয়

এ ধরণের উপায় অবলম্বন করার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকাও জরুরি। পা পরিষ্কার না করে লোশন মেখে মোজা পরলে উল্টো সমস্যা হতে পারে। ভেজা বা ঘামাচ্ছন্ন পায়ে মোজা পরলে ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ঘুমানোর আগে পা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। তাই এমন সমস্যা এড়াতে কটন মোজা ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।

যাদের পায়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, চুলকানি বা ঘা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা ঠিক নয়। কারণ আর্দ্র পরিবেশে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শুষ্ক ও ফাটা পায়ের যত্নে মোজার মধ্যে লোশন দিয়ে ঘুমানো একটি সহজ ও কার্যকর অভ্যাস। শুধু সঠিক লোশন, পরিষ্কার পা আর উপযুক্ত মোজা — এই তিনটি বিষয় মাথায় রাখলেই উপকার পাবেন।

সূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি, মায়ো ক্লিনিক, ওয়েবএমডি, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং

এএমপি/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow